ব্রাইটের আই-লিগে চোখ থাকলেও ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলাই টার্গেট সানডের। তিনি বললেন, “আমারা সুপার লিগে খেলে ইতিহাস লিখতে চাই।”

আফোলাবি ও ব্রাইট
শেষ আপডেট: 29 August 2025 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবির্ভাবের পাঁচ বছরের মধ্যেই ভারতীয় ফুটবল মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। সদ্য তারা ডুরান্ড কাপে রানার্স হয়েছে। গত মরশুমে আই লিগ টু জিতে এবার তারা খেলবে আই লিগের মূল পর্বে। দলের প্রধান কোচ কিবু ভিকুনা। এই স্প্যানিশ কোচ এর আগে আইএসএলের ক্লাবেও কোচিং করিয়েছেন। পাশাপশি কিবুর অধীনেই আই লিগ জিতেছিল মোহনবাগান।
আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে দল গোছানো মোটামুট্টি শেষ ডিএইচ এফসির। এবার দলে রয়েছেন মায়সেন ও ক্লেইটনের মতো বিদেশি। পাশাপাশি জবি জাস্টিনের মতো ভারতীয় ফুটবলের বেশ কিছু তারকা এই দলে রয়েছেন। এবার দলে যোগ দিলেন আরও দুই বিদেশি ব্রাইট এনোবাখারে ও সানডে আফোলাবি (Bright Enobakhare, Sunday Afolabi)।
ব্রাইট চার বছর পর ফিরলেন ভারতীয় ফুটবলে। ২০২১ সালে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে তাঁর ভারতীয় ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল। ১২ ম্যাচে ৩ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করা ব্রাইটের সঙ্গে লাল-হলুদের পথচলা দীর্ঘায়িত হয়নি। তবে তাঁর ছোট্ট আইএসএল অধ্যায় মন কেড়েছিল বহু লাল-হলুদ সমর্থকের। ভারত ছাড়ার পর ব্রাইট গত চার বছরে ইংল্যান্ড (কভেন্ট্রি সিটি) ইজরায়েল (হাপোয়েল জেরুজালেম), রুখ লিভ (ইউক্রেন) ও আল বিদ্দার (কাতার) ক্লাবে খেলেছেন। এবার তিনি ফের কলকাতার ক্লাবে।
কলকাতায় ফিরতে পেরে নিজের আনন্দ চেপে রাখতে পারেননি ব্রাইট। নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, “ডায়মন্ড হারবার এফসির উন্নতি এবং তাদের আগামীর পরিকল্পনার টানেই এলাম এই ক্লাবে। ইস্টবেঙ্গলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তবে সত্যি বলতে এখন আর অতীত নিয়ে আমি আর ভাবতে চাই না। বর্তমানেই ফোকাস। আমার নতুন ঘর ডায়মন্ড হারবার এফসি। তাদের হয়েই সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করতে চাই।”
ব্রাইট আপাতত আই-লিগ জিততে চান। তিনি বলেন, “আইএসএল খেলেছি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে, এবার আই-লিগ খেলব। অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে এক নম্বরে শেষ করে বোঝানো, কেন আমরা দাবিদার। যদিও এই লিগ নিয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। তবে আমি ধাপে ধাপে ভাবতে চাই।”
ভিসার কারণে আসতে অনকেটা দেরি হওয়ায় রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ব্রাইট-সানডে। ডায়মন্ড কোচ কিবু ডুরান্ড ফাইনালের পর বলেছিলেন এই দুই ফুটবলারকে পেলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সানডে কলকাতায় পা রাখার পর বলেছেন, “কলকাতায় আসতে দেরি হওয়ায় আমরা দু'জনেই খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। চেয়েছিলাম যত দ্রুত সম্ভব এখানে আসতে। ডুরান্ড কাপে যোগ দিতে চেয়েছিলাম দলের সঙ্গে। তবে এতে আমাদের কোনও দোষ নেই। সবটাই দূতাবাসের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাদের তো আর কিছু করার নেই।”
ব্রাইট ও সানডের সঙ্গে ইতমধ্যেই কথা হয়েছে চাণক্য কিবু ভিকুনা ও সতীর্থদের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকের আগে তাঁরা ক্লাবের অনুশীলনেও চোখ রেখেছিলেন। সানডে জানালেন, নতুন সতীর্থদের মধ্যে একজন কিন্তু তাঁর প্রাক্তন সতীর্থও। ব্রাজিলিয়ান ক্লেটনের সঙ্গে গত মরসুমে তিনি একসঙ্গে খেলেছেন। মালয়েশিয়ান সুপার লিগে তিনি আর ক্লেটন পেরাক এফসি-র হয়ে খেলেছেন। ব্রাইটের আই-লিগে চোখ থাকলেও ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলাই টার্গেট সানডের। তিনি বললেন, “আমারা সুপার লিগে খেলে ইতিহাস লিখতে চাই।” বুঝিয়ে দিলেন যে আই-লিগ জিতেই যেতে চান পরের ধাপে। এখন দেখার এই দুই তারকার আগমনে হীরক দ্যুতি আরও উজ্জ্বল হয় কি না।