Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
স্যালাড খেলেই সুস্বাস্থ্য নয়! ভুলেও কাঁচা খাবেন না এই ৩ সবজি, কারণ জানুনইরানকে কি অস্ত্র দিচ্ছে চিন? শি জিনপিংয়ের চিঠির পর জল্পনা ওড়ালেন ট্রাম্প'দেশু ৭'-এ অনির্বাণ, এবার ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’য় কোন নায়কের এন্ট্রিতে চমক?এখনই সুরাহা নেই! রান্নার গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর, দুশ্চিন্তা বাড়বে ভারতের আমজনতার?লোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?নববর্ষে কলকাতা সফরে আইওসি-র শীর্ষ কর্তা, এলপিজির বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হাজির গ্যাসের দোকানেও৮ হাজার লিটার গঙ্গাজল, গরু আর রুপোর কলসী! ফিরে দেখা জয়পুরের মহারাজার আজব লন্ডন-সফরগুয়ার্দিওলা-পরবর্তী ফুটবলের নমুনা মেলে ধরেছে কোম্পানি আমলের বায়ার্ন! আজ সামনে রিয়ালআশা ভোঁসলের শেষযাত্রায় যাননি শাহরুখ-সলমন! বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সামনে এল আসল কারণভোটের মুখে হুগলিতে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি! ক্ষুব্ধ স্মৃতি ইরানি মাঝপথেই ছাড়লেন শোভাযাত্রা

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে ফের শাস্তির মুখে ভারতীয় ফুটবল! এআইএফএফ-কে ‘আলটিমেটাম’ দিল ফিফা

চিঠিতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে ফিফা জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার জেরে দেশীয় ফুটবলের ক্যালেন্ডার অনিশ্চিত। ডিসেম্বর ২০২৫-এর পর বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো ঝুলে রয়েছে। প্রতিযোগিতা, মার্কেটিং, খেলোয়াড় উন্নয়ন—সমস্ত দিকেই স্থবিরতা।

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে ফের শাস্তির মুখে ভারতীয় ফুটবল! এআইএফএফ-কে ‘আলটিমেটাম’ দিল ফিফা

ছবি: সংগৃহীত

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 27 August 2025 11:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) আবারও বিপাকে। ফের শাস্তির হুমকি দিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)। অভিযোগ, ফেডারেশনের কাজে ‘তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ’ বাড়ছে। যদি চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে নতুন সংবিধান কার্যকর না হয়, তবে স্থগিতাদেশের মুখে পড়তে হবে। কোনও রকম রাখঢাক না করে সরাসরি এ কথা জানিয়ে দিয়েছে ফিফা।

মঙ্গলবার এআইএফএফ-কে পাঠানো কড়া চিঠিতে ফিফা ছত্রে ছত্রে মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘কোনও সরকারি সংস্থা বা বাইরের প্রভাব ছাড়া স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে হবে ফেডারেশনকে। সংবিধান অবশ্যই ফিফা ও এএফসি-র (Asian Football Confederation) নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।’ ঠিক দুই দিন বাদে, ২৮ অগস্ট, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। ফিফার নির্দেশ, তার আগেই চূড়ান্ত রায় নিশ্চিত করতে হবে এআইএফএফ-কে, যাতে নতুন সংবিধান আদালতের অনুমোদন পায়।

‘তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ’ মানে কী?

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ (Third-Party Interference) বলতে বোঝায়—কোনও সদস্য ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা দৈনন্দিন কার্যকলাপে বাইরের সংস্থা অথবা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ। যেমন, আদালত বা সরকার যদি ফেডারেশনের নির্বাচনে ছড়ি ঘোরায়, কর্মকর্তাদের নিয়োগে প্রভাব ফেলে বা সংবিধানে জোর করে পরিবর্তন আনে, তবে সেটা ফিফা-র চোখে গুরুতর অপরাধ। সংস্থার সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, সদস্য ফেডারেশনকে অবশ্যই স্বশাসিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই বাইরের চাপ বা নির্দেশে চলা যাবে না। অন্যথা হলে স্থগিতাদেশ জারি হতে পারে। এমনকি ফেডারেশন সরাসরি দায়ী না হলেও, শুধু বাইরের হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেলেই শাস্তি অনিবার্য।

সংকটে আইএসএল, ভোগান্তি খেলোয়াড়দের

চিঠিতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে ফিফা জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার জেরে দেশীয় ফুটবলের ক্যালেন্ডার অনিশ্চিত। ডিসেম্বর ২০২৫-এর পর বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো ঝুলে রয়েছে। প্রতিযোগিতা, মার্কেটিং, খেলোয়াড় উন্নয়ন—সমস্ত দিকেই স্থবিরতা। তাই ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার বিশ্লেষণ, ‘আর্থিক স্থিতি ভেঙে পড়েছে, বিশেষ করে আইএসএলে (Indian Super League) খেলা ফুটবলারদের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে।’ প্রসঙ্গত, এআইএফএফ ও এফএসডিএল (Football Sports Development Limited)-এর দ্বন্দ্বেই আইএসএল-এর সূচি ঘোষণা পিছিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই মামলায় দু’পক্ষকেই হাজিরা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে।

শাস্তির ইঙ্গিত কতটা গুরুতর? 

ফিফা তাদের স্ট্যাটিউটের ধারাগুলি টেনে সতর্ক করে বলেছে, ‘এই নির্দেশ না মানলে ফিফা ও এএফসি-র নীতিমালায় প্রদত্ত শাস্তি কার্যকর হবে, যার মধ্যে স্থগিতাদেশও রয়েছে। এমনকি কোনও সদস্য ফেডারেশন সরাসরি দোষী না হলেও, তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থাকলেই সাজা পেতে হতে পারে।’

স্থগিতাদেশ জারি হলে কী হবে? ফিফা-র ভাষায়, সেক্ষেত্রে ‘এআইএফএফ ফিফা ও এএফসি সদস্য হিসেবে সমস্ত অধিকার হারাবে।’

প্রসঙ্গত, চিঠিতে আরও উল্লেখ, খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো (FIFPRO) অভিযোগ জানিয়েছে—অচলাবস্থার কারণে আর্থিক অনিশ্চয়তায় বহু ক্লাব একতরফাভাবে খেলোয়াড়দের চুক্তি বাতিল করছে। এতে ফুটবলারদের জীবিকা ও কেরিয়ার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।

ভারতের সামনে ঝুঁকি

এই অশনিসংকেত ভারতীয় ফুটবলে নতুন নয়। ২০২২ সালেও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ নিয়ে একবার স্থগিতাদেশ জারি করেছিল ফিফা। কয়েক সপ্তাহ বাদে সমাধান হওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ফের যদি একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ভারতীয় ফুটবল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নামার অধিকার হারাবে। ঝুলে যাবে বিশ্বকাপ বাছাই থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক চুক্তি পর্যন্ত সবকিছুই।

অর্থাৎ, এআইএফএফ-এর সামনে এই মুহূর্তে একটাই পথ—কোনওরকম প্রভাবমুক্ত থেকে ৩০ অগস্টের মধ্যে সংবিধান কার্যকর করা। তা না হলে ভারতীয় ফুটবল ফের লজ্জার মুখে পড়বে।


```