চার ঘণ্টার উপর মহাকাব্যিক লড়াইয়ের নির্যাস কিংবা সিনারের বিষাক্ত ছোবলের প্রত্যাঘাত করে ব্রেক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার রস ও রহস্য (epic tennis battle)।

ফাইনালে জোকোভিচ
শেষ আপডেট: 30 January 2026 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বাস হচ্ছিল না জোকোভিচের। বিলকুল না। ম্যাচ পয়েন্ট মুঠোয় আসার পর রেফারির রোবোটিক গলা যখন ঘোষণা করল, লড়াই জিতে নিয়েছেন তিনি (Djokovic vs Sinner) (ফল: ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪) হাসিল করেছেন ফাইনালের ছাড়পত্র (Djokovic in final), তখন ঊহ্য রয়ে গিয়েছিল অনেক কিছু। অনুক্ত রয়ে গিয়েছিল: আর মাত্র একটা লড়াই, আর সেটা জিতে নিতে পারলেই ইতিহাসের খাতায় চিরস্থায়ী নাম লিখে ফেলতে পারবেন তিনি। অশ্রুত রয়ে গিয়েছিল: বয়স, ফিটনেস আর শারীরিক ভাঙচুরকে এক অর্থে দুরমুশ করে তরুণ, হট ফেভারিট তারকাকে কোর্টের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত টানা ছুটিয়ে বেড়ানোর বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্র্যাটেজি। নেপথ্য থেকে ফিসফিস করে হলেও শোনা যায়নি: সবাই যখন নস্যাৎ করে দিয়েছে, আর সেই স্পার্ক নেই বলে বিলাপগীতি গাওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে টেনিস দুনিয়ায়, তখনই জ্বলে ওঠেন জোকার! একবার নয়, বারবার!
আর কেউ শুনুক না শুনুক, উৎকেন্দ্রিক সার্বিয়ান ঠিক শুনেছিলেন। হয়তো তাই যুদ্ধশেষে রড লেভার এরিনার ঘন নীল টার্ফে বসে পড়লেন হাঁটু মুড়ে। তারপর ধীরপায়ে সাইডলাইনে গিয়ে দু’হাত ভাঁজ করে মুখ ঢেকে আত্মস্থ করতে চাইলেন সবকিছু! চার ঘণ্টার উপর মহাকাব্যিক লড়াইয়ের নির্যাস কিংবা সিনারের বিষাক্ত ছোবলের প্রত্যাঘাত করে ব্রেক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার রস ও রহস্য (epic tennis battle)।
বয়সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, অভিজ্ঞতার জয়
এই ম্যাচটা কেবল স্কোরলাইনের নয়। ছিল সময়ের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধ। ৩৮ বছরের নোভাক জোকোভিচ (Novak Djokovic) বনাম প্রাইমে থাকা ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner)। প্রথম সেট হারার পর অনেকেই ভেবেছিলেন—এখানেই গল্প শেষ। কিন্তু জোকার বরাবরের মতোই একটু দেরিতে ম্যাচের ভেতরে ঢুকে পড়লেন। র্যালি লম্বা করলেন। টেম্পো ভাঙলেন। সিনারের আগ্রাসনের মুখে দাঁড় করালেন ধৈর্যের ঢাল। পাঁচ সেটে গড়ানো এই লড়াইয়ে শরীর যতটা কথা বলছিল, মাথা বলছিল তার চেয়েও বেশি। প্রতিটা ব্রেক পয়েন্টে বোঝা যাচ্ছিল—এই অভিজ্ঞতা কেবল টেকনিকের নয়, মানসিক জেদের পরীক্ষাও বটে!
পঞ্চম সেটের স্নায়ুযুদ্ধ
৫–৪ এ সার্ভ করতে নেমে চাপটা ছিল স্পষ্ট। ডিউস। আবার ডিউস। গ্যালারির নিঃশ্বাস আটকে। কয়েক ঘণ্টা আগেই আরেক সেমিফাইনালে জেরেভের ম্যাচ ক্লোজ করতে না পারার স্মৃতি তখনও তাজা। কিন্তু জোকোভিচ জানেন, এই জায়গাটা তাঁর। এই মঞ্চ চিরচেনা। এই পরিস্থিতি স্নায়ুতে সেঁধিয়ে গেছে। সামলেছেন ফেডেরারকে। টক্কর দিয়েছেন নাদালের। সিনার প্রতিশ্রুতিমান হতে পারে। কিন্তু পূর্বজদের মতো কিংবদন্তি নয়। তাই তৃতীয় ম্যাচ পয়েন্টে সিনারের ফোরহ্যান্ড বাইরে যেতেই হাত তুললেন—শুধু উল্লাসে নয়, খানিক অবিশ্বাসেও! কারণ, এটা ছিল শুধু একটা ম্যাচ জিতে নেওয়া নয়। মেলবোর্নে সিনারের টানা ১৯ ম্যাচের জয়যাত্রার ইতিও টেনেছেন তিনি। একই সঙ্গে গত কয়েক সাক্ষাতে বারবার হারের মানসিক বোঝাও ফেলেছেন ঝেড়ে!
সামনে ইতিহাস, নতুন চ্যালেঞ্জ
ফাইনালে অপেক্ষমান কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz)। তরুণ স্প্যানিয়ার্ড ইতিহাস গড়তে মরিয়া—কেরিয়ার স্ল্যাম পূর্ণ করার স্বপ্নে অধীর! আর জোকোভিচের সামনে আরও বড় হাতছানি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনএ (Australian Open) ১১তম ফাইনাল। সম্ভাব্য ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম। এক অধরা, অস্পর্শ্য নজির!