ম্যাচের শুরুতেই লিভারপুলের ঝলক। চতুর্থ মিনিটে হুগো একিতিকে’র নিখুঁত শট পেরিয়ে গেল ডিন হেন্ডারসনকে। মনে হচ্ছিল, নতুন মরশুমেও প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য।

ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 11 August 2025 09:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়েম্বলির আলো ঝলমলে সন্ধ্যা। একপাশে ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সাজানো লিভারপুলের নতুন সাজ। অন্যপাশে এফএ কাপজয়ী ক্রিস্টাল প্যালেস-প্রথমবার কমিউনিটি শিল্ডে নামা। ফল? নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ আর শেষে নয়া ইতিহাস। পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবার এই ট্রফি ঘরে তুলল দক্ষিণ লন্ডনের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুতেই লিভারপুলের ঝলক। চতুর্থ মিনিটে হুগো একিতিকে’র নিখুঁত শট পেরিয়ে গেল ডিন হেন্ডারসনকে। মনে হচ্ছিল, নতুন মরশুমেও প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য। ২১ মিনিটে জেরেমি ফ্রিমপংয়ের ক্রস হেন্ডারসনের মাথার ওপর দিয়ে জালে—২-১ লিড তখন লিভারপুলের। এর মাঝেই ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা।
তবে লিভারপুলের নতুন রক্ষণভাগের দুর্বলতা দিনের আলোয় স্পষ্ট। ফ্রিমপং ও কেরকেজ আক্রমণে উজ্জ্বল হলেও সাইডে ফাঁক তৈরি হচ্ছিল বারবার। সেই সুযোগেই ৭৭ মিনিটে এডাম হোয়ার্টনের পাস ধরে ইসমায়লা সার পোস্ট ঘেঁষা শটে সমতা ফেরান—২-২।
টাইম শেষ হওয়ার আগেও দু’দলই জয়ের সুযোগ পেয়েছে। সারের শট কেরকেজ ডিফ্লেক্ট করে কর্নারে পাঠালেন, অন্যদিকে সালাহর শট সোজা হেন্ডারসনের হাতে। নির্ধারিত সময় শেষে গড়াল পেনাল্টি শুটআউট। এখানেই কাহিনি বদল। লিভারপুলের সালাহ, ম্যাক অ্যালিস্টার, হার্ভি এলিয়ট—তিনজনই মিস করলেন। শেষ শটে জাস্টিন ডেভেনি নেট ভেদ করতেই ওয়েম্বলি জুড়ে লাল-নীল উল্লাস।
প্যালেসের কোচ অলিভার গ্লাসনারের শিষ্যরা যেন বার্তা দিল—মিলিয়ন পাউন্ডে শুধু নামকরা তারকা কেনা যায়, কিন্তু মনোবল নয়। এই জয় শুধু ট্রফি নয়, বরং মরশুমের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের তুমুল জ্বালানি। অন্যদিকে আর্নে স্লটের লিভারপুলের জন্য এটা সতর্কবার্তা—নতুন সাজানো আক্রমণভাগ যতই ঝলমলে হোক, রক্ষণের ফাঁক মেরামত না হলে ট্রফির পথে হোঁচট খাওয়া অবধারিত।
ইতিহাসের পাতায় আজকের তারিখ লেখা থাকবে ক্রিস্টাল প্যালেসের সোনালি অক্ষরে—প্রথম কমিউনিটি শিল্ড, আর তাও লিভারপুলকে হারিয়ে। ওয়েম্বলিতে রাতটা রয়ে গেল লন্ডনের রঙে রাঙানো।