সাইপ্রাসের ক্যান্ডিডেটস দাবায় উজবেক গ্র্যান্ডমাস্টার জাভোখির সিন্দারভের অপ্রতিরোধ্য দৌড়। হিকারু নাকামুরার সাথে ড্র করলেন প্রজ্ঞানন্দ। অন্যদিকে বৈশালী ও দিব্যার জয়ে মহিলা বিভাগে জমজমাট লড়াই। বিস্তারিত পড়ুন।

জাভোখির সিন্দারভ
শেষ আপডেট: 5 April 2026 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাইপ্রাসের ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্ট (Chess Candidates 2026) গোড়ায় একপেশে ছিল না। একাধিক ড্র, তুল্যমূল্য লড়াই। দেখে মনে হচ্ছিল শেষতক টানটান লড়াই চলবে। কৌশল নয়, ভাগ্যের জোরেই বুঝি বা কোনও বিজয়ী বেরিয়ে আসবে!
কিন্তু ছ’রাউন্ড শেষে ছবিটা বদলে গিয়েছে। হাড্ডাহাড্ডি টক্কর উধাও! প্রতিযোগিতায় বাকিদের ছাপিয়ে পয়েন্ট তালিকায় কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন যিনি, তাঁর নাম জাভোখির সিন্দারভ (Javokhir Sindarov)। উজবেকিস্তানের দাবাড়ু ষষ্ঠ রাউন্ডে চিনের ওয়েই ইকে (Wei Yi) কার্যত উড়িয়ে দিলেন। ছিনিয়ে নিলেন পঞ্চম জয়। ঝুলিতে সাকুল্যে সাড়ে পাঁচ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফাবিয়ানো কারুয়ানার থেকে দেড় পয়েন্টে এগিয়ে। অর্থাৎ, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশকে চ্যালেঞ্জ করার দৌড়ে আর সবাইকে ডিঙিয়ে একমাত্র ‘ফেভারিট’ ২৩ বছরের উজবেক তরুণ।
দাবায় বেশিরভাগ খেলোয়াড় সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছলে ড্র মেনে নেন। ব্যতিক্রম সিন্দারভ। ওয়েই ইয়ের বিরুদ্ধে তিনি একটি বিশেষ চাল চাললেন—বিশপ জি৪। তার জন্য একটি বোড়ে হারাতে হল। আর যে কেউ তখন ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদ পথে এগিয়ে সম্ভাব্য ড্র বেছে নিতেন। কিন্তু সিন্দারভ সেটা করলেন না।
ধারাভাষ্য প্যানেলে বসা ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বিদিত গুজরাতি এই মুভ দেখে আপ্লুত। তিনি বলেন, ‘বিশপটা জি৪-এ রেখে নাইটের সঙ্গে বিনিময় করে বিশপকে ডি৪-এ নিয়ে গেল সিন্দারভ। এতে দীর্ঘমেয়াদী চাপ তৈরি হল। এফ৬ বোড়ে নিয়ে ভয় নেই। এটাই সিন্দারভের বিশেষত্ব!’ সঙ্গে যোগ করলেন ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ টিপ্পনী: ‘সিন্দারভ বিপদকে সুযোগ হিসেবে দেখে!’
ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) ছ’নম্বর রাউন্ডে হিকারু নাকামুরার সঙ্গে ড্র করলেন। এই নিয়ে পরপর দু’বার... জয় অধরা। নাকামুরার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এহেন রেজাল্ট লজ্জার নয়। কিন্তু সিন্দারভ যখন অপ্রতিহত ভঙ্গিতে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন প্রতিটি নিষ্প্রভ ফলাফল আদতে চূড়ান্তভাবে ছিটকে যাওয়ার সিলমোহর! অঙ্কের হিসেব বলছে—এখনও আশা আছে, কিছুই অসম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে প্রজ্ঞানন্দকে খেতাব জিততে হলে অলৌকিক ছন্দে ফিরতে হবে।
মহিলা বিভাগে যদিও ভারতীয় ক্যাম্পে স্বস্তির হাওয়া। দিব্যা দেশমুখ (Divya Deshmukh) ও বৈশালী রমেশবাবু (Vaishali Rameshbabu) দুজনেই জিতলেন—কালো ঘুঁটি নিয়ে। বৈশালীর লড়াই বেশ রোমাঞ্চকর। ইউক্রেনের কাতেরিনা লাগনোর বিরুদ্ধে বিশপ বলিদান দিলেন দু-দু’বার। একবার প্রতিপক্ষ নিলেন না, পরের বার নিলেন। আর সেই ফাঁদেই পড়লেন লাগনো। ৪৭তম চালে হার মানতে বাধ্য হলেন। পাশাপাশি দিব্যা লড়লেন সময়ের চাপ মাথায় নিয়ে। শেষে মাত্র পাঁচ মিনিটে ১১টি চাল বাকি ছিল। উলটো দিকে বসা বিবিসারার হাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি। তবু দিব্যা হারলেন না—প্রতিপক্ষই ভুলের মাশুল চোকালেন।
উল্লেখ্য, মহিলা বিভাগের শীর্ষে ইউক্রেনের আন্না মুজিচুক—যিনি কনেরু হাম্পির জায়গায় তড়িঘড়ি বিকল্প হিসেবে এসেছেন। দিব্যা ও বৈশালী তিন পয়েন্টে একই সারিতে। সামনে লড়াই বাকি, যা ছেলেদের মতো একপেশে নয়… বেশ কঠিন হতে চলেছে।