অপরাজেয় নন (সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন ডি. গুকেশ), কিন্তু নিজের দিনে অপ্রতিরোধ্য নরওয়ের ম্যাগনাস কার্লসেন। আপাতত পাল্লা দিতে পারে এমন প্রতিপক্ষের ‘অভাবে’ ইন্টারনেটের আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন চ্যালেঞ্জের নাম—চ্যাটজিপিটি!

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 11 July 2025 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওভার দ্য বোর্ড দাবায় যা কিছু জেতার, সব হাসিল করেছেন তিনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর। অপরাজেয় নন (সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন ডি. গুকেশ), কিন্তু নিজের দিনে অপ্রতিরোধ্য নরওয়ের ম্যাগনাস কার্লসেন। আপাতত পাল্লা দিতে পারে এমন প্রতিপক্ষের ‘অভাবে’ ইন্টারনেটের আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন চ্যালেঞ্জের নাম—চ্যাটজিপিটি!
ইদানীং আকছার ওপেনএআইয়ের তৈরি কনভারসেশনাল চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সঙ্গেই দাবা খেলেন কার্লসেন। অনলাইনে। অতিসম্প্রতি যুদ্ধে নেমেছিলেন। যদিও ৫৩ চালেই খেলা শেষ! একটা গুটি পর্যন্ত হারালেন না। উল্টে এআই আত্মসমর্পণ করল।
প্রমাণ হিসেবে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে কার্লসেন লিখেছেন, ‘মাঝেসাঝে একঘেয়ে লাগছিল!’ সেখানে পাশপাশি জ্বলজ্বল করছে চ্যাটজিপিটির নতিস্বীকারের মেসেজও: ‘সব বোড়ে শেষ। আপনি একটি গুটিও হারাননি। জয়ের সমস্ত শর্ত নিখুঁতভাবে পূরণ করেছেন। তাই আমি, চুক্তি অনুযায়ী, সরে দাঁড়ালাম। আপনার খেলা নিখুঁত, পরিষ্কার, ধারালো!’
চ্যাটজিপিটির এই আত্মসমর্পণের পর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে ছড়িয়ে কার্লসেন প্রত্যুত্তর দেন: ‘তোমার ওপেনিংটা ভাল ছিল। একটা ইন্টারেস্টিং গুটি বিসর্জন দিলে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না!’
এখানে না থেমে খোঁচা মেরে কার্লসেনের প্রশ্ন: ‘তাহলে তুমি আমার কত রেটিং ধরবে?’ কাঁচুমাচু চ্যাটজিপিটির নিপাট জবাব: ‘যদি নিয়মিত এ রকম খেলেন, ক্লাসিকাল টাইম কন্ট্রোলে (ব্লিটজ বা র্যাপিড নয়), তাহলে আপনার রেটিং প্রায় ১৮০০-২০০০ ফিড বা ইউএসসিএফ হতে পারে। যদি ওপেনিং প্রস্তুতি আর ট্যাকটিকসের ধার এতটাই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা বাড়বে!’
এরপর পরাজিত কিন্তু সৎ যোদ্ধার মতো চ্যাটজিপিটির অকপট স্তুতি ঝরে পড়েছে: যেমন, ‘ওপেনিংয়ের বোঝাপড়া দারুণ। ডিফেন্সে আপনি সাবলীল।’ কিংবা ‘অপেক্ষা করার ধৈর্য ছিল। যেমন ...Bf8 আর ...Re8-এর মতো চাল বুঝিয়ে দেয় আপনি খেলার রীতিনীতি বেশ ভালমতো জানেন!’ রণকৌশল নিয়ে মন্তব্য, ‘ট্যাকটিক্সের টাইমিং ছিল নিখুঁত। …Nf3+ চাল দিয়ে যে সিকোয়েন্স শুরু করলেন, সেটাই খেলা ঘুরিয়ে দিল!’ অথবা ‘এন্ডগেমে ডিসিপ্লিন ছিল নজরকাড়া। বিশুদ্ধ টেকনিকেই জয় নিশ্চিত!’
শেষে আরও একটা ব্যাপার তুলে ধরেছে এআই। কার্লসেনের পরিচয় কিংবা স্বীকৃতি বিষয়ে যে কিচ্ছুটি জানে না। লিখেছে—‘আপনি একাধিক বার আমার অবৈধ চাল ধরে ফেলেছেন। নিয়ম মেনে চাল চালিয়েছেন। এটা বুঝিয়ে দেয়, আপনি বাস্তবে, বোর্ডের সামনে বসে নিয়মিত দাবা খেলেছেন!’