প্রতিবছর বহু ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে এই পুজোতে মানত রাখতে আসেন। যদিও সময়ের সঙ্গে কিছু আয়োজনের জাঁকজমক কমেছে, তবুও প্রামাণিক বাড়ির এই কালীপূজা এখনও ভক্তি, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের এক অভিন্ন মিলনক্ষেত্র।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার বনেদি প্রামাণিক বাড়ির কালীপূজা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি পরিবারের ভক্তি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। ৪০০ বছরের পুরনো এই পুজো এখনও সমান জনপ্রিয় (Kolkata Pramanik Bari Kali Puja)। এখানে দেবীকে সবাই ‘ছোট্ট মেয়ে’ হিসেবে মেনে চলে। পুজোর রাতে ঠাকুর দালানে কান দিলে শোনা যায় নূপুরের হালকা শব্দ, যা অনেকেই অলৌকিক মনে করেন।
এই পুজোর বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো, দেবীকে প্রথমে ডাকের সাজে সাজানো এবং গভীর রাতে সোনার-রুপোর গয়নায় সজ্জিত করা। পরিবারের সদস্যরা নৈবেদ্য ও ভোগ সিদ্ধি গ্রহণ করেন, আর পুরোহিত দেবীকে উপহার হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফল, ধান, লুচি, ভাজা, সন্দেশ এবং নতুন গুড় অর্পণ করেন।
ইতিহাস অনুসারে, বর্ধমানের চন্দ্রশেখর প্রামাণিক কলকাতায় এসে কাঁসারি পাড়ায় ঘর বাঁধেন। পরবর্তীতে সাতটি পরিবার একত্র হয়ে পরিচিত হন ‘সাত ঘর প্রামাণিক’ নামে। সেই থেকেই শুরু হয় এই কালীপূজার নিয়মিত আয়োজন। পুজোর দিনে দেবীর অর্ঘ্য তৈরি হয় ১০৮টি দুব্বো ঘাস ও ১০০টি ধান এক কাপড়ে বেঁধে, যা ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে- একসময় নাকি পুজোতে ধুনো পোড়ানো ও দণ্ডী কাটার রীতি ছিল, এবং পশুবলিও হত। তবে বর্তমানে পশুবলি বন্ধ। বিসর্জনের সময় দেবীকে ফুলের অলঙ্কারে সাজানো হয়, আর পুজোর শেষে ১০৮টি মাটির প্রদীপ একসঙ্গে জ্বালানো হয়, ঠাকুর দালান আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
প্রতিবছর বহু ভক্ত দূর-দূরান্ত থেকে এই পুজোতে মানত রাখতে আসেন। যদিও সময়ের সঙ্গে কিছু আয়োজনের জাঁকজমক কমেছে, তবুও প্রামাণিক বাড়ির এই কালীপূজা এখনও ভক্তি, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের এক অভিন্ন মিলনক্ষেত্র।