জ্যৈষ্ঠ মাস । সূর্যের গনগনে আঁচে পুরীর সমুদ্র সৈকত তপ্ত। জগন্নাথপ্রভুর সহ্য হয় না এই গরম। তাই জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা তিথিতে বলভদ্র ও সুভদ্রাকে নিয়ে বেরিযে আসেন জগন্নাথধামের শ্রীমন্দির থেকে।

জগন্নাথধামে স্নানযাত্রা মহোৎসব
শেষ আপডেট: 11 June 2025 16:21
জ্যৈষ্ঠ মাস । সূর্যের গনগনে আঁচে পুরীর সমুদ্র সৈকত তপ্ত। জগন্নাথপ্রভুর সহ্য হয় না এই গরম। তাই জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমা তিথিতে বলভদ্র ও সুভদ্রাকে নিয়ে বেরিযে আসেন জগন্নাথধামের শ্রীমন্দির থেকে। রত্নবেদী থেকে স্নানবেদীতে নিয়ে যাওয়া হয় দেবতাদের। তাঁদের স্নান ঘিরে জগন্নাথধামে চলে স্নানযাত্রা মহোৎসব।
কীভাবে পালিত হয় এই উৎসব?
জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পুরীর জগন্নাথধামের শ্রীমন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা ও মদনমোহনকে শোভাযাত্রা করে নিয়ে আসা হয় স্নানবেদীতে। রেশমবস্ত্র অলঙ্কার খুলে রাখা হয় দেবদেবীর। পূজারীরা মুখে কাপড় বেঁধে নেন যাতে কোনও দূষিত কিছু স্নানের জলে না মেশে। পাশের কুয়ো থেকে কলস কলস জল এনে স্নান করানো হয় দেবতাদের। কূপের একশো আট কলস শীতল জলে স্নান করেন জগন্নাথপ্রভু।
স্নানের জলে মেশানো হয় দুধ, চন্দন, নানা রকম সুগন্ধী। ভক্তরা ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে দর্শন করেন জগন্নাথস্বামীর এই স্নান উৎসব। স্নান শেষে গজবেশে ভক্তদের সামনে আসেন জগন্নাথপ্রভু। জগন্নাথদেবকে অর্পণ করা হয় একশো আট তুলসী পাতা, পাঁচটি গোটা ফল এবং গোলাপ ফুল। কথিত আছে ,ভক্তি ভরে যিনি জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা দর্শন করেন তাঁর সব পাপ ধুয়ে যায়, জীবন কলুষমুক্ত হয়,পুনর্জন্ম হয় না।
স্নানযাত্রার পর কেন অন্তরালে থাকেন প্রভু?
অনেকেই হয়তো জানেন না, স্নানযাত্রার পরের দিন থেকে পনেরো দিন শ্রীমন্দিরের গর্ভগৃহে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার বিগ্রহ দর্শন করা যায় না। থাকে তাঁদের পটচিত্র। কিন্তু কেন?
আসলে একশো আট কলস শীতল জলে স্নান করে জ্বরে কাতর হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমার পরদিন থেকে আষাঢ় মাসের অমাবস্যা পর্যন্ত এক পক্ষকাল অন্তরালে থাকেন প্রভু। এই সময় রাজবৈদ্য তাঁর চিকিৎসা করেন। আয়ুর্বেদিক পাঁচন সেবন করেন জগন্নাথদেব। ভোগেও হালকা পথ্য নিবেদন করা হয়।
রক্তচন্দন ও কস্তুরীর প্রলেপ দিয়ে, ফুলেল তেল মালিশ করে জগন্নাথপ্রভুর সেবা করেন পূজারীরা। সিল্ক ও রেশমবস্ত্র অলঙ্কার খুলে রাখা হয়। পরানো হয় সুতির হালকা বস্ত্র। সেবাযত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন জগন্নাথদেব।
দেবতার এই এক পক্ষ কাল অন্তরাল যাপনকে 'অনসর যাপন'বলা হয় । ষোলোতম দিনটি রথযাত্রার দিন। সুস্থ হয়ে ভক্তদের সামনে আসেন জগন্নাথস্বামী। রাজবেশে সজ্জিত হয়ে রথে চেপে পাড়ি দেন মাসির বাড়ি।