টিভি উপস্থাপিকা উপাসনা গিল সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের জন্য আবেদন করার পরে ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

হিংসায় উন্মত্ত নেপাল
শেষ আপডেট: 12 September 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেন জি-র বিক্ষোভে উত্তাল প্রতিবেশী দেশ নেপাল। ফেসবুক এবং ইউটিউব-সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞার পর গত সোমবার থেকে শুরু হয় আন্দোলন ও বিক্ষোভ। এরপর নেপাল সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কারফিউ এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা সিংহ দরবার, সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, বিশেষ আদালত, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, শীর্ষ নেতাদের বাড়ি এবং বিভিন্ন দলের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর করে। সিংহ দরবার সম্পূর্ণরূপে ছাই হয়ে গিয়েছে। বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের অফিসও।
বালকোট এবং জনকপুরে প্রধানমন্ত্রী ওলির ব্যক্তিগত বাড়ি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড, যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক, জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খড়কার বুধানিলকান্তের বাড়ি এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপার রাতোপুলের বাসভবনও হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।
নেপালের এই অবস্থার মধ্যে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি দেশের ভলিবল দলকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। তথ্য অনুসারে, দূতাবাস ক্রমাগত দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল এবং তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। টিভি উপস্থাপিকা উপাসনা গিল সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের জন্য আবেদন করার পরে ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নেপালের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জন মারা গিয়েছেন, আহত অসংখ্য।
টিভি এবং ভলিবল লিগ উপস্থাপিকা উপাসনা গিল একটি জরুরি ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তাঁকে এবং ভারতীয় দলকে বাঁচানোর জন্য আবেদন করেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হোটেল আগুনে পুড়ে গিয়েছে এবং তিনি হিংস্র জনতার আক্রমণ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। উপাসনা ভিডিওতে বলেন, “আমি পোখরায় আটকে রয়েছি, হোটেলটি পুড়ে গিয়েছে। আমার সমস্ত জিনিসপত্র সেখানে ছিল। লোকেরা যখন বড় বড় লাঠি নিয়ে এসেছিল তখন আমি স্পাতে ছিলাম। আমি খুব কষ্ট করে আমার জীবন বাঁচাতে পেরেছি।” প্রফুল্ল গর্গের সঙ্গে শেয়ার করা ভিডিওতে উপাসনা গিল বলেছেন, নেপালের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
/span>
উপাসনা বলেছিলেন, “সর্বত্র রাস্তায় আগুন লাগানো হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা পর্যটকদেরও রেহাই দিচ্ছে না। কেউ পর্যটক কি না, নাকি কেউ কাজে এসেছেন, তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। তারা চিন্তা না করেই সর্বত্র আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। জানি না আমরা কতক্ষণ অন্য কোনও হোটেলে থাকব। তবে আমি ভারতীয় দূতাবাসকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এই ভিডিও বার্তাটি তাদের (ভারত সরকারের) কাছে পাঠান। আমি আপনাদের সকলকে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি। আমাদের সাহায্য করুন। আমার সঙ্গে এখানে অনেক লোক আছেন। আমরা সবাই এখানে আটকা পড়ে আছি।”
উপাসনার জরুরি আবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরই ভারতীয় দূতাবাস তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস উপাসনা এবং ভলিবল দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাঁদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। দূতাবাস আটকে পড়া খেলোয়াড়দের কাঠমান্ডুর একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দলের বেশিরভাগ সদস্য ভারতে ফিরে এসেছেন এবং বাকি সদস্যদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাসি নেপালে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিকের জন্য জরুরি নম্বর জারি করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, যে কোনও জরুরি অবস্থা বা সহায়তার প্রয়োজনে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেন: +৯৭৭- ৯৮০ ৮৬০ ২৮৮১, +৯৭৭- ৯৮১ ০৩২ ৬১৩৪ নম্বরে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করার এবং নেপালি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা পদক্ষেপ এবং নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।