পাঞ্জাব কিংস তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্টটি করেছে, সেখানে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসাবে ইচ্ছাকৃত ভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের নাম।

সলমন আঘা, সূর্যকুমার যাদব
শেষ আপডেট: 12 September 2025 15:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান (India-Pakistan Asia Cup match)। কেন্দ্র সরকার ও বিসিসিআইয়ের এই ম্যাচ নিয়ে কোনও আপত্তি না থাকলেও দেশের সাধারণ মানুষ ও অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারই এই ম্যাচ বয়কটের আবেদন জানিয়েছেন। পহেলগাম কাণ্ডের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। তাই গোটা দেশ জুড়ে দাবি উঠেছে, রক্তের থেকে একটি ম্যাচের দাম কখনওই বেশি নয়।
এবার আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি পাঞ্জাব কিংস (Punjab Kings) এই ম্যাচ নিয়ে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বতন্ত্র অবস্থান (Unique Stand) নিল। ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে পাঞ্জাব কিংস তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্টটি করেছে, সেখানে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসাবে ইচ্ছাকৃত ভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের নাম। এক্স হ্যান্ডেলে করা পাঞ্জাবের এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এর আগে এই ম্যাচ বাতিলের দাবি নিয়ে একটি আবেদনের জরুরি শুনানি বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট অস্বীকার করেছে। বিচারপতি জেকে মাহেশ্বরী ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চের সামনে একজন আইনজীবী ম্যাচ বাতিল নিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন করেন। এর জবাবে দেশের শীর্ষ আদালত বলে, “এত তাড়াহুড়োর কী আছে? এটি একটি ম্যাচ। হতে দিন। রবিবারের ম্যাচটি হতে দিন।”
আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন, রবিবার রয়েছে ম্যাচ। যদি শুক্রবার বিষয়টি তালিকাভুক্ত না হয়, তাহলে আবেদনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। এর জবাবে বেঞ্চ বলে, “এই রবিবার একটি ম্যাচ আছে। আমরা এতে কী করতে পারি? এটি হতে দিন। ম্যাচটি হওয়া উচিত।”
এই ম্যাচ বাতিলের দাবিতে উর্বশী জৈনের নেতৃত্বে চার আইন শিক্ষার্থীর দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা ও অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন জাতীয় মর্যাদা ও জনসাধারণের অনুভূতির পরিপন্থী বার্তা পাঠায়।
চার শিক্ষার্থীর আবেদনে বলা হয়েছে, “দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেটের উদ্দেশ্য হল সদিচ্ছা ও বন্ধুত্ব প্রদর্শন করা। কিন্তু পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় যখন আমাদের মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং আমাদের সৈন্যরা ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বিপরীত বার্তা দেয়। যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের সৈন্যরা জীবন উৎসর্গ করেছে ও যে দেশ সন্ত্রাসীদের ক্রমাগত আশ্রয় দিয়ে চলেছে, আমরা সেই দেশের বিরুদ্ধে খেলতে চলেছি।”
সেই সঙ্গে আবেদনকারীরা এটাও বলেছেন, “এটি সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারানো পরিবারের অনুভূতির উপরও আঘাত হানতে পারে। জাতির মর্যাদা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিনোদনের আগে আসে। দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ জাতির স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং সশস্ত্র বাহিনী ও সমগ্র জাতির মনোবলের জন্যও ক্ষতিকর।”