রোটেশন নীতি ভারতীয় ক্রিকেটে নিছক ট্যাকটিক্স নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। উমর গুলের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই নীতি যদি পাকিস্তান ক্রিকেটে ঢুকে পড়ে, তবেই তাঁদের তারকাদের কেরিয়ার লম্বা হবে।

উমর গুল
শেষ আপডেট: 12 September 2025 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেট দলের ঘুঁটি সাজানোর এক বিশেষ কৌশল বারবার আলোচনায় উঠে আসে। সেটা হল রোটেশন নীতি (rotation policy)। মানে, তারকা ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেসের স্বার্থে সময়মতো বিশ্রাম দেওয়া, প্রয়োজন বুঝে খেলানো আর বড় টুর্নামেন্টের আগে যে কোনও মূল্যে সতেজ রাখা। রবিবারের ভারত–পাকিস্তান এশিয়া কাপ দ্বৈরথের আগে সেই নীতিকেই কুর্নিশ জানালেন প্রাক্তন পাক পেসার উমর গুল (Umar Gul)।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারক পিটিভি-র (PTV) একটি টক শোয়ে (Game On Hai) হাজির হন গুল। সেখানেই মেনে নেন নিজেদের পশ্চাদপসরণ। অকপটে বলেন, ‘আমাদের সিস্টেমে বা সংস্কৃতিতে এই নীতি নেই। আমরা যখন খেলতাম, সিনিয়ররা ৭০–৮০ শতাংশ ফিট হলেও বলত, ‘খেলতে চাই!’ আসলে তাদের ভয় ছিল, যদি নতুন কেউ সুযোগ পেয়ে ভালো খেলে দেয়, তবে তো জায়গা যাবে। তাই পাকিস্তানে রোটেশন নীতি কার্যত নেই।’
গুলের কথায়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতাই পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা। যে কারণে আহত অবস্থাতেও তাঁরা মাঠে নামতে বাধ্য হন। এই প্রসঙ্গে পড়শি মুলুকের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, ‘ওরা বুমরাহর (Jasprit Bumrah) মতো তারকাকে বুঝেশুনে খেলায়। পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে রাখে। আবার ফেরার পরও নামানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করে।’
উমরের চোখে, এই ইস্যুতে খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্ট—দু’পক্ষের সমান দায়িত্ব রয়েছে। ক্রিকেটাররা নিজেদের শরীরের রহস্য সবচেয়ে ভালো জানে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রিহ্যাব করলে গতি কমে না, বরং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। ভারতের সিস্টেমে চিকিৎসকরা যে সময় ধার্য করেন, তার থেকেও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে ফিটনেসে একফোঁটা ঘাটতি না থাকে।
প্রাক্তন পেসারের মতে, পাকিস্তানে একাধিক খেলোয়াড়ের রিহ্যাব ঠিকঠাক হয়নি। তাই চোটের পর গতি আগের মতো থাকে না। অথচ ভারতের ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারেই উলটো। বিশেষত বুমরাহর মতো প্রিমিয়ার বোলারদের খেলার সময়সূচি এমনভাবে তৈরি হয় যে, তাঁদের আসল শক্তি বেরিয়ে আসে বিশ্বকাপ বা বড় আইসিসি (ICC) টুর্নামেন্টে।
অর্থাৎ, রোটেশন নীতি ভারতীয় ক্রিকেটে নিছক ট্যাকটিক্স নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। উমর গুলের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই নীতি যদি পাকিস্তান ক্রিকেটে ঢুকে পড়ে, তবেই তাঁদের তারকাদের কেরিয়ার লম্বা হবে। টিম ইন্ডিয়ার মতো পরিকাঠামো ও মানসিকতা কি গড়ে তুলতে পারবে পাকিস্তান? নাকি সেই ঘাটতি রয়ে যাবে চিরকাল?
প্রশ্নের উত্তর আপাতত সবচেয়ে ভাল দিতে পারবেন মহসিন নকভি!