Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়ের

পেটের দায়ে খেয়েছেন ক্যাটফুড, কোটিপতি হয়েও দান করে দিয়েছেন কোম্পানি! এখন লড়াই কেবল পরিবেশের জন্য

পাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা (Patagonia) ইয়ভন শুইনার্ড (Yvon Chouinard) একসময় ক্যানের বিড়ালের খাবার খেয়ে টাকা বাঁচাতেন। পরে বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি দান করলেন পরিবেশ রক্ষায়।

পেটের দায়ে খেয়েছেন ক্যাটফুড, কোটিপতি হয়েও দান করে দিয়েছেন কোম্পানি! এখন লড়াই কেবল পরিবেশের জন্য

ইয়ভন শুইনার্ড।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 24 September 2025 14:11

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় বিড়ালের খাবার খেয়ে কাটিয়েছিলেন দিন। পয়সা বাঁচাতে পাথুরে পাহাড়ে, জঙ্গলে থেকেছেন, খারাপ জল খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন, কাঠকয়লা আর নুন মিশিয়ে সেই টোটকায় অসুখ সারিয়েছেন। অথচ তিনিই একদিন হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী। আবার, আর আজ সেই ধনকুবেরই (billionaire) স্বেচ্ছায় নিজের কোম্পানি দান করে দিয়েছেন পৃথিবীকে বাঁচাতে।

তিনি ইয়ভন শুইনার্ড (Yvon Chouinard)। আউটডোর পোশাক সংস্থা পাটাগোনিয়ার (Patagonia) প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বয়স এখন ৮৬। প্রবল লড়াই করে অর্জিত সম্পত্তির ফলশ্রুতি হিসেবে তিনি হয়ে উঠেছেন কোটিপতি। তবে ধনকুবেরদের তালিকায় নাম ওঠা নিয়েই তাঁর অস্বস্তি। তাই ২০১৭ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় রাখতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। কারণ তাঁর কাছে ‘বিলিয়নেয়ার’ শব্দটা মানে সাফল্য নয়, বরং নীতি ব্যর্থতা। 

ইয়ভন শুইনার্ড

এই মনোভাব থেকে, ২০২২ সালে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজে এবং পরিবারের সঙ্গে মিলে পুরো পাটাগোনিয়া কোম্পানিটিই তুলে দেন ট্রাস্ট ও অলাভজনক সংস্থার হাতে। যাতে করে কোম্পানির প্রতি বছরের কোটি কোটি ডলার মুনাফা ব্যয় হয় জলবায়ু পরিবর্তন রোধে, পরিবেশ রক্ষায়।

জীবনের শুরুর লড়াই

আসলে শুইনার্ড সারাজীবন ছিলেন এক ভবঘুরে রক ক্লাইম্বার। পাহাড়ে-জঙ্গলেই ছিল তাঁর ঘর। পাঁচের দশকে মেক্সিকোয় কুঁড়েঘরে থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ফল-মাছ খেয়ে বেঁচে থাকতেন। টাকার অভাবে গির্জা থেকে নিয়ে আসতেন জ্বলে যাওয়া মোমবাতির অংশ।

এসব কথা নিজের আত্মজীবনী Let My People Go Surfing-এ তিনি খোলাখুলিই লিখেছেন। এমনকি কখনও নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্যানের বিড়ালের খাবারও কিনে খেয়েছেন মাত্র পাঁচ সেন্টে। কখনও সপ্তাহের পর সপ্তাহ এক ডলার খরচেই জীবন চালিয়েছেন। অসুস্থ হলে ওষুধ কেনার টাকাও জুটত না। তখন আগুনে পোড়ানো কাঠকয়লা আর আধ কাপ নুন মেশানোজল খেয়ে বমি করে সারাতেন অসুখ। এভাবেই কেটে যেত দিন।

ব্যবসায়ী থেকে কর্মী

১৯৭৩ সালে জন্ম নেয় পাটাগোনিয়া। শুরুর দিনগুলোয় গাড়ি থেকে ক্লাইম্বিং সরঞ্জাম বিক্রি করতেন শুইনার্ড। ধীরে ধীরে কোম্পানি হয়ে ওঠে আউটডোর পোশাক ও সরঞ্জামের এক বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।

Yvon Chouinard – the 'existential dirtbag' who founded and gifted Patagonia  | Business | The Guardian

কিন্তু ব্যবসার প্রসার যতই হোক, তাঁর কাছে অর্থ কখনওই প্রথম সারির লক্ষ্য ছিল না। বরং শুরু থেকেই পাটাগোনিয়াকে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে। তাঁদের মূলমন্ত্রই ছিল—“We’re in business to save our home planet.”

অন্যরকম কোম্পানি, অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি

পাটাগোনিয়া সবসময়ই আলাদা পথে হেঁটেছে। প্রথম থেকেই কোম্পানির মুনাফার অন্তত ১% বরাদ্দ হয়েছে পরিবেশ রক্ষায়। পুরনো পোশাক মেরামত করে আবার ব্যবহার করার জন্য চালু করেছে Worn Wear Program। নতুন পোশাকের অধিকাংশই তৈরি হয়েছে পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল বা অর্গানিক কটন দিয়ে। এমনকি পরিবেশ নীতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়াতেও কুণ্ঠাবোধ করে না এই ব্র্যান্ড।

Patagonia founder Yvon Chouinard's history of activism - Los Angeles Times

এক অদ্ভুত উত্তরাধিকার

তবে আজ শুইনার্ড ধনকুবেরদের তালিকায় নেই। আর সেটাই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। পৃথিবীকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে তিনি রেখে গেছেন এক অদ্ভুত উত্তরাধিকার—যেখানে ব্যবসা মানে শুধু মুনাফা নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা।

Patagonia Founder Gives Away the Company to Fight Climate Change - The New  York Times

বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি গড়ে তা দান করে দেওয়া সহজ কাজ নয়। কিন্তু শুইনার্ড দেখিয়ে দিয়েছেন, সত্যিকারের সাফল্য মানে টাকা জমা নয়, বরং পৃথিবীকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া।


```