কোনও কোনও উচ্চবিত্তের উচ্চকাঙ্ক্ষা একটি ছিমছাম বাগানবাড়ির প্রতি। সেখানে দেশের অতি সম্পদশালীদের নজর মাটি থেকে অনেক উঁচুতে হলেও নিশানা জমি খরিদের দিকে।

তাঁদের নজর রয়েছে কেবলমাত্র জমিগ্রাস ও আগমার্কা রিয়েল এস্টেটের দিকে।
শেষ আপডেট: 20 May 2025 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'টাকা মাটি, মাটি টাকা।' রামকৃষ্ণদেবের এই দার্শনিক কথা বস্তুবাদী দর্শনেও খাঁটি কথা। আর সে কারণেই ক্রিপ্টো কারেন্সি, সোনা কিংবা শেয়ারে বিনিয়োগের চেয়ে জমি কেনার প্রতিই দেশের ধনীশ্রেষ্ঠদের আতসকাচে ধরা পড়ে। অভিজাত রিয়েল এস্টেট পরামর্শদাতাদের কথায়, বড় বড় শিল্পপতি থেকে উত্তরাধিকারী রাজবংশ সব স্তরের ধনীরাই চুপচাপ ৭৫-৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন এক-একজনে। যাদের সংখ্যা প্রায় ০.০০১ শতাংশ। এঁরা কেউই শেয়ার বাজারে কিংবা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে টাকা খাটাচ্ছেন না। তাঁদের নজর রয়েছে কেবলমাত্র জমিগ্রাস ও আগমার্কা রিয়েল এস্টেটের দিকে।
বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষা চোখ বলছে, সাধারণ মধ্যবিত্তরা তিনটি শোওয়ার ঘরের ফ্ল্যাটকেই জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ধন মনে করছেন। কোনও কোনও উচ্চবিত্তের উচ্চকাঙ্ক্ষা একটি ছিমছাম বাগানবাড়ির প্রতি। সেখানে দেশের অতি সম্পদশালীদের নজর মাটি থেকে অনেক উঁচুতে হলেও নিশানা জমি খরিদের দিকে। জমি-রিয়েল এস্টেট উপদেষ্টা ঐশ্বর্য শ্রী কাপুরের মতে, তাঁদের সম্পদবৃদ্ধির লক্ষ্য জমি কেনা ও বিখ্যাত রিয়েল এস্টেট কেনার দিকে।
কাপুরের মতে, ভারতের অতি উচ্চবিত্তশালীরা কেবলমাত্র বাড়ি কিনতেই ব্যস্ত নন। তাঁরা চাইছেন প্রি-লিজড কমার্শিয়াল ফ্লোর, অভিজাত এলাকায় বহুমূল্যের জমি, লোকদেখানোর মতো বাগানবাড়ি কিংবা দিল্লি, মুম্বই, গোয়া, দুবাই বা লন্ডনে প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ বাড়ি কিনতে। আশ্চর্য হল, তাঁরা কেউই কিন্তু চিরাচরিতভাবে বিনিয়োগের লাভের কড়ি ফেরতের বিষয়ে আগ্রহী নন। তাঁরা নগদের নিরাপত্তা, মানমর্যাদা বৃদ্ধি এবং বিশাল মূল্যে ভবিষ্যৎ বিক্রির লাভের কথা ভেবে রাখছেন।
কাপুর দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ দিল্লির একটি পরিবার তাঁদের ২২০ কোটি টাকার বাংলো বেচে গুরুগ্রামের ৭৫ কোটির অভিজাত আবাসনে চলে গিয়েছেন। কারণ তাঁরা চেয়েছিলেন সম্মানজনক প্রতিষ্ঠা, ১৪৫ কোটি টাকাকে নগদে পরিবর্তন এবং বিশাল জায়গা নিয়ে থাকা। কাপুরের কথায়, ২৫-৩০ কোটি টাকার একটি জমিকে খুব সহজেই ৭০-১০০ কোটি টাকার সম্পদে পরিণত করা সম্ভব এখনকার দিনে। যদি সেই জমি খুবই মূল্যবান জায়গায় হয়।