নয়াদিল্লি আগেই জানিয়েছে, পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে ভারতের (India) চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) আপাতত স্থগিত হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি। সোমবার সে কথা জানিয়ে ইজরায়েলে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত জেপি সিং সাফ বলেন, দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা থামানোর রাস্তা একটাই। “পাকিস্তান যদি হাফিজ সঈদ, সাজিদ মীর ও জাকিউর রহমান লখভিকে ভারতের হাতে তুলে দেয়, তাহলেই সব সমস্যার অবসান হতে পারে।”

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 May 2025 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লি আগেই জানিয়েছে, পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে ভারতের (India) চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) আপাতত স্থগিত হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি। সোমবার সে কথা জানিয়ে ইজরায়েলে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত জেপি সিং সাফ বলেন, দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা থামানোর রাস্তা একটাই। “পাকিস্তান যদি হাফিজ সঈদ, সাজিদ মীর ও জাকিউর রহমান লখভিকে ভারতের হাতে তুলে দেয়, তাহলেই সব সমস্যার অবসান হতে পারে।”
ইজরায়েলের টিভি চ্যানেল আই২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালু হয়েছিল ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর। সেই হামলায় ধর্ম দেখে মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল—প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন নিরীহ মানুষ।
জেপি সিং বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটি ও পরিকাঠামো। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনা ঘাঁটিগুলির উপর হামলা চালায়।”
তিনি জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ থেমেছে ঠিকই, তবে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি। “এই অভিযান এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে—এবার থেকে ভারত রণনীতিগতভাবে আগ্রাসী পথ নেবে। জঙ্গি যেখানে থাকবে, তাকে খতম করা হবে, তার ঘাঁটি ধ্বংস করা হবে। যুদ্ধবিরতি আপাতত বজায় রয়েছে, কিন্তু অভিযান শেষ হয়নি।”
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, পাকিস্তানের নুর খান বিমানঘাঁটিতে ১০ মে ভারতের বিমান হানার পরে ইসলামাবাদে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেই হামলার পরই পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO) ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করে।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যে সিন্ধু জলচুক্তিকে পাকিস্তান আজ ভারতের যুদ্ধঘোষণা বলছে, সেই চুক্তির মূল কথা ছিল সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্ব। ভারত তো জল ছেড়েছে, কিন্তু পাকিস্তান দিয়েছে রক্ত ও জঙ্গি। প্রধানমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করেছেন—রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”
জেপি সিং প্রশ্ন তোলেন—মুম্বই, পাঠানকোট ও পুলওয়ামা হামলার তদন্তের কী হল? তিনি বলেন, “আমরা ডসিয়ার দিয়েছি, প্রযুক্তিগত তথ্য দিয়েছি। আমেরিকা পর্যন্ত প্রমাণ দিয়েছে। তাও কেন হাফিজ সঈদ, লখভি, সাজিদ মীর মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়?”
তিনি বলেন, “যেভাবে আমেরিকা তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে, পাকিস্তানকেও ঠিক তেমন ভাবেই এই তিনজনকে আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।”
পাকিস্তানের তরফে পাহলগাম হামলার তদন্তের প্রস্তাবকে ‘ধোঁয়াশা সৃষ্টি’ বলেই উড়িয়ে দেন ভারতীয় কূটনীতিক।
জেপি সিং আরও বলেন, সন্ত্রাসে জর্জরিত দেশগুলির মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “ভারত ও ইজরায়েলসহ আরও দেশকে একজোট হয়ে শুধু সন্ত্রাস নয়, সন্ত্রাসের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও জোট গঠন করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “সন্ত্রাসের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স। সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস চালানো কখনই বরদাস্ত করা হবে না।”