স্বর্ণমন্দিরের শীর্ষ ধর্মীয় সংগঠন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর পরামর্শে মান্যতা দিয়েছে।

ইন্দিরা গান্ধী জমানায় খলিস্তানি জঙ্গি জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালাকে পাকড়াও করতে বেনজির সেনা অভিযান হয়েছিল স্বর্ণমন্দিরের ভিতরে।
শেষ আপডেট: 20 May 2025 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিখধর্মের সর্বোচ্চ তীর্থস্থান অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে বসতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আকাশ হামলারোধী ব্যবস্থা। স্বর্ণমন্দিরের শীর্ষ ধর্মীয় সংগঠন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর পরামর্শে মান্যতা দিয়েছে। ভারতীয় সেনা পবিত্র এই তীর্থস্থানের ভিতরে শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন বিধ্বংসী কামান মোতায়েন করছে। প্রসঙ্গত, ইন্দিরা গান্ধী জমানায় খলিস্তানি জঙ্গি জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালাকে পাকড়াও করতে বেনজির সেনা অভিযান হয়েছিল স্বর্ণমন্দিরের ভিতরে। সেবার পবিত্র তীর্থস্থানে সেনার প্রবেশ নিয়ে প্রবল আপত্তি তুলেছিল অকাল তখত। কিন্তু, শেষপর্যন্ত ইন্দিরা গান্ধী অনমনীয় মনোভাবে স্বর্ণমন্দিরে ঢুকে 'অপারেশন ব্লু স্টার' চালায় ভারতীয় সেনা এবং খতম করে ভিন্দ্রানওয়ালেকে।
স্বর্ণমন্দিরের প্রধান গ্রন্থী এই নজিরবিহীন অনুমতি দিয়েছেন ভারতীয় সেনাকে। দেশের এয়ার ডিফেন্স প্রধান এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। কারণ, পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে পাঞ্জাবের অমৃতসরের প্রখ্যাত স্বর্ণমন্দির ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, সেনার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিধ্বংসী কামান তার প্রত্যেকটিকে নিষ্ক্রিয় করে। সোমবার একথা জানান, ১৫ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল কার্তিক সি শেষাদ্রী। এর আগেই ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, অপারেশন সিঁদুরের পর পাক বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দেশের অসামরিক এলাকা এবং ধর্মীয় স্থানগুলিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। যার মধ্যে শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মস্থান স্বর্ণমন্দিরও ছিল।
মেজর জেনারেল বলেন, আমরা জানতাম পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনও ন্যায়নীতি বোধ নেই। ওরা সামরিক, অসামরিক এমনকী ধর্মস্থানেও হামলা চালাতে পারে। সে কারণে শিখ তীর্থ স্বর্ণমন্দিরকে ওরা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, এমন অনুমান আমাদের ছিল। তাই আমরা একেবারে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্বর্ণমন্দিরকে রক্ষা করতে মোতায়েন করে রেখেছিলাম।
শেষাদ্রী আরও বলেন, গত ৮ মে পাকিস্তান স্বর্ণমন্দিরকে লক্ষ্য করে একের পর এক হানাদারি চালায়। যার মধ্যে ছিল ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি জানান, কিন্তু, আমাদের আগাম অনুমান থাকায় আমরাও সম্পূর্ণ তৈরি ছিলাম। আমাদের সাহসী ও সজাগ সেনাবাহিনীর বন্দুকবাজরা পাকিস্তানের শয়তানি চক্রান্ত ভেস্তে দিতে সক্ষম হন।
তিনি জানান, স্বর্ণমন্দিরকে ধ্বংস করতে যতগুলি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া হয়েছিল, তার প্রত্যেকটিকে অকেজো করে দেওয়া হয়। যার ফলে পবিত্র স্বর্ণমন্দিরের গায়ে একটি আঁচড়ও লাগতে দেয়নি আমাদের বাহিনী। এদিনই সেনা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের নমুনার ছবি প্রকাশ করে। এর মধ্যে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা, এল-৭০ এয়ার ডিফেন্স গান কীভাবে স্বর্ণমন্দির ও পাঞ্জাবের একটার পর একটা শহর রক্ষা করেছিল তা দেখানো হয়।
তারপর থেকেই সেনা স্বর্ণমন্দির কর্তৃপক্ষকে বোঝায় দেশের একটি পবিত্র তীর্থস্থানই শুধু নয়, এই গুরুদ্বারের স্থাপত্যকীর্তি অতুলনীয়। তাই এই অমূল্য সম্পদকে রক্ষা করা দেশের একমাত্র কর্তব্য। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুমের আইভান ডি'কানহা এক সাক্ষাৎকারে জানান, এটা খুবই ভালো কথা যে স্বর্ণমন্দিরের প্রধান গ্রন্থী আমাদের অনুমতি দিয়েছেন, তীর্থস্থানের ভিতরেই আমরা কামান মোতায়েন রাখতে পারব। পাক হানা হলে তাঁরা স্বর্ণমন্দিরের সব আলো নিভিয়ে দিতেও রাজি হয়েছেন। যাতে পাক হামলাকারী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সহজে চিহ্নিত করা যায়।
সেনার এয়ার ডিফেন্সের ডিরেক্টর আরও জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছেন পাকিস্তানি হামলার আশঙ্কার কথা। তাই গোটা বিশ্বের কাছে একট আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য এই মন্দিরকে রক্ষা করার গুরুত্ব তাঁরা অনুধাবন করেছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে আসেন। এই অবস্থায় সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স এখানে থাকবে, রাতে আলোও বন্ধ রাখা হবে।