সবকিছু জানার, বোঝার পর কী করা উচিত তাঁর (relationship advice) - এই প্রশ্নের উত্তরে বেশ কিছু সমাধান দিল রেডিটবাসী। সেটাই এখন ভাইরাল নেটমাধ্যমে (Indian marriage problems)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 January 2026 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে, স্ত্রী এখনও তাঁর প্রাক্তন প্রেমিককে ভালবাসেন (wife still in love with ex) - খোলাখুলি এই স্বীকারোক্তিই বলছে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে এক পুরুষের বিশ্বাস আর আত্মসম্মান। নিজের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা প্রকাশ্যে এনে Reddit-এর ‘Inside Indian Marriage’ সাবরেডিটে সাহায্য চেয়েছেন (relationship advice) এক ৩৩ বছরের ভারতীয় ব্যক্তি (Indian marriage Reddit story)।
সবকিছু জানার, বোঝার পর কী করা উচিত তাঁর - এই প্রশ্নের উত্তরে বেশ কিছু সমাধান দিল রেডিটবাসী। সেটাই এখন ভাইরাল নেটমাধ্যমে (Reddit India)।
ঠিক কী হয়েছিল? যা বলছে পোস্ট...
নিজের পোস্টে ওই ব্যক্তি জানান, তাঁর স্ত্রীর বয়স ৩০। দু’জনের সম্পর্ক ছিল প্রেমের, এবং মাত্র ছয় মাস ডেটিং পর্বের পর তাঁদের বিয়ে হয়। স্ত্রীর অতীত সম্পর্কের কথা তিনি জানতেন, কিন্তু তাঁর বিশ্বাস ছিল, সেই সম্পর্ক পরিস্থিতির চাপে চিরতরে শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের আগে স্ত্রী নাকি প্রাক্তনের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
এই সম্পর্ক ওই ব্যক্তির কাছে হয়ে উঠেছিল জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিজের কথায়, বহু বছর নিজেকে সাধারণ ও অবহেলিত মনে করার পর তিনি ভেবেছিলেন, অবশেষে তিনি জীবনে ‘জিতে গেছেন’। স্ত্রী তাঁকে এমন অনুভূতি দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি নিজেকে বিশেষ, মূল্যবান এবং গভীর ভালবাসা পাওয়া একজন মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। দাম্পত্য জীবনের স্বাভাবিক ওঠানামা থাকলেও, সব মিলিয়ে সংসার ছিল তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
কিন্তু সবকিছু বদলে যায় হঠাৎই, যেদিন তাঁর স্ত্রী অপ্রত্যাশিতভাবে প্রাক্তন প্রেমিকের মুখোমুখি হন। এরপর থেকেই স্বামীর চোখে পড়ে স্ত্রীর আচরণে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। তিনি চুপচাপ হয়ে পড়েন, বিষণ্ণতা গ্রাস করায় ক্রমশ গুটিয়ে যেতে থাকেন। একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করার পর, শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নিজের মনের কথা খুলে বলেন।
স্ত্রীর স্বীকারোক্তি ছিল তাঁর কাছে আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক
তিনি জানান, তিনি নাকি কখনওই প্রাক্তন প্রেমিককে সত্যিকারের অর্থে ভুলতে পারেননি। প্রায়ই তাঁর মনে হয় - “যদি সবকিছু অন্যভাবে হত, তাহলে কী হত?” স্বামীর দাবি অনুযায়ী, স্ত্রী তাঁকে বলেন, তিনি প্রাক্তনের মতোই মানুষ, সেই কারণেই তিনি তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন। এমনকি তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, তাঁর আগের সম্পর্কটি ছিল এক ‘অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প’, আর আজও তিনি তাঁর প্রাক্তনকে গভীরভাবে মিস করেন।
পরবর্তীতে স্বামী আরও একটি বিষয় জানতে পারেন, যা তাঁকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দেয়। তিনি দেখেন, তাঁর স্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন বহু ভিডিও সেভ করে রেখেছেন, যেখানে প্রাক্তনের জন্য হাহাকার, বিচ্ছেদের আফসোস এবং ‘অন্য কোনও জীবনে আবার এক হওয়ার’ ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে।
এই সবকিছু জানার পর, তাঁর কাছে বিয়ের এই সম্পর্কটাই যেন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, বাস্তবের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গিয়েছে তাঁর। স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকলে তাঁর মনে তীব্র রাগ ও ক্ষোভ জন্ম নেয়, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে স্ত্রীর সামনে এলেই তাঁর অনুভূতি পুরোপুরি বদলে যায়।
“আমি যখন ওর সঙ্গে থাকি, তখন ও যা চায়, আমিও তাই চাই,” লেখেন তিনি। নিজের যন্ত্রণা সত্ত্বেও তিনি বুঝতে পারেন, ধীরে ধীরে তিনি আবেগের দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, তবু সেই অবস্থাকেই মেনে নিচ্ছেন।
Reddit কী পরামর্শ দিল?
Reddit-এ এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় বিস্তর আলোচনা। বহু ব্যবহারকারী স্বামীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং সরাসরি বিয়ের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
একজন লেখেন, “ও বলেছে, তুমি ঠিক তার মতো বলেই তোমাকে বেছে নিয়েছে - এটা ভাবাও ভয়ংকর।” এর উত্তরে পোস্টদাতা লেখেন, “সত্যি বলতে, তখন নিজেকে দোকানের একটা জিনিসের মতো মনে হয়েছিল।” সেই মন্তব্যের জবাবে আর একজন বলেন, “যদি সে এখনও তার প্রাক্তনকে ভালবাসে, তাহলে এই বিয়ের কোনও মানে নেই। আমি একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, শেষ পর্যন্ত আমাদের ডিভোর্সই হয়েছে।”
আর একজন সতর্ক করে বলেন, “এই পরিস্থিতি না মিটে যাওয়া পর্যন্ত সন্তান নেওয়ার কথা একদমই ভাববে না।” কেউ কেউ আরও কঠোর ভাষায় লেখেন, “তুমি হেরে গেছ। ‘যে চলে গিয়েছে, কিন্তু থেকে গিয়েছে মনে’ - তার সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা হয় না। সে সারাজীবন ভাববে, কী হতে পারত।”
একজন ব্যবহারকারী তাঁকে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে বলেন। তাঁর বক্তব্য, “তুমি মাত্র ৩৩। সামনে পুরো জীবন পড়ে আছে। তুমি ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য। দুর্ভাগ্যবশত, সে তোমার জন্য সঠিক মানুষ নয়। সে তোমাকে তোমার জন্য বেছে নেয়নি, বরং তার প্রাক্তনের বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। এখন আসল মানুষটা ফিরে আসায়, তার মন আবার সেদিকেই ঝুঁকছে। সে তোমাকে কখনও তোমার জন্য ভালবাসবে না।”
তবে সব মন্তব্যই যে বিচ্ছেদের পক্ষে, তা নয়। কেউ কেউ মনে করেন, এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। এক ব্যবহারকারী লেখেন, “দু’জনের মধ্যে শান্ত, সৎ আলোচনা দরকার। এখন বিয়ের মানে কী, সেটা পরিষ্কার করতে হবে। কাপল থেরাপিও এই ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করতে পারে। নিজের যত্ন নাও - ভালবাসার মানে নিজেকে মুছে ফেলা নয়।”
আর একজন খুব স্পষ্টভাবে স্বামীর সামনে থাকা তিনটি পথ তুলে ধরেন - “তোমার সামনে তিনটা রাস্তা আছে।
১) যদি সে তার প্রাক্তনকে বিয়ে করতে চায়, তাহলে ইগো গিলে ফেলে তাকে যেতে দাও।
২) যদি সে তোমার সঙ্গে থাকতে চায়, তাহলে প্রাক্তনের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে - কোনও ব্যতিক্রম নয়।
৩) এখনই ডিভোর্স ফাইল করো। কারণ যোগাযোগ বন্ধ করলেও, সে কখনওই তার জায়গা তোমার মনে ও হৃদয়ে দিতে পারবে না।”
এই পোস্ট ঘিরে হওয়া আলোচনা একদিকে যেমন এক ব্যক্তির ভাঙা হৃদয়ের গল্প, তেমনই আধুনিক এই যুগে বিয়ে, অতীত সম্পর্ক এবং আবেগের দিক থেকে বিশ্বস্ততা নিয়ে এক বড় সামাজিক প্রশ্নও তুলে ধরেছে।