তখন আইএনএ-র বিচার আর রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভির বিদ্রোহের আবহে উত্তাল দেশ। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই গণেশ প্রতিমাকে নেতাজির বেশে দাঁড় করানো ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৪৬ সাল। স্বাধীনতার ঠিক আগের বছর। মুম্বইয়ের লালবাগচা রাজাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সকলে। গণেশ সেখানে সেজেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রূপে। পরনে ভারতীয় সেনা জওয়ানের পোশাক।
তখন আইএনএ-র বিচার আর রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভির বিদ্রোহের আবহে উত্তাল দেশ। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই গণেশ প্রতিমাকে নেতাজির বেশে দাঁড় করানো ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। ধর্মীয় ভক্তির আবরণে লুকিয়ে ছিল প্রতিবাদের ভাষা, স্বাধীনতার বার্তা।
হঠাৎ এই ভাবনা, এনিয়ে বহু কথা শোনা যায়। তবে, এর বীজ মহারাষ্ট্রবাসীর মনে বপন করেছিলেন বাল গঙ্গাধর তিলক। মুম্বই বা মারাঠাদের মধ্যে গণপতির আরাধনা, বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে রাস্তাঘাটে পুজোর যে সংস্কৃতি, তা এসেছিল তাঁর হাত ধরে।
উনিশ শতকের শেষ ভাগে যখন স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন ছন্দে গতি পাচ্ছে, তখন তিলক বুঝলেন, দেশবাসীকে একত্র করার জন্য কোনও যৌথ সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করা দরকার। পেশোয়া যুগ থেকেই মহারাষ্ট্রে গণপতি পূজার প্রচলন ছিল, তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল ঘরের মধ্যে। তিলক সেই পুজোকে ঘর থেকে বার করে আনলেন রাস্তায়।
১৮৯৩ সালে প্রথম সার্বজনীনভাবে গণেশ চতুর্থী পালন শুরু হল তাঁর উদ্যোগে। মণ্ডপে প্রতিমার পাশে দেশাত্মবোধক বার্তা লেখা ব্যানার, দেশপ্রেমের গান, সব মিলিয়ে উৎসব হয়ে উঠল মানুষের মিলনক্ষেত্র এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম।
সেই ধারা বহন করেই ১৯৪৬ সালে মুম্বইয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত লালবাগচা রাজা মণ্ডপে প্রতিমা গড়া হল বাংলার এই বিপ্লবীর আদলে। গণেশের মূর্তি পরনে জওয়ানের পোশাক, হাতে সেনার প্রতীক, যেন স্পষ্ট বার্তা, নেতাজি ও তাঁর সেনারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়ছেন, আর গোটা জাতি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ওই প্রতিমা ছিল এক অনন্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ। আর ১৯৪৬ সালের সেই নেতাজির বেশে গণপতি প্রতিমা শুধু এক বছরের ঘটনা ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রতীক, যা আজও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে।