দুই ভাই - ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার ভারত গোবিন্দারাঘবন এবং পরিবেশ আইন নিয়ে পড়া বালাচন্দর জি শুধু সমস্যাটা দেখেই থেমে থাকেননি। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সহজ প্রযুক্তির জোরে শহরের প্রতিটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 November 2025 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেন্নাই (Chennai)। জলের টানাটানি (Water Crisis) আর দূষণে (Water Pollution) বহুদিন ধরেই ক্লান্ত এই শহর। বহু পরিবার এখনও ভরসা রাখে বড় প্লাস্টিকের জলের ড্রামের (Plastic Water Drum) ওপর। কিন্তু সেই ড্রামের জলের মান কেমন? কতবার ব্যবহার হয়েছে? আদৌ নিরাপদ তো? উত্তর বেশিরভাগ সময়ই অজানা। আর সেই অচেনা আতঙ্ক থেকেই জন্ম BookWater-এর।
দুই ভাই (Two Brothers) - ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার ভারত গোবিন্দারাঘবন এবং পরিবেশ আইন নিয়ে পড়া বালাচন্দর জি শুধু সমস্যাটা দেখেই থেমে থাকেননি। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সহজ প্রযুক্তির জোরে শহরের প্রতিটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানীয় জল (Safe Drinking Water) পৌঁছে দেওয়া। এই ভাবনা থেকেই তাঁদের বড় উদ্যোগের শুরু।
ভাবনা যেমন সরল ছিল, তাঁদের উদ্ভাবনও ততটাই সরল। ISI-সার্টিফায়েড প্লাস্টিক ড্রামের গায়ে থাকে একটি ছোট্ট QR কোড। মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করলেই খুলে যায় ড্রামের পরিচয়পত্র। তাতে জানা যায়, এটি কতবার ভরা হয়েছে, জল পরীক্ষার ফলাফল, pH কত, TDS কত, ঠিক কোথায় বোতলজাত করা হয়েছে। শহর জুড়ে থাকা কো-প্যাকিং সেন্টারে বসানো IoT সেন্সর সেই তথ্য নিয়মিত আপডেট করে।
এর কারণ সমস্যাটা শুধু জলের নয়, প্লাস্টিকেরও (Plastic)। একই ড্রাম অসংখ্যবার ব্যবহার হলে মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) মিশে যেতে পারে জলের মধ্যে। যার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে হরমোনজনিত সমস্যা, ক্যানসারের আশঙ্কা। তাই BookWater ৩০ বার ব্যবহারের পর এক ড্রাম আর ব্যবহার করে না। পরে সেই প্লাস্টিকই হয়ে ওঠে নতুন টিশার্ট, নতুন পণ্য - ইকোলাইনের মতো সংস্থার সহযোগিতায়। স্বাস্থ্যরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশকেও যে যত্ন করতে হয়, সেটাই মনে করিয়ে দেয় এই যাত্রা।
জল সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রযুক্তির স্বচ্ছতা - BookWater যেন একসঙ্গে এগিয়ে চলে একাধিক সরকারি লক্ষ্যর সঙ্গে। জল জীবন মিশনের নিরাপদ পানীয় জলের ভাবনা, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা, স্বচ্ছ ভারত ও মেক ইন ইন্ডিয়ার টেকসই উৎপাদন, সবেতেই মিলছে তাদের পদক্ষেপের প্রতিধ্বনি। জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতেও রয়েছে আয়ুষ্মান ভারত-এর ভাবনার ছায়া।
এ মুহূর্তে চেন্নাইয়ের প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রতি মাসে পান ৫০ হাজারেরও বেশি QR-কোডযুক্ত ড্রাম। অনেকেই বলছেন, আগের মতো আর পেটে সমস্যা, জ্বালা বা জলের স্বাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। স্বস্তি যেন জলের মতোই স্বচ্ছ।
এখন প্রস্তুতি বৃহত্তর পরিসরের। কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, দিল্লি, কলকাতা - দেশের নানা শহরে পৌঁছতে চাইছে BookWater। কারণ একই সমস্যা তো দেশের বহু জায়গাতেই, জল আছে, কিন্তু জল নিয়ে ভরসা নেই।
একটি স্ক্যান, কয়েকটি তথ্য, আর একটু সচেতনতা - BookWater দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তি যদি মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে সবচেয়ে সহজ জিনিসটাও নতুন করে নিরাপদ হতে পারে। চেন্নাই আজ যেন সেটাই নতুন করে বুঝছে।