আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গবেষণা বিষয়টি দেখেছেন।

শেষ আপডেট: 28 August 2025 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাবুন তো, রাস্তায় হাঁটছেন, হঠাৎ একটা কাক বিরক্ত করছে। বিরক্ত হয়ে হাত নেড়ে বা চিৎকার করে তাকে তাড়িয়ে দিলেন। ব্যাপারটা নিছকই সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আপনি হয়তো অজান্তেই তৈরি করে ফেললেন এক ভয়ংকর শত্রু, যে আপনার মুখ মনে রাখবে প্রায় দুই দশক! শুধু তাই নয়, তার সঙ্গী-সাথীদেরও শেখাবে আপনাকে চিনতে এবং অপছন্দ করতে।
আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এক আশ্চর্য গবেষণায় দেখেছেন, কাক মানুষের মুখ চিনতে পারে এবং যারা তাদের ক্ষতি করেছে, তাদের প্রতি প্রবল বিদ্বেষ ধরে রাখে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ ড. জন এম. মার্জলাফ ও তাঁর সহকর্মীরা ২০০৫ সালে শুরু করেছিলেন এই পরীক্ষাটি।
গবেষক দলের একাংশ কাক ধরার সময় একটি বিশেষ রাবারের ‘ক্যাভম্যান’ মুখোশ পরে কাজ করতেন। বাকি অংশের গবেষকরা নিরপেক্ষ মুখোশ ব্যবহার করতেন এবং কাকদের বিরক্ত করতেন না।
পরে যখন তাঁরা আলাদা আলাদা মুখোশ পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাঁটতে বেরোতেন, তখন দেখা যেত, কাকেরা ‘বিপদের মুখোশ’-ধারীদের উপর একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, চিৎকার করছে, আকাশ থেকে নামতে নামতে মাথার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, এমনকি লেজুড় ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ নিরপেক্ষ মুখোশ পরা গবেষকরা কোনও আক্রমণই পাননি।
আরও আশ্চর্য হল, যেসব কাক প্রথম দিকে ঘৃণা করত না, তারাও পরে এই দলে যোগ দেয়। স্পষ্ট হয় যে, কাক নিজেদের মধ্যে খবর আদানপ্রদান করে এবং বিপদের মুখ মনে রেখে দলবদ্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেয়। এই প্রক্রিয়াটির নাম দেওয়া হয়েছে “মবিং” অর্থাৎ হুমকিকে ঘিরে ধরে ভয় দেখানো ও আক্রমণ প্রতিহত করা।
কেবল কাক নয়, অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই, কানাডা গিজ, মকিংবার্ড, সিগাল প্রভৃতি পাখিরাও শত্রুকে এভাবে দলবদ্ধ আক্রমণে শায়েস্তা করে। তবে এত দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্বেষ মনে রাখার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কেবল কাকের ক্ষেত্রেই মিলেছে।
কাক শুধু রাগই নয়, খাবারের উৎস, শরীরী ভঙ্গি, এমনকি ‘শেষকৃত্য’-ও পালন করে। মারা যাওয়া সঙ্গীর চারপাশে নীরবে ভিড় করে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায় তাদের। ফলে বিজ্ঞানীদের মতে, কাক শুধু বুদ্ধিমানই নয়, অত্যন্ত আবেগপ্রবণ প্রাণীও বটে।
তাই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি কাককে তাড়াতেও হয়, মনে রাখবেন, হয়তো সেই মুহূর্ত থেকেই গড়ে তুলছেন শত্রু।