ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এআই পরিকাঠামো শক্তপোক্ত করতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 August 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেক ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের ধাক্কা চলছেই। মাইক্রোসফট (Microsoft) ও টিসিএসের (TCS) পর এবার মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকল (Oracle) তাদের বহুল আলোচিত ক্লাউড ইউনিটে কাটছাঁট শুরু করেছে।
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এআই পরিকাঠামো শক্তপোক্ত করতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ রয়েছে। তা সামলাতে এবং খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স-জনিত কারণেও ছাঁটাই হয়েছে।
যদিও ওরাকলের শেয়ার এখন প্রায় সর্বকালীন সর্বোচ্চ দরে ঘোরাফেরা করছে, (মূলত ক্লাউড ব্যবসার জোরে) তবুও সংস্থাটি এখন চাহিদা মেটাতে আমেরিকাতে কয়েকশো একর জমিতে বিশাল সার্ভার ফার্ম তৈরির জন্য দশকোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত মে মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরে সংস্থার ফ্রি ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ হয়ে যায়। গত জুনে এক ফাইলিংয়ে ওরাকল জানায়, তারা সময় অনুযায়ী কৌশলগত পরিবর্তন, পুনর্গঠন বা পারফরম্যান্সের কারণে টিমে পরিবর্তন আনে। এই ধরনের পুনর্গঠনে খরচ বাড়ে এবং কর্মীদের অভ্যস্ত হতে সময় লাগায় প্রোডাক্টিভিটিও কিছুদিন কমে যায়।
একমাত্র ওরাকল নয়, এআই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একাধিক বড় সংস্থা খরচ কমাতে ছাঁটাই করছে। মাইক্রোসফট এ বছর প্রায় ১৫ হাজার পদ বাদ দিয়েছে। অ্যামাজন ও মেটা প্ল্যাটফর্মসও একই পথে হেঁটেছে।
৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে মাইক্রোসফট, যা বিশ্ব জুড়ে তাদের কর্মীসংখ্যার ৪%-এরও কম। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর উদ্দেশ্য হল অপারেশন সরলীকরণ, ম্যানেজমেন্ট স্তর কমানো এবং এআই-কেন্দ্রিক কাজে মনোযোগ বাড়ানো। সিইও সত্য নাদেলা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে "ভারী" হলেও এটি "সাফল্যের ধাঁধা"- প্রযুক্তি শিল্প ক্রমাগত বদলাচ্ছে, সব সময় যুক্তি মেনে নয়। তিনি জোর দিয়েছেন যে মাইক্রোসফটের মিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এআই, এবং নতুন এআই টুল, পণ্য ও সমাধান তৈরিতে জোর দেওয়া হবে।
ভারতের শীর্ষ আইটি সংস্থা টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) প্রায় ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে, যা সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই। মাঝারি থেকে উচ্চ স্তরের পদে এই ছাঁটাই বেশি হচ্ছে। সংস্থার দাবি, এটি মূলত দক্ষতার অমিলের কারণে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এআই-চালিত এক বৃহত্তর প্রবণতার সূচনা, যা আগামী ২–৩ বছরে ভারতীয় আইটি খাতে ৪–৫ লক্ষ চাকরি হারানোর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহারের ফলে বেসিক কোডিং, ম্যানুয়াল টেস্টিং, কাস্টমার সাপোর্ট-এর মতো কাজ দ্রুত অটোমেশন হচ্ছে, যা অনেক বর্তমান কর্মীর দক্ষতার বাইরে। Constellation Research-এর প্রতিষ্ঠাতা রে ওয়াং বলেছেন, “আমরা এমন এক বিরাট পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছি যা হোয়াইট-কলার কাজের ধরন আমূল বদলে দেবে।”
UnearthInsight-এর প্রতিষ্ঠাতা গৌরব বাসু সতর্ক করেছেন, আগামী ২-৩ বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ পেশাদার ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে আছেন, যাঁদের দক্ষতা ক্লায়েন্টের চাহিদার সঙ্গে মেলে না। এর মধ্যে ৭০%-এর অভিজ্ঞতা ৪ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন টেক-দক্ষতাহীন পিপল ম্যানেজার, সফটওয়্যার টেস্টার, এবং বেসিক টেক সাপোর্ট দেওয়া ইন্সট্রাকচার স্টাফ।
বাসু আরও বলেন, “টিসিএসের ছাঁটাই থেকে তৈরি হওয়া ভীতি পর্যটন, বিলাসবহুল কেনাকাটা এবং রিয়েল এস্টেটের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চাহিদা কমাতে পারে।”