বাবা হারানোর পর জীবনের প্রতিটি দিন ছিল সংগ্রাম। মায়ের অবিচল লড়াই ও প্রেরণাতেই আজ অস্ট্রেলিয়ায় নিজের স্বপ্নপূরণের পথে প্রজিত রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছুঁয়ে যাচ্ছে তাঁর গল্প।

প্রজিত রায়
শেষ আপডেট: 11 November 2025 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন প্রজিত রায়। সেই হারানো দিনের পর থেকেই জীবনের প্রতিটি দিন যেন হয়ে উঠেছিল এক একটি যুদ্ধ। সংসার চালাতে মা-ই ছিলেন একমাত্র ভরসা। কিন্তু সমাজ? সমাজের চোখে তাঁরা ছিল শুধুই ‘অসহায়’। বিদ্রূপ, উপহাস, অপমান সবকিছুরই স্বাদ তাঁকে তখনই পেতে হয়েছিল।
তবু সেই আঘাতকে তিনি শক্তিতে বদলে ফেলেছিলেন। যেখান থেকে বেশিরভাগ মানুষ ভেঙে পড়ে, সেখান থেকেই তিনি শুরু করেছিলেন তাঁর ‘অদেখা যাত্রা’।
অস্ট্রেলিয়ায় নিজের নতুন জীবন শুরু করেছেন প্রজিত। পড়াশোনা ও কাজ—দুটোই একসঙ্গে সামলাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের জীবনের নানা ছবি ও ভিডিও দিয়ে তিনি শেয়ার করেছেন সেই সংগ্রামের পথচলা। একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “যে না বলা গল্প, যে যাত্রা কেউ কখনও দেখেনি!”
এই কয়েকটি শব্দেই যেন ধরা পড়েছে তাঁর জীবনের সারমর্ম। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর তাঁকে ও তাঁর মাকে অনেক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেউ সাহায্য করেনি, বরং অনেকেই উপহাস করেছে। কিন্তু মা কখনও হাল ছাড়েননি। ছেলের চোখে সেই মাই-ই আসল হিরো।
এক ফেসবুক পোস্টে প্রজিত লিখেছেন, “বাবার চলে যাওয়ার পর মা চাকরি করেছেন, ছোট ব্যবসাও শুরু করেছিলেন। সমাজ হয়তো একে ব্যর্থ বলবে, কিন্তু আমার কাছে এটা ছিল প্রেরণা। মায়ের ধৈর্যই আমাকে শিখিয়েছে, কখনও চেষ্টা বন্ধ করা যাবে না।”
এই কথাগুলির মধ্যেই বোঝা যায়, তাঁর জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে মায়ের নিঃস্বার্থ ভালবাসা। ইনস্টাগ্রামে তিনি আরও লিখেছেন, “আমি যে আজ সাহস করে স্বপ্ন দেখি, যে ঝুঁকি নিই—সবই সম্ভব হয়েছে মায়ের বিশ্বাস ও প্রার্থনার জন্য। তিনি একজন যোদ্ধা। তিনি আমার চিরন্তন হিরো। আমি তাঁকে ‘ঘর’ বলি। কিন্তু নিজের ঘর তৈরি করতে আমাকে ঘর ছাড়তে হয়েছে।”
আজ প্রজিত রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে গড়ে তুলেছেন নিজের পথ। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ৪০,০০০-এরও বেশি। সেখানে নিয়মিত তিনি ভাগ করে নেন নিজের নতুন জীবনের গল্প, মা-কে নিয়ে নানান কথা, কিংবা বলিউড অভিনেতা অনিল কাপুরের সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতি।
তাঁর এই যাত্রা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে। প্রজিতের এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে নেটপাড়া যেমন মুগ্ধ, তেমনই আবেগপ্রবণও।
একজন কমেন্ট করেছেন, “খুব অনুপ্রেরণামূলক, ভাই। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব সংগ্রাম আছে। তুমি করে দেখিয়েছো!”
আরেকজন লিখেছেন, “তোমার বাবা উপরে থেকে নিশ্চয়ই গর্বিত। তুমি জিতেছো, ভাই!”। অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন তিনি তাঁর মাকে নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যান। উত্তরে প্রজিত জানিয়েছেন, “আমার পড়াশোনা শেষ হলে আমি অবশ্যই মাকে নিয়ে যাব।”