হার্ভার্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাভি লোবের মতে, 3I/ATLAS-এর অতিরিক্ত গতির কারণ হতে পারে এর ভেতর থেকে গ্যাস ও ধূলিকণা বেরিয়ে যাওয়া। তিনি বলেছেন, এতে এক মাসের মধ্যে বস্তুটি তার মোট ভরের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ হারাতে পারে।

রহস্যে ঘেরা 3I/ATLAS এখন মহাকাশের 'অতিথি'
শেষ আপডেট: 10 November 2025 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন নজর রেখেছেন এক রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর দিকে- 3I/ATLAS। এটি আমাদের সৌরজগতের বাইর থেকে আসা এক বিশেষ অতিথি (interstellar comet), যার আচরণে দেখা যাচ্ছে আশ্চর্য পরিবর্তন। জুলাই মাসে চিলির একটি টেলিস্কোপে এটি প্রথম ধরা পড়ে। এটি এখন পর্যন্ত তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু, ওমুয়ামুয়া এবং বোরিসভের পর। নাসা জানিয়েছে, পৃথিবীর জন্য এটি কোনো বিপদের কারণ নয়। ডিসেম্বর মাসে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে যাবে, প্রায় ২৬.৯ কোটি কিলোমিটার দূর দিয়ে।
গতি বাড়ছে, রঙ বদলাচ্ছে
অক্টোবরের শেষের দিকে 3I/ATLAS হঠাৎ খুব উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং নীলচে রঙ ধারণ করে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এর গতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের টানের বাইরে থেকেও কোনও অজানা শক্তি এটিকে আরও দ্রুত ঠেলে দিচ্ছে, যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা
হার্ভার্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাভি লোবের মতে, 3I/ATLAS-এর অতিরিক্ত গতির কারণ হতে পারে এর ভেতর থেকে গ্যাস ও ধূলিকণা বেরিয়ে যাওয়া। তিনি বলেছেন, এতে এক মাসের মধ্যে বস্তুটি তার মোট ভরের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ হারাতে পারে। লোব আরও জানান, চিলির ALMA টেলিস্কোপে এই বস্তুর গতিপথে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে, যা তার মতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
রঙ পরিবর্তনের বিষয়ে লোয়েল অবজারভেটরির কিচেং ঝাং জানান, আসলে এটি একবারই রঙ বদলেছে, যখন সূর্যের তাপে এর গ্যাসীয় আবরণ বা ‘গ্যাস কোমা’ দৃশ্যমান হয়েছিল। এর ফলে এটি নীল-সবুজ আভা পেয়েছে।
রঙ পরিবর্তন নিয়ে লোয়েল অবজারভেটরির কিচেং ঝাং বলেন, "3I/ATLAS আসলে একবারই রঙ বদলেছে, যখন সূর্যের তাপে এর গ্যাসের স্তর বা ‘গ্যাস কোমা’ স্পষ্ট হয়েছিল। তখন এটি নীল-সবুজ আভা পায়।" সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল, সূর্যের কাছ দিয়ে যাওয়ার পরও এই ধূমকেতুর লেজ বা 'টেল' একেবারেই দেখা যায়নি। সাধারণত সূর্যের তাপে ধূমকেতু থেকে গ্যাস ও ধূলিকণা বেরিয়ে উজ্জ্বল লেজ তৈরি করে, কিন্তু এক্ষেত্রে তা ঘটেনি।
অ্যাভি লোব বলেন, "বস্তুটির প্রায় ১৩ শতাংশ ভর লেজ আকারে দেখা যাওয়ার কথা, কিন্তু কোনও লেজ না দেখা যাওয়াটা সত্যিই রহস্যজনক।" অ্যাভি যদিও কৃত্রিম উৎসের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি, তবে তিনি মনে করেন প্রাকৃতিক ব্যাখ্যাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) আগামী ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এটির পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে, যখন এটি বৃহস্পতি গ্রহের দিকে অগ্রসর হবে।
3I/ATLAS নামটি এসেছে চিলির ATLAS টেলিস্কোপ সার্ভে টিম থেকে (ATLAS telescope Chile), যারা এটি প্রথম আবিষ্কার করেছিল। নামের ‘I’ মানে Interstellar, অর্থাৎ এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনও স্থান থেকে এসেছে। আর ‘3’ মানে বোঝায়, এটি এমন তৃতীয় বস্তু যা অন্য নক্ষত্রমণ্ডল থেকে এসেছে। বর্তমানে দাঁড়িয়ে এই অজানা অতিথিই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু, আর তার প্রতিটি পরিবর্তন নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে থাকা রহস্য নিয়ে।