অভিভাবকরাই দায়ী, ইন্টারনেটের এক অংশের দাবি (parenting debate after viral wedding video)। অন্য পক্ষের প্রশ্ন, এটা কি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া নয়?

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 November 2025 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের অনুষ্ঠান (wedding) মানেই হৈচৈ, ভিড়, একরাশ আলো আর নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তকে নিখুঁত করে রাখার চেষ্টা। কিন্তু সব বিয়েবাড়িতেই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি হয় যা হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু (wedding related controversy)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও (viral video) তুলে ধরেছে এমন এক ঘটনা, তাতে বাচ্চাদের মা-বাবাদের জন্য রয়েছে কড়া সতর্কবার্তা (parenting)।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাজানো গোছানো ফটোশ্যুটের মাঝে হঠাৎ ঢুকে পড়া একটি দুরন্ত বাচ্চাকে চড় মারলেন বর। তারপর সেই ভিডিওতেই দিলেন অভিভাবকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা। সেটিই এখন ভাইরাল এক্স–এ, আর তা নিয়ে যত তর্ক-বিতর্ক (parenting debate after viral wedding video)!
বিয়েবাড়ি মানেই সেখানে নানা অনুষ্ঠান, আর সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে বাচ্চাদের দাপাদাপি। অনেকেই বিরক্ত হন, কিন্তু বাচ্চা ভেবে কিছু বলতে পারেন না। অনেকে এখানে দায়ী করেন বাচ্চার বাবা-মাকে যে, তাঁরা নিজের সন্তানকে ঠিক করে সামলাতে পারছেন না কেন! অনেকের কাছেই সেই বিরক্তি চরমে পৌঁছয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্টেজে সাজানো হয়েছে অভিনব এক সেট, নকল নোটের বৃষ্টি পড়ছে বর–কনের ওপর। ছবি তোলা হচ্ছে বিয়ের ফটোশ্যুটের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে। বর-কনে ক্লান্ত, কিন্তু বসে পোজ দিচ্ছেন যথাসম্ভব। ওই সময়েই এক শিশু সেট ভেঙে ছুটে এসে মুড়ি–মুড়কির মতো নকল নোট কুড়োতে শুরু করে। আচমকাই বিরক্ত হয়ে বর থাপ্পড় মারেন শিশুটিকে।
পরে তিনি অভিভাবকদের বলেন, “আপনে আপনে বাচ্চো কো আপনে পাস বিঠায়ে, পয়সে কম হ্যায় তো হমসে লে জায়িয়ে, শো খারাব মত কিজিয়ে়।” অর্থাৎ, “আপনারা আপনার সন্তানদের কাছে রাখুন। টাকার দরকার হলে আমাদের কাছে আসুন, কিন্তু শো নষ্ট করবেন না।”
Groom loses cool
As a kids crash his photoshoot, warns parents to control them. Video goes viral - sparks debate pic.twitter.com/S0A56KzMfg— MemeCreaker (@MemeCreaker) November 25, 2025
এই কথোপকথন মুহূর্তে বিতর্ক তৈরি করেছে, বিয়েতে শিশুদের আচরণ নিয়ে দায় কি অভিভাবকদের? নাকি বিয়েবাড়িতে শিশুরা থাকবেই, তাই এমন প্রতিক্রিয়া অপ্রকাশ্য?
‘অভিভাবকরাই দায়ী’ - ইন্টারনেটের এক অংশের দাবি
একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিয়েবাড়ি সবার। ছোট বাচ্চা আনলে দায়িত্বও সঙ্গে আসে। কিউট হওয়া ঠিক আছে, বিশৃঙ্খলা নয়। সন্তানের দুষ্টুমি দেখে হেসে নেওয়া মানে তাকে শেখানো, তোমার কোনও সীমা নেই। যা খুশি তাই করতে পারো না, সন্তানকে বাবা-মায়ের এটা বোঝানো দরকার।”
একাংশের মতে, কোনটা ঠিক–ভুল, সেটা শিশু জানে না। শেখানোর দায়িত্ব অভিভাবকদেরই। সামাজিক অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা শেখানোও শিষ্টাচারের অংশ। আর বাচ্চা কিছু ভাঙলে বা ঝামেলা করলে হেসে উড়িয়ে দিলে সেটা অভিভাবকদের ওপরই খারাপ প্রভাব ফেলে। এমনকী কেউ কেউ বরের থাপ্পড়কেও ‘শিক্ষা দেওয়া’ বলে সমর্থন করেছেন।
এমন মন্তব্যও এসেছে, “ঠিক করেছে। বাচ্চাকে সামলাতে পারেন না? বাড়িতেই রাখুন।”
অনেকে আবার বলেন, বর–কনের বিশেষ মুহূর্ত ভেঙে দিলে অতিথিদেরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। বিয়ে জীবনের একবারের ঘটনা, অতিথিদের উচিত তা নষ্ট না করা।
অন্য পক্ষের প্রশ্ন, চড় মারা কি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া?
আবার বিপরীত শিবিরের প্রশ্ন, এভাবে অতিথিদের সামনে শিশুকে চড় মারা কি ঠিক?
এক মন্তব্য বলছে, “বর খুবই কন্ট্রোলিং মনে হচ্ছে। আশা করি স্ত্রীকে এভাবে সহ্য করতে হবে না।” অনেকেই মনে করছেন, এ এমন এক ‘রেড ফ্ল্যাগ’, যা ভবিষ্যতে সম্পর্কেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারও কথায়, “অনেকে ভাবেন প্রেম বা বিয়ে সব সমস্যা সারিয়ে দেবে। কিন্তু রেড ফ্ল্যাগ থাকে একই। স্টেজে বাচ্চাকে মারলে, একদিন স্ত্রীকেও মারবে।”
অতিথিদের প্রতি অসম্মানের অভিযোগও এসেছে। কেউ লিখেছেন, “অতিথি ডাকলে সম্মানও দিতে হয়। না পারলে অতিথি ডাকবেন না।” আরও একজন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বাড়িতে অনুষ্ঠান করতেন, ইউটিউবে লাইভ চালিয়ে দিতেন, তা হলেই হল।”
‘বিয়ে মানেই সামাজিক অনুষ্ঠান, বাচ্চারা থাকবেই’ - অনেকেই মনে করালেন
আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “অতিথি ডাকলে সেটা সামাজিক অনুষ্ঠান। বাচ্চারাই সেখানে সবচেয়ে নির্ভার, আনন্দে থাকে। অভিভাবকদের লজ্জা দেওয়ার কী প্রয়োজন? বিয়ে মানেই এমন কিছু মুহূর্ত, সেখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।”
মোট কথা, ভিডিওটি একদিকে যেমন ‘শিশুদের নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে বিতর্ক তুলেছে, অন্যদিকে ‘রাগ নিয়ন্ত্রণ’, ‘সম্পর্কে সহিষ্ণুতা’, ‘অভিভাবকদের ভূমিকা’, এমনকি ‘অতিথি সম্মান’ - বহু স্তরে ভাগ করে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে।