এআই দিয়ে শুধু শিক্ষাব্যবস্থাই ডিজিটাল হয়নি, পড়ুয়াদেরদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে এই প্রকল্প।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 17 July 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অঙ্ক যেন একটা দুঃস্বপ্ন ছিল। পরীক্ষার নাম শুনলেই গলা শুকিয়ে যেত। কিন্তু এখন, প্রতিদিন নিজেই রিভিশন করি’,— বলছে রাজস্থানের টোঙ্ক জেলার ক্লাস ১০-এর ছাত্র অমন গুজর। হাজার চেষ্টাতেও যেখানে আগের নম্বর ছিল কিছুতেই ৫৫-এর ওপরে উথছিল না, সেখানে এই বছর সে পেয়েছে ৬৫। আর এই বদলের নেপথ্যে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI।
টোঙ্ক জেলার জেলাশাসক আইএএস অফিসার সৌম্যা ঝা-র উদ্যোগে ‘পড়হাই উইথ এআই’ (Padhai with AI) নামের এক অভিনব শিক্ষা প্রকল্পে ৩৫০-র বেশি সরকারি স্কুলে চালু হয়েছে এআই-চালিত শিক্ষাব্যবস্থা। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের কাছে অঙ্কের মতো ‘দুর্বোধ্য এবং ভয়ঙ্কর’ বিষয়টিকে সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।
টোঙ্কের স্কুলগুলিতে বহু পড়ুয়ার মধ্যেই অঙ্কে ভয় ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল। অনেকেই বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি নিয়ে পড়তে চাইলেও অঙ্ক না পারার ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছিল। জেলাশাসক সৌম্যা জানান, “আমি লক্ষ্য করেছিলাম, পড়ুয়ারা স্বপ্ন দেখছে এআই, রোবটিক্স বা ড্রোন নিয়ে কাজ করার, অথচ অঙ্কের ভয়ের কারণে কেউ সায়েন্স স্ট্রিমই নিচ্ছে না। সেখান থেকেই ভাবনা আসে— যদি এআই দিয়েই এআই-কে শেখা যায়?”

এআই-চালিত এই ডিজিটাল টিউটর বাংলা ও ইংরেজিতে প্রশ্ন বুঝিয়ে দেয় ধাপে ধাপে। কোনও সমস্যা বুঝতে না পারলে নতুন করে ব্যাখ্যা দেয়। এআই শিক্ষকদেরও সাহায্য করে— যেমন নিজে থেকেই তৈরি করে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, অনুশীলনের সেট, এমনকী ছাত্র অনুযায়ী কাস্টমাইজড প্রশ্নও।
২০২৫ সালের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় টোঙ্ক জেলায় পাশের হার দাঁড়ায় ৯৬.৪ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণের হারও বেড়ে ২৩% থেকে ২৮.২৩% হয়েছে। এই সময়ে রাজ্যের গড় উন্নতি ছিল মাত্র ১ শতাংশ (৯২% থেকে ৯৩%)। অর্থাৎ, মাত্র ৬ সপ্তাহে চালু হওয়া ‘পড়হাই উইথ এআই’ (Padhai with AI) প্রকল্প টোঙ্কের শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
সৌম্যা ঝা ২০১৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার। ইউপিএসসি (UPSC) প্রস্তুতির সময় নিজের পড়াশোনায় এআই-এর সাহায্য নিয়েছিলেন। পরে জেলাশাসক হওয়ার পর প্রশাসনিক কাজ শিখতেও এআই-এর ওপর নির্ভর করেন মাঝে মাঝে।

তাঁর কথায়, “যাঁদের কাছে ভাল কোচিং নেই, এআই তাঁদের শিক্ষক হতেই পারে। সেটা ভাবতে ভাবতেই প্রকল্পটা শুরু করি। এখন সেটা শুধু অঙ্কে নয়, আস্তে আস্তে ইংরেজি ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও চালু করার কথা ভাবছি।”
'Padhai with AI' কী কী সুবিধা দিচ্ছে?
• বাই-লিঙ্গুয়াল AI টিউটর: হিন্দি ও ইংরেজিতে প্রশ্ন বোঝায়
• কাস্টম প্রশ্ন সেট: ছাত্র অনুযায়ী প্রশ্ন কঠিনতা নির্ধারণ
• পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং: ছাত্রদের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে AI সাজায় পরবর্তী অনুশীলন
• সাপ্তাহিক টেস্ট, রিভিশন ও বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্ট
• শিক্ষকদের জন্য টুলস: প্রশ্ন তৈরি, মডেল টেস্ট
এআই দিয়ে শুধু শিক্ষাব্যবস্থাই ডিজিটাল হয়নি, পড়ুয়াদেরদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে এই প্রকল্প। যে বিষয় একসময় ছিল ভয়ের কারণ, সেটাই এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে প্রিয়। সৌম্যার কথায়, “এআই যদি প্রশাসককে সাহায্য করতে পারে, তবে ছাত্রদেরও পথ দেখাতে পারে।”