আপনি কি এমন কোনও চাকরি করছেন, যা আপনাকে মানসিক শান্তি আর তৃপ্তি দেয়? নাকি সকালে উঠে অফিসে যেতে মনই চায় না?

আপনিও কি খুশি আপনার পেশা নিয়ে?
শেষ আপডেট: 21 May 2025 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনি কি এমন কোনও চাকরি করছেন, যা আপনাকে মানসিক শান্তি আর তৃপ্তি (Job satisfaction) দেয়? নাকি সকালে উঠে অফিসে যেতে মনই চায় না? সম্প্রতি এস্তোনিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ টার্তু-এর এক গবেষণায় এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বার করা হয়েছে, আর তার ফলাফল কিন্তু বেশ চমকপ্রদ।
জানেন কী বলছে সেই গবেষণা (study)?
গবেষকরা প্রায় ৫৯,০০০ জনের পেশাগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন, যারা ২৬৩টি ভিন্ন পেশা সঙ্গে যুক্ত। অংশগ্রহণকারীরা এস্তোনিয়ান বায়োব্যাঙ্ক নামক একটি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের থেকে পেশা, আয়, ব্যক্তিত্ব এবং জীবন নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট তাঁরা- এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয় এমন চাকরিগুলোর তালিকায় কারা আছেন?
গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় গুরু, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যাঁরা এবং লেখক- এইসব পেশার মানুষরা তাদের কাজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট। অর্থ বা সামাজিক মর্যাদা নয়- বরং জীবনে অভিজ্ঞতা অর্জনের অনুভূতি, জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার মতো কাজ এবং অন্যের জীবনে একটু হলেও ভাল ছাপ ফেলে যেতে পারার সুযোগ- এই সবকিছুই জীবনে পরিতৃপ্তির আসল উৎস।

এছাড়াও মনোবিদ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক, চিকিৎসাজগতের কর্মী তাদের পেশা নিয়ে বিশেষ ভাললাগা বোধ করেন।

কম স্যাটিসফ্যাকশন দেয় কোন পেশা?
অন্যদিকে, কিচেন সংক্রান্ত কাজ, ট্রান্সপোর্ট, ম্যানুফ্যাকচারিং, স্টোরেজ, সেলস এবং সার্ভে ইন্টারভিউয়ারদের মতো পেশার মানুষেরা সবচেয়ে কম ভাল বোধ করেন তাঁদের পেশা নিয়ে। বিশেষ করে নিরাপত্তাকর্মী, ওয়েটার, কাঠমিস্ত্রি, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং পিয়নদের পেশাগত জীবন থেকে পাওয়া তৃপ্তির মাত্রা অত্যন্ত কম।
গবেষণা বলছে, এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ স্ট্রেস বা চাপ। চাপের শিডিউল, অতিরিক্ত চাপের কাজের পরিবেশ এবং দায়িত্বভার- এই তিনটি কারণে অনেক সময় মানুষ কাজ থেকে মানসিক দূরত্ব অনুভব করে।

তাহলে প্রশ্ন উঠবে, টাকা কি মানসিক শান্তির কাছে কিছুই নয়?
সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো- বেশি স্যালারি বা চাকরিতে বড়সড় পোস্ট তেমনভাবে পেশাগত তৃপ্তির সঙ্গে জড়িত নয়। গবেষণা দলের প্রধান কাটলিন অ্যানি বলেন, ‘আমরা আগে ভাবতাম সম্মানজনক পেশাগুলোর সঙ্গে বেশি তৃপ্তি জড়িয়ে থাকবে, কিন্তু সেটার ক্ষেত্রে খুব সামান্যই যোগসূত্র দেখা গেছে।’
এর পরিবর্তে স্বাধীনতা, ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতা, এবং কিছু অ্যাচিভ করার অনুভূতি- এসবই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের কাছে। সম্ভবত এই জন্যই নিজের ব্যবসা বা স্বনিযুক্ত পেশার মানুষরা তাঁদের কাজ নিয়ে বেশি খুশি থাকেন। কারণ তাঁরা কাজের চাপের মাঝেও নিজেদেরত মতো করে সময় বার করে নিতে পারেন।

এই গবেষণার ফলাফল কি পুরো বিশ্বে প্রযোজ্য?
গবেষকরা একথাও জানিয়েছেন, এই ফলাফল পুরোপুরি সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নির্ভরশীল। এস্তোনিয়ার কাজের পরিবেশ, সামাজিক মূল্যবোধ ও পেশাগত সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকায় এই গবেষণা অন্য দেশে একদম হুবহু খাটবে না। তবে একটি ব্যাপার স্পষ্ট- চাকরি মানেই শুধু টাকা নয়, বরং মানসিক শান্তি, জীবনে কোনও একটা বিশেষ উদ্দেশ্য ও প্রতিদিনের অভিজ্ঞতাই মানুষকে আসল অর্থে খুশি রাখে।
তাই পরিশেষে এই গবেষণা একটা বিশেষ কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, আপনি যদি নিজের কেরিয়ার নিয়ে ভাবেন বা নতুন চাকরির খোঁজে থাকেন তাহলে শুধু স্যালারি আর বিশেষ পোস্ট নয়, নিজের মানসিক চাহিদা ও মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিন। যে পেশায় আপনি নিজেকে মূল্যবান মনে করবেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, এবং প্রতিদিন শেখার সুযোগ পাবেন- সেখানেই খুঁজে পাবেন জীবনের হাজার কাজের মাঝেও খুশি থাকার আসল রহস্য।