গবেষণা বলছে, কিছু পেশায় AI-র সরাসরি হস্তক্ষেপ ঘটছে, এবং ভবিষ্যতে তা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে চ্যাটবটের দখলে চলে যেতে পারে। রেলিভেন্স স্কোরও প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 July 2025 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিতেও আর নিশ্চিন্তি নেই। কারণ আপনার কাজ তো এখন চ্যাটবটও করতে পারে, তাও নিখুঁত ভাবে। মাইক্রোসফটের এক সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এমন অন্তত ৪০টি চাকরি আছে, যা আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দখলে চলে যেতে পারে। লেখক, অনুবাদক, কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি - এমন অনেক রকম কাজই এই তালিকায় রয়েছে।
এই গবেষণায় কোপাইলট (Copilot) নামের মাইক্রোসফট চ্যাটবটের উপর ২ লক্ষের বেশি অনামী ব্যবহারকারীর ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এই রিপোর্ট। গবেষকরা জানাচ্ছেন, যেসব পেশায় মূলত তথ্য বিশ্লেষণ বা যোগাযোগের ওপর জোর দেওয়া হয়, AI সেই কাজগুলি বেশ ভালভাবেই করতে সক্ষম।
কোন চাকরি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে? কী বলছে গবেষণা?
মাইক্রোসফটের গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু পেশায় AI-র সরাসরি হস্তক্ষেপ ঘটছে, এবং ভবিষ্যতে এইসব কাজ সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে চ্যাটবটের দখলে চলে যেতে পারে। সেই সংক্রান্ত রেলিভেন্স স্কোরও প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে টিকিট এজেন্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়ার কর্মীরা।
চ্যাটবট কীভাবে কাজ ‘কেড়ে’ নিচ্ছে?
AI চ্যাটবট যেমন ChatGPT বা Copilot অনায়াসেই পারে ডেটা সারাংশ তৈরি করতে, রিপোর্ট লিখতে, প্রশ্নের উত্তর দিতে কিংবা কাস্টমারকে গাইড করতে। এগুলোই এখন বহু পেশার দৈনন্দিন কাজের অঙ্গ।
গবেষণার বক্তব্য, এসব পেশায় মানুষের দক্ষতা ও AI-এর ক্ষমতার মধ্যে তফাত খুব কম, ফলে ভবিষ্যতে এই কাজের জন্য হয়তো আর মানুষের প্রয়োজন নাও হতে পারে। গবেষকরা যদিও সরাসরি বলেননি যে, এইসব কাজ থেকে সবাই চাকরি হারাবেন। তবে যাঁদের কাজ AI সহজেই নকল করতে পারে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বদলাতে পারে দ্রুত।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, AI হয়তো কিছু কাজ কেড়ে নেবে ঠিকই, কিন্তু তৈরি করবে নতুন ধরনের দক্ষতাভিত্তিক কাজ, যেখানে মানুষ ও যন্ত্র একসঙ্গে কাজ করবে।
কী করতে পারেন?
নতুন স্কিল শেখা শুরু করুন: বিশেষ করে যেসব কাজ শুধু মানুষের আবেগ, বিশ্লেষণক্ষমতা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর নির্ভর করে - সেগুলিতে ফোকাস করুন।
AI-এর সঙ্গে কাজ করতে শিখুন: যারা AI-কে ভয় না পেয়ে ব্যবহার করতে শিখছেন, ভবিষ্যতের চাকরির দুনিয়ায় তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েশন, কমিউনিকেশন, সফট স্কিল ও ডেটা অ্যানালিটিক্স: এই স্কিলগুলোর দিকে বেশি নজর দিন।