পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে (Latvia men shortage), সেখানে অনেকেই বাধ্য হয়ে ‘এক ঘণ্টার জন্য স্বামী’ (husband for an hour) ভাড়া নিচ্ছেন, যিনি ঘরদোরের কাজ সামলাবেন।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 6 December 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শোনা যাচ্ছে, পুরুষ নাকি কম পড়িয়াছে! ইউরোপের ছোট্ট এক দেশ লাটভিয়া (Latvia), সেখানেই এমন অদ্ভুত সংকট। দেশটিতে পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে (Latvia men shortage), সেখানে অনেক মহিলাই এখন বাধ্য হয়ে ‘হাজব্যান্ড ফর অ্যান আওয়ার’ অর্থাৎ ‘এক ঘণ্টার জন্য স্বামী’ (husband for an hour) ভাড়া নিচ্ছেন, যিনি কিনা হাতে হাত মিলিয়ে ঘরদোরের কাজ সামলাবেন। ব্রিটেনের 'দ্য সান'–এর প্রতিবেদন বলছে, এই বিশেষ পরিষেবার চাহিদা লাটভিয়ায় চোখে পড়ার মতো বেড়েছে (rented husbands demand Europe)।
ইউরোস্ট্যাট জানাচ্ছে পুরুষ-নারীর এই ভয়াবহ অসমতা
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, লাটভিয়ায় পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা ১৫.৫% বেশি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় লিঙ্গ-বৈষম্যের (gender imbalance in Latvia) তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অসমতা আরও প্রকট।
ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস বলছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মহিলার সংখ্যা পুরুষের প্রায় দুই গুণ। অর্থাৎ, জনসংখ্যার ভারসাম্য শুধু কাগজে-কলমে নয়, রোজকার জীবন, কর্মক্ষেত্র, সামাজিক পরিবেশ - সব জায়গাতেই এই অভাব স্পষ্ট।
'গোল্ডেন হ্যান্ডস' খুঁজছেন লাটভিয়ার মহিলারা
এই ঘোর বাস্তব সমস্যায় ছাপ ফেলেছে স্থানীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিও। 'Komanda24'–এর মতো প্ল্যাটফর্মের পরিষেবায় মিলছে 'মেন উইথ গোল্ডেন হ্যান্ডস' (Men With Golden Hands) - যাঁরা বাড়িতে এসে করে দিচ্ছেন প্লাম্বিং, কাঠমিস্ত্রির কাজ, টুকটাক মেরামত - সবটাই। এর জন্য ডেটিং, ফ্লার্টিং বা অস্বস্তিকর সামাজিক যোগাযোগের প্রয়োজন নেই।
আরেকটি পরিষেবা Remontdarbi.lv - বেশ জনপ্রিয়, যেখানে অনলাইনে বা ফোনে বুক করলেই ‘এক ঘণ্টার স্বামী’ চলে আসেন মাত্র ৬০ মিনিটে। তাঁদের কাজ - দেওয়াল রং করা থেকে শুরু করে পর্দা লাগানো, আসবাবপত্রের টুকটাক মেরামত হোক বা ছোটখাটো যেকোনও কাজ। বলাই বাহুল্য, পুরুষের অভাব আর সেখানে তৈরি হওয়া বড় একটা শূন্যস্থানই পূরণ করছে এই পরিষেবা।
কর্মক্ষেত্রে পুরুষের অনুপস্থিতি আরও স্পষ্ট
দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দানিয়া নামের এক মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর অফিসে অধিকাংশ সহকর্মীই মহিলা। কাজের পরিবেশ ভাল হলেও, তাঁর মতে, লিঙ্গ অনুপাত যদি কিছুটা সমান হতো, তবে সামাজিক যোগাযোগ, একসঙ্গে কাজ - সবই আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারত।
দানিয়ার বন্ধু জেনের কথায়, “দেশে পুরুষই নেই যথেষ্ট। তাই অনেক মেয়ে লাটভিয়া ছেড়ে অন্য দেশে যাচ্ছেন শুধুই জীবনসঙ্গী খুঁজতে।”
কেন কমছে লাটভিয়ার পুরুষ - কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ, লাটভিয়ার পুরুষদের গড় আয়ু কমে যাওয়ার জন্যই এই লিঙ্গ-বৈষম্য তীব্রতর হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের তথ্য বলছে,
লাইফস্টাইল সংক্রান্ত এইসব কারণগুলি দীর্ঘমেয়াদে পুরুষদের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
শুধু লাটভিয়াই নয় - ‘ভাড়ার স্বামী’ জনপ্রিয় হচ্ছে আরও দেশে
এই ট্রেন্ড শুধু যে কেবল লাটভিয়াতেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তা নয়। ২০২২ সালে ব্রিটেনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন লোরা ইয়াং নামের এক মহিলা। তিনি ছোটখাট কাজ বা অতিরিক্ত উপার্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর স্বামী জেমসকে ভাড়া দেওয়া শুরু করেন।
তাঁদের ব্যবসার নাম, Rent My Handy Husband। জেমস ছোটখাট হাতের কাজ, পেইন্টিং, টাইল বসানো, কার্পেট লাগানো ইত্যাদি। বদলে দিতে হবে ঘণ্টা প্রতি ৪৪ ডলার, আর এক দিনের জন্য ভাড়া চাইলে ২৮০ ডলার। জনপ্রিয়তা এমনই বেড়েছে যে, সময়ের অভাবে বহু কাজ ফিরিয়েও দিতে হয়েছে তাঁদের।