যেখানে মানুষ শুধু খেতে আসে না, ছবি আঁকে, লেকচার অ্যাটেন্ড করে, পটারি শেখে যাকে বলে পটারি কাফে, কবিতা-গল্প পাঠের আসর বসে, এক জায়গায় বসে থিয়েটার কিংবা সিনেমা দেখে।

এখানেই তৈরি হয় নতুন নতুন বন্ধুত্বের লম্বা সরণিতে ঠিকানা জোগাড় করে রাখা।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লাব-রেস্তরাঁয় গিয়ে যদি দেখেন, সেখানে কোনও জ্যোতির্পদার্থ বিজ্ঞানী একদল তরুণ-তরুণীর সামনে বিয়ারের গ্লাস হাতে অ্যাকাডেমিক লেকচার দিচ্ছেন। কিংবা একদল অপরিচিত মুখ আপনার পরিচিত কফি শপে বসে কোনও বোর্ড গেমের দিকে উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে খেলছেন, তাহলে অবাক হবেন না। দেশের কফি শপ, রেস্তরাঁ, ক্লাবের সংজ্ঞাই বদলে যাচ্ছে এ যুগে। এগুলি কেবলমাত্র খাওয়াদাওয়া ও চা-কফি পানের জায়গা নেই। এই আধুনিক খানাপিনার আস্তানায় এখন বদলে যাচ্ছে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। যেখানে মানুষ শুধু খেতে আসে না, ছবি আঁকে, লেকচার অ্যাটেন্ড করে, পটারি শেখে যাকে বলে পটারি কাফে, কবিতা-গল্প পাঠের আসর বসে, এক জায়গায় বসে থিয়েটার কিংবা সিনেমা দেখে। এখানেই তৈরি হয় নতুন নতুন বন্ধুত্বের লম্বা সরণিতে ঠিকানা জোগাড় করে রাখা।
একটি জনপ্রিয় বার চেন সোশ্যাল গত অগস্টে বেঙ্গালুরুর ইন্দিরা নগরের ঠেকে একটি লেকচারের আয়োজন করেছিল। যার বিষয় ছিল ব্যাটস অ্যান্ড বুজ। এই আলোচনাসভায় অংশ নিয়েছিলেন বাঁদুড় বিশেষজ্ঞ তথা পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মী ডঃ রোহিত চক্রবর্তী। প্রচারের শুরুতেই এই শোয়ের টিকিট হট কেকের মতো উবে যায়। এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পক ছিল পিন্ট অফ ভিউ নামে একটি সংস্থা। যারা এখন দেশের সব প্রান্তের বারে এ ধরনের লেকচারের আয়োজনে নেমেছে।
এদেরই দিল্লির টিম সোশ্যাল, সাকেতে এরকমই একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সেপ্টেম্বরে। যেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তথা বিজ্ঞানী ডঃ রম্যা আহুজা প্রশ্নোত্তরমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। বিষয় ছিল- হাউ আই মেট ইওর ম্যাটার। এই সেমিনারে প্যাকেজিং থেকে পোশাক এমনকী কফি মগের মতো প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের গোপন পৃথিবীর সুলুক সন্ধান দেন।
প্রাপ্তবয়স্করা ককটেলে একটি বা দুটি চুমুক দিচ্ছেন আর অফুরন্ত জ্ঞানের পানীয় গলাধঃকরণ করছেন। সেখানে তাঁদের বন্ধুত্বের দরজা আরও চওড়া হচ্ছে। যা তাঁদের কাছে একেবারে নতুন। রেস্তরাঁগুলিও একই ফরম্যাটে দৌড়চ্ছে। সেখানে সৃজনমূলক কাজের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। রেস্তরাঁয় বসে আঁকা শেখা কিংবা কফি মগ পেন্টিং এমনকী মাটির জিনিস তৈরি করার ওয়ার্কশপ কাম ইটিং-ডাইনিং সুবিধা মিলছে। দলে মিলে বাইরে মজা করা অথবা নতুন প্রেমের প্রথম দৃষ্টির মধ্যেও মিলছে নতুনত্বের তীব্র সুগন্ধ।
শুধু হাসিঠাট্টা নয়, মজা-আয়েশের মাঝেও খুলছে নতুন কোনও জ্ঞানের দরজা। অনেক রেস্তরাঁ এখন রান্নার ক্লাসও নিচ্ছে খাওয়ার ফাঁকে। লিও-র পিৎজেরিয়া পিৎজা তৈরির ক্লাস নিচ্ছে প্রতি রবিবার। কলকাতাতেও গড়ে উঠছে এরকম নতুন নতুন কনসেপ্ট রেস্তরাঁ-পানশালা। কেউ কেউ সুশি তৈরিতে আপনার হাত পাকিয়ে দিচ্ছে। রেস্তরাঁ ব্যবসা ও পানশালার ম্যানেজাররাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, যত দিন যাচ্ছে ততই খাওয়াদাওয়ার বাইরে অ্যাক্টিভিটির দিকে গ্রাহকদের নজর কাড়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের মতে, এখন কেউ শুধু খেতে আসতে চাইছে না। তারা চায় যোগাযোগ বাড়াতে, আবিষ্কার করতে, আবেগের যথার্থ ফসল ফলাতে। যে কারণে আঁকার রাত, সুশি তৈরি শিখুন, এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণীয় সন্ধ্যা চাইছে।
আগে পানশালা মানে ছিল ক্যাবারে ডান্স। এখন তাতে অনাগ্রহ রয়েছে নয়া প্রজন্মের। সে কারণে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে ছোট ছোট নাটিকা। যাতে অভিনয় করছেন গুণী শিল্পীরা। সামনের টেবিলে রকমারি খাবার সঙ্গে তরলে চুমুক দিতে দিতে হাস্যকৌতুক হোক বা ব্যঙ্গ রাজনৈতিক নাটিকা দেখতে কার না আমোদ লাগে।
অথবা ধরুন রেস্তরাঁর স্ক্রিনে চলছে জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা। আর আপনার টেবিলে সার্ভ হচ্ছে সিনেমার দৃশ্যের মতোই স্প্যানিশ খাবারদাবার। তেমনই কুইন সিনেমার দৃশ্য থেকে তুলে আনা বিদেশি খাবার। তবে সব কিছুর সঙ্গে অবশ্যই থাকতে হবে ওল্ড স্কুল আতিথেয়তা ও খাবারের স্বাদ। কারণ ওটাই যে মূল চাবিকাঠি।