সিলিন্ডার পেতে সমস্যায় পড়ছেন? কয়েকটি সহজ অভ্যাস বদলালেই অনেকটা সাশ্রয় করা যায় রান্নার গ্যাস।

গ্যাস সিলিন্ডার
শেষ আপডেট: 12 March 2026 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ (War in West Asia)। তার ঢেউ এসে পড়েছে ভারতের রান্নাঘরেও। দু'টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিললেও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেল-গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে দ্রুত। তার প্রভাব পড়েছে দেশের এলপিজি (LPG) সরবরাহেও। কেরালা থেকে কলকাতা— সর্বত্রই ডিলারের কাছে সিলিন্ডার (LPG Cylinder) পেতে লম্বা লাইন। পাড়ার আড্ডা থেকে চায়ের দোকান— একটাই প্রশ্ন, “দাদা, একটা গ্যাসের সিলিন্ডার হবে?”
কেন্দ্র জানিয়েছে, আতঙ্কের প্রয়োজন নেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, গ্যাস বুকিংয়ে সমস্যা হচ্ছে সঙ্গে গ্যাস পেতেও লাগছে বিরাট সময়। তাই এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের অপচয় কমানো শ্রেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ নিয়ম মানলে রান্নার গ্যাস বাঁচানো সম্ভব।
প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে সিলিন্ডারের ওজন (Cylinder Weight)। একটি ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের মোট ওজন ২৯.৭ কেজি। এর মধ্যে ১৪.২ কেজি হল গ্যাস (LPG Gas) এবং ১৫.৫ কেজি হল খালি সিলিন্ডারের ওজন। ডেলিভারি নেওয়ার সময় নিজের চোখের সামনে ওজন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ছোট ওজন মাপার যন্ত্র (Weighing Machine) থাকলে আরও সুবিধা হয়। দামও খুব বেশি নয়, প্রায় ২০০-৩০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। তবে ডেলিভারি কর্মীর কাছেও সাধারণত এই যন্ত্র থাকে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টেয়ার ওয়েট (Tare Weight)। প্রতিটি সিলিন্ডারের গায়ে খালি সিলিন্ডারের ওজন লেখা থাকে। ডেলিভারি নেওয়ার সময় সেটার সঙ্গে গ্যাস-সহ মোট ওজন মিলিয়ে দেখা উচিত। তাহলেই বোঝা যাবে গ্যাস ঠিক পরিমাণে আছে কি না।
রান্নার সময়েও কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে গ্যাস সাশ্রয় (Gas Saving) করা যায়। যেমন পাত্রের আকার অনুযায়ী বার্নার (Burner) ব্যবহার করা। বড় বার্নারে ছোট হাঁড়ি রাখলে গ্যাস বেশি খরচ হয়, আবার ছোট বার্নারে বড় হাঁড়ি রাখলে রান্না হতে সময় লাগে বেশি।
বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার (Burner Cleaning) করা। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ময়লা জমলে গ্যাস ঠিক মতো বেরতে পারে না। এতে গ্যাসও বেশি পোড়ে। একই ভাবে ভেজা হাঁড়ি বা কড়াই (Wet Utensils) সরাসরি গ্যাসে বসানো উচিত নয়। আগে জল শুকিয়ে নিলে গ্যাস কম খরচ হয়।
রান্নার সময় খুব বেশি আঁচ (High Flame) ব্যবহার না করাই ভাল। চাল-ডাল আগে থেকে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয়। আবার হাঁড়ি ঢেকে রান্না করলে তাপ বাইরে বেরোয় না, ফলে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট অভ্যাসই এলপিজি সংকটের সময়ে বড় সাশ্রয় এনে দিতে পারে।