আপাতদৃষ্টিতে দু’টি ভাইরাসই শ্বাসযন্ত্রের অসুখ ও সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে। যদিও প্রকৃতি, সংক্রমণ ক্ষমতা এবং ঝুঁকির দিক থেকে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 January 2026 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus in West Bengal) হদিশ মেলায় হু হু করে আতঙ্ক বাড়ছে। কারণ স্বাভাবিকভাবেই আবারও ফিরে এসেছে করোনা ভাইরাস (Coronavirus) আতঙ্ক। মানুষের মনে ঘুরছে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং, লকডাউনের কথা। এবারও কি তাহলে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, এই প্রশ্নই এখন অধিকাংশের মনে। এই আবহে জেনে রাখা দরকার, করোনা এবং নিপা ভাইরাসের বেশকিছু তফাৎ (Difference Between Corona and Nipah Virus) রয়েছে।
আপাতদৃষ্টিতে দু’টি ভাইরাসই শ্বাসযন্ত্রের অসুখ ও সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে। যদিও প্রকৃতি, সংক্রমণ ক্ষমতা এবং ঝুঁকির দিক থেকে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
উৎস
নিপা নিশ্চিতভাবে জুনোটিক (Zoonotic), কিন্তু কোভিডের উৎস কীভাবে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। নিপা ভাইরাস একটি প্রমাণিত জুনোটিক সংক্রমণ - অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ১৯৯৯ সালে প্রথম শনাক্ত এই ভাইরাসের নামকরণ মালয়েশিয়ার সুনগাই নিপা গ্রামের নামে। ফলখেকো বাদুড় (ফ্লাইং ফক্স) এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক বলে ধরা হয়। শুয়োর, কুকুর, বিড়াল, ঘোড়া-সহ একাধিক প্রাণীর মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, সার্স-কোভ-২ (SARS COV-2) বা কোভিড-১৯ (Covid-19) ভাইরাসের উৎস নিয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। চিনের উহানে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়লেও, সেটি ল্যাবে তৈরি ভাইরাসের সংক্রমণ নাকি অন্য কোনও উৎস - তা নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে।
চিকিৎসা ও ওষুধ: দু’ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ‘কিউর’ নেই
নিপা ভাইরাসের এখনও কোনও অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা টিকা (Nipah Virus Vaccine) নেই। চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চলছে এবং ভারতেও তা ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোভিড ১৯-এর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ‘কিউর’ নেই। রেমডেসিভির বা টোসিলিজুম্যাবের মতো কিছু পুনর্ব্যবহৃত ওষুধ ব্যবহৃত হলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্ব-চিকিৎসা বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। যদিও করোনা ভাইরাসের টিকা ইতিমধ্যে বেরিয়ে গেছে এবং ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা সহ বিশ্বের নানা দেশে তা প্রয়োগও করা হয়েছে। তবে সেই টিকা কতটা ত্রুটিমুক্ত তা নিয়েই বিতর্ক বহাল।
সংক্রমণ বনাম মৃত্যুহার
নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলক কম। এর আর-নট (R₀) একের নীচে থাকায় ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি - ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত।
কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি, আর-নট বহু সময়েই একের উপরে থাকায় দ্রুত ছড়ায়। তবে গড় মৃত্যুহার তুলনায় কম - ১ শতাংশের নীচে।
টিকা
নিপাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করলেও, সীমিত ও স্থানীয় প্রাদুর্ভাবের কারণে গবেষণার গতি ধীর। কোভিডের ক্ষেত্রে দ্রুত টিকা আবিষ্কার হলেও, নিপা এখনও সেই জায়গায় পৌঁছয়নি।
উপসর্গে তফাত
কোভিডে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গ মৃদু—জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা, গন্ধ না পাওয়া। গুরুতর সংক্রমণ তুলনামূলক কম।
নিপা শুরু হয় জ্বর, মাথাব্যথা, বমি দিয়ে। পরে স্নায়বিক সমস্যা, এনসেফালাইটিস, খিঁচুনি ও কোমা পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা যায়।
পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ
দু’টি ভাইরাসের ক্ষেত্রেই আরটি-পিসিআর পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। সংক্রমণ ঠেকাতে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন ও উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই মূল অস্ত্র।