প্রথমে গুজরাত হাইকোর্ট (Gujarat High Court) এমসিআই-এর সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও, গণেশ হাল ছাড়েননি। তিনি প্রভিশনালভাবে বি.এসসি কোর্সে ভর্তি হয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই চালিয়ে যান।

গণেশ বরাইয়া! (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 27 November 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের গণেশ বরাইয়ার (Ganesh Baraiya) জীবনের গল্প শুধুই ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং এক অসম্ভব দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ। উচ্চতা মাত্র তিন ফুট, ২০ কেজির কম ওজন, ৭২ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা- সব মিলিয়ে জন্ম থেকেই তাঁর পথচলা ছিল কঠিন (Ganesh Wins Legal Battle)। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল একটাই- ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের সেবা করা। সেই স্বপ্নপূরণের পথে বহু বাধা এলেও, আইনি লড়াই ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হয়েছেন।
২০১৮ সালে গণেশ এমবিবিএস কোর্সে (MBBS Course) ভর্তি হতে গেলে মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (Medical Council of India) তাঁর উচ্চতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণ দেখিয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। এমসিআই জানিয়েছিল, শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর পক্ষে ডাক্তারি করা কঠিন হবে।
গণেশ এমসিআই-এর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাত হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। এই সময় তাঁর পাশে পেয়েছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপাল ড: দলপতভাই কাটারিয়া, যিনি কৃষক পরিবারের এই ছেলের আইনি লড়াইয়ের খরচও বহন করেন।
প্রথমে গুজরাত হাইকোর্ট (Gujarat High Court) এমসিআই-এর সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও, গণেশ হাল ছাড়েননি। তিনি প্রভিশনালভাবে বি.এসসি কোর্সে ভর্তি হয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই চালিয়ে যান। চার মাস পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর পক্ষেই রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শুধু তিন ফুট উচ্চতার জন্য কাউকে ডাক্তার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যায় না। এই রায়েই গণেশের স্বপ্নপূরণের দরজা খুলে যায়।
২০১৯ সালে তিনি ভর্তি হন ভাবনগর মেডিক্যাল কলেজে। দীর্ঘ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে রাজ্য-নির্ধারিত ইন্টার্নশিপের ধাপ সফলভাবে পার করেন। এখন তিনি তাঁর গ্রামের গরিব মানুষের চিকিৎসা করছেন।
গণেশ বলেন, “আমি গ্রামের গরিব মানুষদের চিকিৎসা করতে চাই। কারণ সেখানেই সবচেয়ে বেশি চিকিৎসার প্রয়োজন।" বিশ্বের সবচেয়ে খাটো ডাক্তারদের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
গণেশের উচ্চতা দেখে রোগীরা প্রথমে কিছুটা অবাক হয়ে যান। তবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর কাজ দেখে ভরসা পান। গণেশের কথায়, "শুরুতে সবাই একটু চমকে ওঠেন ঠিকই, কিন্তু পরে খুবই আন্তরিক হয়ে যান। আমার উচ্চতা নয়, আমার কাজ দেখেই আমাকে ডাক্তার হিসেবে গ্রহণ করেন।"
গণেশ বরাইয়ার জীবনকাহিনি প্রমাণ করে- শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কারও ভবিষ্যৎ ঠিক করে না। ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনও স্বপ্নই পূরণ করা সম্ভব। তাঁর সাফল্য আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।