ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, ভারত অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঞ্চলে হলেও উপমহাদেশের চারপাশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি আছে, যেগুলি ভবিষ্যতে সক্রিয় হলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইথিওপিয়ার ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি দশ হাজার বছর পর জেগে উঠেছে (Ethiopia Eruption Impact)- অগ্ন্যুৎপাতের ছাই উড়ে এসেছে ভারতে। দূষণ বাড়ার আশঙ্কা, ব্যহত বিমান চলাচল। প্রায় আড়াই হাজার মাইল দূরের একটি আগ্নেয়গিরি ভারতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাহলে দেশের কাছাকাছি যে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিগুলি (India Volcano Risk) রয়েছে সেগুলি হঠাৎ জেগে উঠলে কী হবে, এই প্রশ্নই এখন আতঙ্কের রূপ নিয়েছে। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, ভারত অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঞ্চলে হলেও উপমহাদেশের চারপাশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি আছে, যেগুলি ভবিষ্যতে সক্রিয় হলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারত ও আন্দামান অঞ্চলে প্রভাব ঝুঁকির আশঙ্কা বেশি।
আন্দামান অঞ্চলের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারত থেকে খুব বেশি দূরে নয়, আর এখানকার আগ্নেয়গিরিগুলিই দেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা।
নারকোণ্ডম আগ্নেয়গিরি- এটি একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। বহু বছর ধরে শান্ত থাকলেও বিজ্ঞানীরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। কারণ এটি ভারতীয় ভূখণ্ডের খুব কাছেই অবস্থিত। হঠাৎ সক্রিয় হলে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সমুদ্রপথে যাতায়াত ও নৌ-সেনার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যারেন আইল্যান্ড- ভারতের একমাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। প্রশ্নটি যদিও ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি নিয়ে, কিন্তু ব্যারেন আইল্যান্ডের সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাত দেখিয়ে দেয় যে আন্দামান অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে খুবই সংবেদনশীল। তাই এই এলাকার আশপাশে যে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিগুলি (Volcano Threat India) রয়েছে, তাদের দিকেও বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।
পাকিস্তান সীমান্তের কাছে কাদা আগ্নেয়গিরি
পাকিস্তানের হিংগোল মাড ভলক্যানো (Mud Volcano Pakistan) অঞ্চলটিও ভারতের পশ্চিম সীমান্ত থেকে বেশি দূরে নয়। এগুলো সাধারণ আগ্নেয়গিরির মতো আগুন বা লাভা ছোড়ে না, কিন্তু কাদা আর গ্যাস মাটিতে চাপ দিয়ে বেরিয়ে আসে। বড় ধরনের অস্থিরতা হলে ভূমিকম্প ও ভূমির পরিবর্তন ঘটতে পারে। মাড ভলক্যানো পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে এবং ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও কিছুটা বাড়ায়।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের আগ্নেয়গিরি
ভারতের উত্তরে নেপাল এবং তিব্বতের সীমানায় কিছু প্রাচীন আগ্নেয়গিরির চিহ্ন পাওয়া যায়। যদিও এগুলি বহুদিন ধরে নিষ্ক্রিয়, তবে ভূমিকম্পপ্রবণ হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ নতুন করে সক্রিয়তার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে আগ্নেয়গিরির গভীরে থাকা ম্যাগমা চ্যানেলের ওপর চাপ পড়তে পারে।
দক্ষিণ ভারতের ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতা
দক্ষিণ ভারতের ডেকান ট্র্যাপস এলাকায় বহু হাজার বছর আগে ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হয়েছিল। এখন এগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর গভীরে বড় ধরনের অস্থিরতা হলে এই অঞ্চলে আবারও কিছু চাপ তৈরি হতে পারে, যদিও এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা এখন খুবই কম।
ভারত সরাসরি আগ্নেয়গিরির ঝুঁকিতে না থাকলেও চারপাশে কয়েকটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি (Sleeping Giants Volcano) রয়েছে, যেগুলি জেগে উঠলে স্থানীয় অঞ্চল এবং ভারতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আন্দামান, পাকিস্তান সীমান্ত এবং হিমালয় অঞ্চলের আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ওপর নিয়মিত নজর রাখা খুবই জরুরি।