আগ্নেয়গিরির ছাই বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক (Aviation disruption)। তাই ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) দ্রুত সব বিমান সংস্থাগুলির জন্য সতর্কতা জারি করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইথিওপিয়ার বহুদিন ঘুমিয়ে থাকা হেইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর তার বিশাল ছাইয়ের মেঘ দ্রুত গতিতে ভারতের দিকে ধেয়ে আসে (Ethiopia volcanic ash)। রবিবার শুরু হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর গত ১০ হাজার বছরে প্রথমবার এত শক্তিশালীভাবে ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ফুট উঁচুতে ভেসে থাকা এই ছাই সোমবার রাত ১১টা নাগাদ দিল্লির আকাশে পৌঁছে যায়। আবহাওয়াবিদরা পুরো ঘটনাটি গত একদিন ধরে নজরে রেখেছিলেন।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ছাইয়ের মেঘ প্রথমে পশ্চিম রাজস্থানের যোধপুর-জয়সলমির অঞ্চলের ওপর দিয়ে ভারতের আকাশে প্রবেশ করে। ঘণ্টায় প্রায় ১২০–১৩০ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে সরতে থাকা এই মেঘ পরে রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি (Delhi air quality) এবং আংশিকভাবে গুজরাতের ওপর ছড়িয়ে পড়ে (volcanic eruption impact)। রাতের মধ্যে পাঞ্জাব, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের পাহাড়ি অংশ এবং হিমাচল প্রদেশে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাইয়ের বেশিরভাগ অংশ খুবই উচ্চতায় থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বড় কোনও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। মাটিতে সামান্য ছাই পড়তে পারে, কিন্তু তা খুবই সীমিত। বরং এর প্রভাবে ভোরে সূর্যের আলো ছাইয়ের কণায় প্রতিফলিত হয়ে আকাশে অদ্ভুত রঙের ঝিলিক দেখা যেতে পারে।
বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি
আগ্নেয়গিরির ছাই বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক (Aviation disruption)। তাই আগেভাগেই ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) দ্রুত সব বিমান সংস্থাগুলির জন্য সতর্কতা জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনও বিমানই ছাই মাখা মেঘের মধ্যে বা এর কাছাকাছি দিয়ে উড়তে পারবে না। রুট বদলানো, অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়া এবং ছাই-প্রভাবিত এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাইলটদের বলা হয়েছে, ইঞ্জিনে কোনও অস্বাভাবিক শব্দ বা গন্ধ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে।
DGCA জানিয়েছে, ভারতের ওপর ছাইয়ের মেঘ খুবই উঁচুতে থাকায় বিমান ওঠা–নামায় কোনও বড় সমস্যা হবে না। তবে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ছাইয়ের দিক বদলানোয় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেরি বা রুট পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে।
বিমান বাতিল ও সতর্কতা
ইতোমধ্যেই কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমানে প্রভাব পড়েছে। কোচি থেকে দুবাই ও জেদ্দার দুটি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। অ্যামস্টারডাম-দিল্লি রুটের দুটি KLM বিমানও বাতিল করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, স্পাইসজেট ও আকাসা এয়ার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং যাত্রীদের নিয়মিত আপডেট দেবে। পশ্চিমী আকাশপথে দিয়ে যাওয়া যাত্রীদের বিমানের স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চারদিকে আকাশে অদ্ভুত আলো দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞদের মতে আতঙ্কের কিছু নেই। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগামী ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হবে।