বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা ও সমীক্ষা বলছে, গত একমাস ধরে দিল্লি-এনসিআরের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন করে বিষাক্ত বাতাসের প্রভাবে অসুস্থতায় ভুগছেন।

দূষণের জেরে দিল্লিবাসীর আয়ু কমে যাচ্ছে।
শেষ আপডেট: 21 November 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা শুক্রবার বেশ কিছু জায়গায় বিপজ্জনক স্তর ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা ও সমীক্ষা বলছে, গত একমাস ধরে দিল্লি-এনসিআরের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন করে বিষাক্ত বাতাসের প্রভাবে অসুস্থতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারির সমতুল বলে কেউ কেউ মতপোষণ করেন। অনেক বিশেষজ্ঞ এও বলেছেন যে, দূষণের জেরে দিল্লিবাসীর আয়ু কমে যাচ্ছে।
কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি পর্যন্ত আইনজীবীদের বলেন, এমন অবস্থা যে মাস্কেও কোনও কাজ হচ্ছে না। আপনারা বাড়িতে বসে অনলাইনে সওয়াল করুন। শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির গড় দূষণ মাত্রা ছিল ৩৭০। এই নিয়ে টানা আটদিন রাজধানীর একিউআই স্তর ছিল ভীষণ খারাপ।
যদিও গড় হিসেব ধরলে ভুল হবে। প্রায় ১৮টি দূষণ পরিমাপক কেন্দ্রে দূষণের স্তর ৪০০-র বেশি ধরা পড়েছে। যেমন- চাঁদনি চক, আনন্দ বিহার, মুন্ডকা ইত্যাদি। কোথাও কোথাও তা ৪০০-৪৫০ স্তরেও পৌঁছায়। আগামী ছয়দিন দিল্লির অবস্থা বিপজ্জনক থেকে অতি খারাপ স্তরে ওঠানামা করবে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, পাঞ্জাবে ১৬, হরিয়ানায় ১১ এবং উত্তরপ্রদেশে ১১৫টি জায়গায় ফসলের গোড়া পোড়ানো হচ্ছে। অতীতের থেকে সংখ্যাটি কম হলেও বাতাসের গতি উত্তরমুখী হওয়ায় তা ভেসে আসছে পার্শ্ববর্তী দিল্লি-এনসিআরের দিকে। ফলে গাড়ির দূষণের পাশাপাশি ধোঁয়ায় জর্জরিত দিল্লির বাসিন্দারা।
এই অবস্থায় ডাক্তাররা বলছেন, হাসপাতালে-চেম্বারে আচমকা শ্বাসকষ্ট ও দূষণ সংক্রান্ত অসুখে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। একে চিকিৎসা জরুরি অবস্থা বলে বর্ণনা করেছেন তাঁরা। এইমসের ডাক্তার অনন্ত মোহন বলেন, এখানকার দূষণ খুবই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। গত ১০ বছর ধরে এই ঘটনা চলছে। তাঁর মতে, শুধু শ্বাসকষ্ট নয়, দূষণে মানুষের অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি হতে শুরু করেছে। কিছু কিছু অসুখ প্রাণঘাতী হয়ে পড়ছে। ডাক্তার বলেন, দূষণে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়। এমনকী গর্ভজাত সন্তানেরও ক্ষতি হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত এখানকার মানুষের আয়ুষ্কাল কমে যাবে।