সঙ্গীতের কোনও ভাষা নেই, আর ভালোবাসায় কোনও প্রাচীর নেই - এই কথাগুলিই যেন আবারও প্রমাণ করল থাইল্যান্ডের একটি হৃদয়ছোঁয়া ভিডিও।

শেষ আপডেট: 7 July 2025 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গীতের কোনও ভাষা নেই, আর ভালোবাসায় কোনও প্রাচীর নেই - এই কথাগুলিই যেন আবারও প্রমাণ করল থাইল্যান্ডের একটি হৃদয়ছোঁয়া ভিডিও।
‘সেভ এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশন’ (Save Elephant Foundation)-এর প্রতিষ্ঠাতা লেক চাইলার্ট সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন এক অসাধারণ মুহূর্ত, যেখানে দু’টি হাতি তাঁর গানের সুরে যেন সুর মিলিয়ে ‘গাইছে’ (elephants singing video) - ভালবাসার বন্ধনের এক অনন্য নিদর্শন।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাইলার্ট একটি সাদামাটা ছাউনির নীচে এক কাদামাটির ঢিবিতে বসে গান গাইছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই হাতি খুব কাছ থেকে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। একটির শুঁড় স্পর্শ করছে তাঁকে, যেন ভালবাসায় ভরা একটি স্পর্শ। হাতিরা কিন্তু চুপচাপ নেই। তারা নিজেদের মতো করে সাড়া দিচ্ছে, যেন গানের সঙ্গেই তারা একসঙ্গে মিশে আছে।
চাইলার্ট ক্যাপশনে লিখেছেন, “অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, আমি কী করে বুঝি হাতিরা কী চায়? উত্তর একটাই। মনের কথা শোনো। ওদের প্রয়োজনও আমাদের মতোই। সুরক্ষার জীবনে বাঁচতে চায়, খেতে চায়, আর সুখী থাকতে চায়।”
তিনি আরও লেখেন, “যদি মানুষ তার অহংকার ভেঙে ফেলে যে, আমরাই বাকি সব প্রাণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যদি আমরা না ভাবি যে ওরা কেবল আমাদের দাসত্ব করার জন্যই রয়েছে - তাহলে আমরা ওদের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে পাব। সুখ আর শান্তি আমাদের চারপাশেই আছে। শুধু দরকার বাঁধনখোলা একটা মন।”
চাইলার্ট আরও লেখেন, “হাতিরা গান শুনতে ভালোবাসে। ওরা শান্ত থাকে, খুশি হয় - অনেক সময় সুরেও যোগ দেয়। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো কাটে যখন আমি ওদের সঙ্গে থাকি। ওরাও আমার পরিবার, যাদের আমি নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসি। প্রতিদিন সময় কাটাই, ওদের বুঝতে চেষ্টা করি। ওদের সুখই আমার সুখ।”
এই ভিডিও ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৪১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে, আর প্রতিক্রিয়া এসেছে হাজার হাজার। কেউ লিখেছেন, “আজকের দিনের সবচেয়ে শান্তিময় জিনিস।” অন্যজন লিখেছেন, “ওদের নিজের সন্তানের মতো দেখেন — অসাধারণ।” আরও একজন মন্তব্য করেন, “এই দৃশ্য দেখে চোখে জল এসে গেল। এই ভালবাসা একেবারে খাঁটি।” কেউ আবার লিখেছেন, “এই দৃশ্য যেন জাদুর মুহূর্ত।”