ভারত না পারলেও এই বিতর্কের মধ্যেই উঠে এসেছে বিশ্বের কয়েকটি দেশের নাম, যেখানে ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য মেনস্ট্রুয়াল লিভের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 March 2026 00:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ডের সময় মহিলাদের ছুটি দেওয়া নিয়ে ভারতে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার এই বিষয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, বাধ্যতামূলকভাবে মেনস্ট্রুয়াল লিভ (Menstrual leave in india law) চালু করলে তা উল্টে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ হতে পারে।
ভারত না পারলেও এই বিতর্কের মধ্যেই উঠে এসেছে বিশ্বের কয়েকটি দেশের নাম, যেখানে ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য মেনস্ট্রুয়াল লিভের (Menstrual leave countries list) ব্যবস্থা রয়েছে।
জাপান ছিল বিশ্বের প্রথম দিকের দেশগুলির মধ্যে একটি, যেখানে মেনস্ট্রুয়াল লিভের বিধান চালু হয়। ১৯৪৭ সালে ‘Seiri Kyuka’ নামে পরিচিত এই ছুটি আইনত স্বীকৃতি পায়। তবে ছুটিটি বেতন-সহ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত কোম্পানির উপরই নির্ভর করে।
ইন্দোনেশিয়ায় কর্মরত মহিলাদের প্রতি মাসে দুই দিনের বেতন-সহ ইন্দোনেশিয়া পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত মহিলাদের জন্য মাসে একদিনের ছুটির বিধান রয়েছে। এখানে একটি ব্যতিক্রমী নিয়মও আছে। যদি কোনও কর্মী সেই ছুটি ব্যবহার না করেন, তাহলে কোম্পানি তাঁকে অতিরিক্ত আর্থিক ভাতা দেয়।
জাম্বিয়ায় এই ছুটি স্থানীয়ভাবে “মাদার্স ডে”। আইন অনুযায়ী, মহিলারা প্রতি মাসে একদিন ছুটি নিতে পারেন এবং তার জন্য আগাম কোনও নোটিস দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না।
তাইওয়ানের জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ইন এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, মহিলারা বছরে তিন দিন পর্যন্ত ‘পিরিয়ড লিভ’ নিতে পারেন। সাধারণত এই ছুটির জন্য অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়।
ভিয়েতনামে কর্মরত মহিলাদের দুটি বিকল্প দেওয়া হয়। পিরিয়ডের সময় প্রতিদিন ৩০ মিনিট অতিরিক্ত বিরতি অথবা তিন দিনের ছুটি।
ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে স্পেন ২০২৩ সালে মেনস্ট্রুয়াল লিভ আইন চালু করে। এখানে গুরুতর শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে মহিলারা তিন থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিতে পারেন। এই ছুটির খরচ সরকার বহন করে, যাতে মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য তৈরি না হয়।
বিতর্ক চলছেই
ভারতে এই বিষয়টি নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যদি আইন করে মাসিকের ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে অনেক নিয়োগকর্তা মহিলাদের নিয়োগ করতে অনীহা দেখাতে পারেন। তাঁর কথায়, “এমন আইন করা হলে তারা হয়তো মহিলাদের চাকরিতেই নেবে না।”
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এমন আইন চালু হলে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ বা ধারণা তৈরি হতে পারে যে তাঁদের পুরুষদের তুলনায় কম সক্ষম হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেন, তবু বর্তমান চাকরির বাজারে নিয়োগকর্তাদের মানসিকতার কথাও বিবেচনা করার পরামর্শ দেন।
ফলে ভারতে মেনস্ট্রুয়াল লিভ নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই।