প্রধান বিচারপতির কথায়,“এতে কর্মক্ষেত্রে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় কম সক্ষম। অনেক নিয়োগকর্তা তখন মহিলাদের নিয়োগই করতে চাইবেন না।”

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 13 March 2026 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিরিয়ড তথা মাসিকের (menstrual period) সময়ে বাধ্যতামূলক ছুটি (period leave) চালুর দাবি জানিয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। শুক্রবার শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, এ ধরনের আইন বাধ্যতামূলক করা হলে উল্টে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।
প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “মাসিকের জন্য যদি আইনে বাধ্যতামূলক ছুটির বিধান করা হয়, অনেক নিয়োগকর্তা মহিলাদের চাকরিতেই নেবেন না।”
আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেন। সেখানে দাবি করা হয়, কর্মক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া মেয়েদের মাসিকের সময় নির্দিষ্ট ছুটি দেওয়ার নিয়ম চালু করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হোক।
শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, মাসিক নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটিকে আইনি বাধ্যবাধকতা করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাঁর কথায়,“এতে কর্মক্ষেত্রে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় কম সক্ষম। অনেক নিয়োগকর্তা তখন মহিলাদের নিয়োগই করতে চাইবেন না।”
শুনানিতে কেরলের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সিনিয়র আইনজীবী এম আর শামশাদ জানান, ২০১৩ সালে কেরল সরকার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রীদের মাসিকের জন্য ছুটি চালু করেছিল। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এটিকে লিঙ্গসমতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, এই ধরনের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় হলে আলাদা বিষয়, কিন্তু আইনি বাধ্যতামূলক করা হলে তার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলেছিল, মাসিক স্বাস্থ্য মেয়েদের জীবন, মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদালত তখন সরকারগুলিকে নির্দেশ দেয়—স্কুলে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আলাদা ও কার্যকর টয়লেটে ব্যবস্থা করতে হবে। মেনস্ট্রুয়াল হেলথ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কর্মসূচি নিতে হবে।