গবেষণা বলছে, ক্যাফেইন সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবকে নষ্ট করে না, তবে ব্যাকটেরিয়ার জিন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রান্সপোর্ট প্রোটিনের কাজের ধরনকে বদলে দেয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 September 2025 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে (Antibiotic resistance) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে যখন ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসই হয়তো অজান্তে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করছে।
জার্মানির টিউবিঙ্গেন এবং ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনা রিটা ব্রোকাডো এবং তাঁর গবেষকদল দেখিয়েছেন, ক্যাফেইন-সহ কিছু সাধারণ খাদ্য উপাদান ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে, অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
ক্যাফেইনের প্রভাব ঠিক কীভাবে পড়ে?
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবকে নষ্ট করে না, তবে ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে জিন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রান্সপোর্ট প্রোটিনের কাজের ধরনকে বদলে দেয়। বিশেষত ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে, ক্যাফেইন ‘Rob’ নামের একটি জিন রেগুলেটর সক্রিয় করে, যার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন) সহজে কোষের ভেতরে ঢুকতে পারে না। এর ফলে ওষুধের প্রভাব কমে যায়। গবেষকরা একে বলছেন "antagonistic interaction" - যেখানে একটি আপাত নিরীহ উপাদান অজান্তেই ওষুধের কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দেয়।
সব ব্যাকটেরিয়াই সমানভাবে প্রভাবিত নয়
অদ্ভুত ব্যাপার হল, সালমোনেল্লা এন্টারিকা (Salmonella enterica) নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের কোনও প্রভাব পড়েনি। অর্থাৎ একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ প্রজাতির মধ্যেও প্রতিক্রিয়ায় ভিন্নতা থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ব্যাকটেরিয়ার ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম বা ওষুধ গ্রহণের পদ্ধতির ভিন্নতার কারণেই এই অমিল।
খাবার ও ওষুধের সম্পর্ক
এই গবেষণায় মোট ৯৪টি উপাদান পরীক্ষা করা হয়েছে - যার মধ্যে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং প্রতিদিনের খাবার। এর মধ্যে বহু উপাদানই ব্যাকটেরিয়ার জিন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রান্সপোর্ট প্রোটিনকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, শুধু ওষুধ নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশও নির্ধারণ করতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার ফলাফল।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
অধ্যাপক ব্রোকাডো জানিয়েছেন, “রোগীরা অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স করার সময় কী খাচ্ছেন, সেটাই হয়তো চিকিৎসার ফলাফল বদলে দিচ্ছে।” আরেক গবেষক ক্রিস্টোফ বিন্সফেল্ড বলেন, “আমাদের ফলাফল দেখাচ্ছে, অনেক সাধারণ উপাদানও ব্যাকটেরিয়ার জিন নিয়ন্ত্রণে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনে। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।”
এই গবেষণা নতুন ধরনের “low-level resistance”-এর দিকে আঙুল তুলছে, যা জিনগত মিউটেশনের কারণে নয়, বরং ব্যাকটেরিয়ার পরিবেশ-নির্ভর অভিযোজনের কারণে ঘটে। চিকিৎসকরা এখন থেকে শুধু ডোজ বা সময় নয়, রোগীর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কেও সতর্কতা দিতে পারেন।
গবেষণাটি PLOS Biology-তে প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে খাদ্যাভ্যাসকে চিকিৎসা-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, বিশেষ করে ই. কোলাই সংক্রমণের ক্ষেত্রে।