চাকরিতে ঢোকার পর থেকেই ওই কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আলোচনার পর বস বেশ কিছু পরামর্শ দেন তাঁর বন্ধু-সহকর্মীকে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 October 2025 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন মাস আগে 'রিমোট জব'-এর জন্য সিলেক্ট হয়েছিলেন নেপালের এক যুবক। প্রথম স্যালারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর নিজেই চমকে গেছেন, এই টাকা যে তাঁর পরিবারের ৬জনেরও মিলিত মাসিক স্যালারি নয়।
ভারতীয় মুদ্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা বেতন, কিন্তু কী ভাবে সেটা খরচ করবেন! উপায় বলে দিলেন তাঁর দুবাইয়ের অফিসের বস। সোজা হিসাব, স্ত্রীকে ফুল কিনে দিন।
সম্প্রতি লিঙ্কডইনে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি করেছেন বস টিমোথি হাইনাম নিজেই। তিনি লিখেছেন, 'আমাকে ওই কর্মী জানান, তাঁর মা-বাবা, স্ত্রী, ভাই-বোন এবং তাঁদের সঙ্গীদের মিলিত রোজগারও এত নয়। আর সেই অঙ্ক তিনি এক মাসেই রোজগার করেছেন। ওই কর্মী ভীষণ ট্যালেন্টেড, এই স্যালারি পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে তাঁর।'
টিমোথি আরও জানান, চাকরিতে ঢোকার কিছু সপ্তাহ পর থেকেই ওই কর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন তিনি টিমোথিকে জানান, তিনি সত্যিই বুঝতে পারছেন না কী করবেন। এই আলোচনার পর তিনি বেশ কিছু পরামর্শ দেন তাঁর বন্ধু-সহকর্মীকে।
টিমোথি জিজ্ঞাসা করেন, শেষ কবে স্ত্রীকে ফুল কিনে দিয়েছেন? বেশি তো দাম নয়, দিয়েই দেখুন কী হয়।
টিমোথি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে লিখেছেন, 'যখন কেউ জীবনের প্রাপ্তি প্রতিটি টাকা গুনতে গুণতে বড় হন, তাঁর কাছে অনেক সময় এইসব খরচও বিলাসিতা মনে হতে পারে। যখন কারও কাছে পৈতৃক সম্পত্তি থাকে না, তিনি যখন নিজের যোগ্যতায় অনেক টাকা রোজগার করেন সেটা অনেক সময় 'ভুল করে' হয়ে গেছে বলে মনে হয় অনেকের কাছে।
এরপর তিনি বেশ কিছু জিনিস মনে করিয়ে দেন তাঁর কাছের সহকর্মীকে, বোঝান যে, টাকা জমানোর থেকেও তা দিয়ে বেশি কিছু করার আছে জীবনে। শান্তির ঘুমের জন্য একটা ভাল বিছানা, ভাল খাবার এগুলোও প্রাপ্তি। ছোট ছোট বিলাসিতা অপরাধ নয়।
টিমোথি তাঁর পোস্টের মাধ্যমে এও মনে করিয়ে দেন যে, টাকা রোজগার করা এবং টাকার মানসিকতা বোঝা - এই দুই নিয়ে আমরা যতটা ভাবি, তা থেকেও অনেক বেশি কিছু বোঝার রয়েছে, বিশেষ করে তখন, যখন সেই অঙ্কের টাকা তিনি তাঁর পরিবারের বেশ কিছু প্রজন্মের মধ্যে প্রথম নিজের যোগ্যতায় রোজগার করছেন।
যখন কোনও কর্মী নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন যে তিনি আদৌ এই স্যালারি পাওয়ার যোগ্য কিনা, সেটা বস হিসেবে সবথেকে কঠিন কাজ বলে মনে করেন টিমোথি।
স্বাভাবিকভাবেই এই পোস্ট নিমেষে ভাইরাল হয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা টিমোথির এই পোস্টকে। একজন কমেন্টে লিখেছেন, 'বস হিসেবে আপনি যা করছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। ক'জন পানার মতো করে ভাবতে পারেন!' আবার কেউ লিখেছেন, 'যাঁরা সারাজীবন হিসেব করে চলেছেন, তাদের কাছে সত্যি এভাবে ভাবতে পারা বিলাসিতা। তবে আপনি যেভাবে ওঁকে বুঝিয়েছেন তাঁর তুলনা হয় না।'