দেশজুড়ে নবরাত্রির উপবাস শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলায় একই সময়ে শুরু হয় দুর্গাপুজোর উৎসব। একই দেশের দুই প্রান্তে উৎসব ঘিরে খাবারের ব্যাপক বৈচিত্র্য। কেন এই ভিন্নতা?

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 September 2025 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে নবরাত্রির (Navaratri) উপবাস শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে নবরাত্রি মানেই ন’দিনের আত্মসংযম, নিরামিষ খাবার (veg food), উপোস। কিন্তু বাংলায় একই সময়ে শুরু হয় দুর্গাপুজোর উৎসব (DurgaPuja 2025)। আর বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো মানেই মা আসছেন - ভক্তির আবহ, উৎসবের আমেজ আর এলাহি খাবারদাবারের আয়োজন। প্যান্ডেল হপিং-এর পাশাপাশি চলে মাংস-মাছ-মিষ্টির ভুরিভোজ (durgapuja feast)।
কেন এই ভিন্নতা? তার উত্তর লুকিয়ে আছে বাঙালির শাক্ত ঐতিহ্যে (Bengali Tradition)।
মায়ের আগমন মানেই আনন্দভোজ
পঞ্চমী থেকে দুর্গাপুজো শুরু হয়। শাস্ত্রমতে, এই কয়েকদিন মা দুর্গা কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যে আসেন। সেই কারণে বাংলার মানুষ দেবীর এই আগমনকে কন্যার বাবা-মায়ের বাড়ি ফেরা বলে মনে করেন। তাই শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে এলে যেমন ভোজ-আনন্দ হয়, মায়ের আগমনে তেমনই চলে ভুরিভোজ আর অতিথি আপ্যায়ন।
শাক্ত সাধনার ঐতিহ্য
বাঙালির শাক্ত ঐতিহ্যে মাছ-মাংসকে ধরা হয় শক্তি, সমৃদ্ধি, প্রাচুর্য ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে। বিশেষত মাছ বাঙালির পুজো, বিয়ে আর সেই সংক্রান্ত তত্ত্বের অপরিহার্য অংশ। শাস্ত্রমতে, নিরামিষ পদ্ধতিতে (পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া) রান্না করা মাংস বা মাছ দেবীকে নিবেদনও করা যায়, বিশেষত সন্ধিপুজো ও কালীপুজোয়।
মহিষাসুর বধ ও ভোগের মাহাত্ম্য
শাস্ত্র অনুযায়ী, মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা শক্তির চরম রূপে আবির্ভূত হন। সেই জয়গাথা বাংলার ভক্তিরস মিশ্রিত উৎসবে খাদ্যকে নতুন মাত্রা দেয়। উৎসবের মাংস-ভোজন এখানে শুধু ভোগ-বিলাস নয়, বরং ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতীক। এটি পরিবার ও সমাজকে একত্রিত করে, প্রজন্মের পর প্রজন্মে সংস্কৃতি পৌঁছে দেয়। সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে আনে এই রীতি।
দুর্গাপুজো অসম্পূর্ণ খিচুড়ি-লাবড়া, লুচি-আলুর দম, বেগুনির মতো ভোগ ছাড়া। মিষ্টির তালিকায় থাকবেই রসগোল্লা, সন্দেশ, মিষ্টি দই আর নারকেল নাড়ু। ঘুরতে বেরিয়ে রাস্তার ধারে ফুচকা, এগরোল, কাটলেট, চপও সমান জনপ্রিয়। সব মিলিয়ে বাঙালির দুর্গাপুজো হয়ে ওঠে ভক্তি, আনন্দ আর খাদ্যোৎসবের এক মহা মিলনমেলা।