শ্বশুরবাড়ি, গ্রাম, সীমিত সুযোগ, সব কিছু মিলিয়েই রোজকার লড়াই। তবু থেমে যাননি তিনি।

নীতু ও তাঁর পরিবার
শেষ আপডেট: 24 July 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। এই প্রবাদ প্রমাণ করলেন বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামের এক যুবতী। সংসার সামলে, স্বামী-সন্তানের দেখভাল করে ফাঁকা সময়টুকুতে পড়াশোনা করতেন। মনের জোর আর জেদকে সঙ্গী করে বসেছিলেন ইউজিসি নেটে। প্রথমবারেই সফল হলেন তিনি। ২৪ বছরের নীতু এখন বহু মানুষের অনুপ্রেরণা।
মধেপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম রামনগর মহেশ। সেখানকার এক সাধারণ গৃহবধূ, নীতু কুমারী। গৃহস্থালির কাজ, ছোট সন্তানের দেখভাল করে দিয়েছিলেন স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা। সেই সময়ই ঠিক করেছিলেন নেট দেবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। চলতি বছর জুনে নেট দেন তিনি। প্রথমবারেই সাফল্য আসে।
হিন্দি বিষয়ে তিনি পেয়েছেন ৭৬.৯১ পার্সেন্টাইল। আবেদন করেছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ (JRF) এবং পিএইচডি-র জন্য। কীভাবে সম্ভব হল এমন নজরকাড়া ফল?
নীতু বলেন, 'সকাল সাতটার মধ্যে ঘরের সব কাজ সেরে ফেলতাম। তারপর পড়তাম সকাল ৯টা পর্যন্ত। দুপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়তাম ১টা থেকে ৪টা। রাতে সন্তানের ঘুমিয়ে পড়ার পরে আবার ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পড়তাম।' প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন যুবতী।
কোন বই পড়ে সাফল্য এল? নীতু বলেন, 'কোনও বই পড়িনি। শুধু আমার শিক্ষক যে নোটস দিতেন, সেগুলোই ভাল করে পড়েছি। ওগুলো থেকেই সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করতাম, আর রিভিশন করতাম নিয়মিত।'
শ্বশুরবাড়ি, গ্রাম, সীমিত সুযোগ, সব কিছু মিলিয়েই রোজকার লড়াই। তবু থেমে যাননি তিনি। বলেন, 'আমি অসুবিধা হিসেবে কিছু দেখিনি। বরং এগুলোই আমাকে আরও জেদি করেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলোই আমার সাফল্যের কারণ।'
সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা?
নীতু অকপটে বলেন, 'আমার স্বামী সুমিত ঠাকুর আর আমার নানাজি। ওঁরাই আমাকে বারবার সাহস জুগিয়েছেন। বলতেন, তুই পারবি। আমি তাঁদের কথা বিশ্বাস করেছি।'
নীতু জানান, নেট-এর দ্বিতীয় পত্রে তাঁর বিষয় ছিল হিন্দি, যেটা পিজিতেও ছিল। তাই দুই দিক একসঙ্গে এগিয়েছেন বলে জানান। ডিসেম্বরে ফার্স্ট ইয়ারের পরীক্ষা দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে নেট-এর জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান। মাত্র চার মাস পড়েই কেল্লাফতে। যাঁরা নেটে সাফল্য পেতে চান, তাঁদের জন্য নীতুর দাওয়াই, আত্মবিশ্বাস, নিয়মানুবর্তিতা আর নিরন্তর চর্চা, এই তিন দরকার। তাঁর প্রিয় উদ্ধৃতি, 'মন কে হারে হার হ্যায়, মন কে জিতে জিৎ।' অর্থাৎ মন থেকে হেরে গেলে হার, মন থেকে জিতলে জয় নিশ্চিত।
এরপর কী করবেন বিহারের যুবতী? জানালেন, অধ্যাপিকা হওয়া স্বপ্ন। সাহিত্য ও সমাজ নিয়ে গবেষণা করতে চান। সাহিত্য আর বাস্তব জীবনের মাঝে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, গবেষণার মাধ্যমে সেই ফাঁকটাই কমিয়ে আনতেই চান তিনি।