Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

হলোকাস্টের বিভীষিকাময় ছবির রহস্য উন্মোচনে এআই, দীর্ঘ বছর পর শনাক্ত করা গেল নাৎসি সেনাকে

ছবিটি ইতিহাসের অন্যতম মর্মস্পর্শী দলিল। যেখানে দেখা যাচ্ছে এক জার্মান সেনা বন্দুক তাক করে আছে হাঁটু গেড়ে বসা এক ইহুদি ব্যক্তির দিকে, পাশে পড়ে রয়েছে গুলিবিদ্ধ দেহের স্তূপ।

হলোকাস্টের বিভীষিকাময় ছবির রহস্য উন্মোচনে এআই, দীর্ঘ বছর পর শনাক্ত করা গেল নাৎসি সেনাকে

ছবি সংগৃহীত

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 4 October 2025 13:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলোকাস্টের ভয়াবহতার (Haunting Holocaust Image) প্রতীক হয়ে থাকা একটি ছবির নাৎসি হত্যাকারীর পরিচয় অবশেষে সামনে আনলেন এক জার্মান ইতিহাসবিদ (AI Helps Identify Nazi Killer)। আর সেই কাজটিতে তাঁকে সাহায্য করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।

ছবিটি ইতিহাসের অন্যতম মর্মস্পর্শী দলিল। যেখানে দেখা যাচ্ছে এক জার্মান সেনা বন্দুক তাক করে আছে হাঁটু গেড়ে বসা এক ইহুদি ব্যক্তির দিকে, পাশে পড়ে রয়েছে গুলিবিদ্ধ দেহের স্তূপ। ছবিটির নাম “দ্য লাস্ট জিউ ইন ভিনিতসা” (The Last Jew in Vinnitsa)।

কে ছিলেন সেই নাৎসি সেনা

আমেরিকা-ভিত্তিক জার্মান ইতিহাসবিদ ইউরগেন ম্যাথাউস (Jurgen Matthaus) দাবি করেছেন, এআই বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছবিতে বন্দুকধারী ওই সৈন্যের পরিচয় মেলানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর গবেষণা ‘Zeitschrift für Geschichtswissenschaft’ (Journal of Historical Studies) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

ম্যাথাউস জানিয়েছেন, ছবির ওই এসএস (Schutzstaffel) সেনার নাম জাকোবুস অনেন (Jakobus Onnen)। যিনি Einsatzgruppe C নামের এক মোবাইল হত্যাদলে ছিলেন। এই ইউনিটটি ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়েছিল।

ম্যাথাউস বলেন, “প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালগরিদমের মিলের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যা প্রায় নিশ্চিত প্রমাণ দেয়।”

এক শিক্ষক থেকে যুদ্ধের নৃশংস সৈনিক

জানা গেছে, অনেনের জন্ম ১৯০৬ সালে জার্মানির টিখেলওয়ার্ফ (Tichelwarf) গ্রামে, ডাচ সীমান্তের কাছে। যুদ্ধের আগে তিনি ছিলেন ফরাসি, ইংরেজি ও জিমন্যাস্টিকস শিক্ষক। তাঁর নাৎসি পার্টির সদস্যপদ ১৯৩৩ সালের আগেই ছিল। তবে তিনি কখনও উচ্চপদে উন্নীত হননি। ১৯৪৩ সালের আগস্টে এক যুদ্ধে তাঁর মৃত্যু হয়।

কীভাবে ধরা পড়ল অনেনের পরিচয়

ম্যাথাউস ঐতিহ্যবাহী আর্কাইভাল অনুসন্ধান, সহকর্মীদের মতামত ও Bellingcat নামের একটি ওপেন-সোর্স সাংবাদিক সংগঠনের সহায়তায় ছবির সময়, স্থান ও ইউনিটের সূত্র মেলান। তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৪১ সালের ২৮ জুলাই, ইউক্রেনের বারদিচিভ (Berdychiv) দুর্গ এলাকায় দুপুরের দিকে এই গণহত্যা হয়।

বছরের পর বছর ধরে অনেকে ভেবেছিলেন ঘটনাটি ভিনিতসায় ঘটেছিল, কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চূড়ান্ত সাফল্য আসে, যখন ম্যাথাউসের প্রাথমিক রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এক পাঠক জানান, তাঁদের স্ত্রীর কাকা, জাকোবুস অনেন, সম্ভবত ছবির ওই ব্যক্তি।

পরিবারের কাছে থাকা অনেনের কিছু পুরনো ছবি এআই প্রযুক্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়। ছবির গুণমান ও বয়সজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে ফলাফল ৯৮ বা ৯৯.৯ শতাংশ নিশ্চিত না হলেও, মিলের হার ছিল অত্যন্ত উচ্চ।

ম্যাথাউসের মতে, “ছবিতে অনেন যেভাবে দাঁড়িয়ে আছে, তাতে মনে হয় সে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া তখন এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে, এতে বিশেষ কৃতিত্বও দেওয়া হত না।”

খুনি শনাক্ত হওয়ার পর ম্যাথাউস এখন ইউক্রেনীয় ইতিহাসবিদ আন্দ্রি মাহালেতস্কি (Andrii Mahaletskyi)-র সঙ্গে কাজ করছেন ওই ছবির শিকার ইহুদি ব্যক্তির পরিচয় খুঁজে বের করতে। তাঁরা এআই ও সোভিয়েত যুগের নথি ব্যবহার করে কাজ শুরু করেছেন।

তবে ইতিহাসবিদের ভাষায়, “এই কাজ অত্যন্ত কঠিন কারণ সোভিয়েত অধিকৃত অঞ্চলে নিহত লক্ষাধিক ইহুদির নামই আজ অজানা।”

ম্যাথাউস বলেন, “এই ছবিটি যেমন অশউইৎস ক্যাম্পের প্রবেশদ্বারের মতোই হলোকাস্টের নির্মম বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। তেমনই প্রযুক্তির সাহায্যে সেই অন্ধকার ইতিহাসের আরও কিছু স্তর আজ উন্মোচিত করছে।”


```