কথা হচ্ছে 'উপমাস কিচেনের' উপমাকে নিয়ে। যিনি নিজেই নিজের উপমা। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ট্রেন্ডিং। ফেসবুক হোক বা ইউটিউব সবেতেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ঘন্টা ধরে হাজার পিস রুটি বানিয়ে রীতিমতন ভাইরাল।

উপমা কিচেনের করন্ণধার
শেষ আপডেট: 26 June 2025 17:15
এক ঘণ্টায় তৈরি হাজারটা রুটি! অবিশ্বাস্য লাগছে? যেখানে ঘড়ির সেকেন্ড ধরে ছুটতে গিয়ে রান্নাঘরে হিমশিম খেতে হয় রাঁধুনিদের, সেখানে এক ঘণ্টায় হাজার খানা রুটি বানিয়ে চমকে দিচ্ছেন সোদপুরের মেয়ে। যার কাছে হার মেনেছে সময়, হার মেনেছে ব্যর্থতাও।
কথা হচ্ছে 'উপমাস কিচেনের' উপমাকে নিয়ে। যিনি নিজেই নিজের উপমা। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ট্রেন্ডিং। ফেসবুক হোক বা ইউটিউব সবেতেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ঘন্টা ধরে হাজার পিস রুটি বানিয়ে রীতিমতন ভাইরাল।
কেন এত আলোচনা তাঁকে নিয়ে? শুধু কি রুটি বানানোর জন্য? নাকি এর পেছনে আছে আরও কোনও অজানা কাহিনি? সেই উত্তরের খোঁজেই দ্য ওয়াল পৌঁছে গিয়েছিল উপমার কিচেনে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গল্পটা যতটা রঙিন, আসলে ঠিক ততটা নয়। আজকের উপমা হয়ে ওঠাটা আসলে একটা ভয়ংকর লড়াই। উপমা শুরুর দিকে আর পাঁচজন সাধারণ মেয়ের মতোই ছিলেন। কিন্তু লকডাউনের পরে পাল্টে যায় উপমার জীবনের গল্প। বন্ধ হয়ে যায় ইনকামের রাস্তা।
এরপরেই শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়ে সঙ্গ দেয় কিছু উপহার। সেসব তিনি পেয়েছিলেন একটি নাম করা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। নিজের খারাপ সময় কাজে লাগিয়ে ফেলেন সেই উপহার। গ্রসারি আইটেম, রান্নার মশলা এই সবই ছিল উপহার।
রুটি দিয়েই শুরু করেন ব্যবসা। কিনে ফেলেন রুটি মেশিন। যে মেশিনে ঘণ্টায় হাজার পিস রুটি খুব সহজে তৈরি হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুটি মেশিন আর উপমার ভাগ্যের চাকা দুটোই পাল্লা দিয়ে গড়াতে থাকে।
অনেকের কটাক্ষের শিকার হতে হয়। রুটি বিক্রি কোনও পেশা হতে পারে নাকি? এমন প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। তবে কোনও প্রশ্ন, কোনও অপমান থামাতে পারেনি রুটি দিদিকে। নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। শুধু নিজের ভাগ্যকেই দাঁড় করাননি, আরও অনেক মানুষের পেট চালানোর দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে। তাঁর রুটির মেশিনে কাজ করে মাসে ভাল মতো আয় করছেন বহু মহিলা থেকে পুরুষ।
উপমা জানিয়েছেন তিনি গোটা রাজ্যে রুটির মেশিন সাপ্লাই করে থাকেন। শুধু সাপ্লাই নয় একইসঙ্গে হাতে ধরে শিখিয়েও দেওয়া হয় সেই মেশিন চালানো। উপমার উপমা এখানেই শেষ নয়। এই সব কিছুর পাশাপাশি সমান তালে চালাচ্ছেন ক্যাটারিং বিজনেস। সেখানেও সফল।
উপমা জানিয়েছেন, মানুষ হয়ে যখন জন্ম নিয়েছেন তখন ছাপ তো রেখে যেতেই হবে। প্রয়োজনে তিনি ভোটেও দাঁড়াতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর পুরো কৃতিত্ব আর অর্জনের স্বীকৃতি তিনি স্বামীকে দিয়েছেন।
পরিশেষে বলতে হয় প্রতিটি ঘরে ঘরে এমন উপমা তৈরি হওয়া উচিত। যাদের উপমা মূলত তারা নিজেই।