তাঁর মতে, ইন্দিরা গান্ধীর সময় যে জরুরি অবস্থা হয়েছিল যা মানুষ বুঝতে পেরেছিল। সেই সময় শুধু জরুরি অবস্থা হয়নি একই সঙ্গে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 26 June 2025 21:26
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন। ভারতের ইতিহাসে মনে রাখার মতন একটি দিন। এই দিনটিতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) গোটা দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা (Emergency) জারি করেছিলেন। বুধবার সেই জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এতগুলি বছর পরেও এই বিষয়টি নিয়ে এখনও চর্চা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও বুঝে নিতে হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্র সুরক্ষিত কিনা। এই বিষয়ে জানতে দ্য ওয়ালের (The Wall.in) তরফে যোগাযোগ করা হয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্রের (Subhamoy Maitra) সঙ্গে। তিনি আমাদের বোঝালেন একাল সেকালের জরুরি অবস্থার পার্থক্য।
তাঁর মতে, ইন্দিরা গান্ধীর সময় যে জরুরি অবস্থা হয়েছিল যা মানুষ বুঝতে পেরেছিল। সেই সময় শুধু জরুরি অবস্থা হয়নি একই সঙ্গে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ধর্ম নিরপেক্ষতা, ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রীয়ত্বকরণ এই বিষয়গুলি সেই সময় যুক্ত হয়। ইন্দিরা গান্ধীর সময় যে জরুরি অবস্থা হয়েছিল তার নেতিবাচক এবং ইতিবাচক দুটো দিকই রয়েছে।
আজও অঘোষিত জরুরি অবস্থা দেখা যায় কিনা বা যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন -
এই ইস্যুতে মূলত বিজেপির (BJP) দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। বিজেপির আমলে বহু সাংবাদিকের কন্ঠ রোধ করা হয়েছে এবং অনেক সাংবাদিক মারা গেছেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে ভারতের গণতন্ত্র নিম্নমুখী। তবে জনগণকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও জনগণ নিজেদের রায় দিতে পারছে। ইন্দিরা গান্ধী হোক বা নরেন্দ্র মোদী, উভয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত হোক বা অঘোষিত জরুরি অবস্থা দু'ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ নিজেদের মতামত প্রকাশ্যে আনতে পেরেছে।
এদিকে এই দিনটিকে মাথায় রেখেই ২৬ জুন সংবিধান হত্যা দিবসের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি শুরু থেকেই এই দিনটিকে ভারতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময় বলে দাবি করেছেন।
এই গোটা বিষয়টি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, "আজ থেকে ৫০ বছর আগে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগের সূচনা হয়েছিল। ভারতবাসী এই দিনটিকে সংবিধান হত্যা দিবস হিসেবে পালন করেন। এই দিনে ভারতীয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত মূল আদর্শগুলিকে মুছে ফেলা হয়। মৌলিক অধিকার রদ করা হয়েছিল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, ছাত্র এবং সাধারণ মানুষকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। সে সময়ে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস সরকার গণতন্ত্রকে বন্দি করেছিল।"
তবে মোদীর পাল্টা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি 'সংবিধান হত্যা' এই শব্দবন্ধ মানতে নারাজ। সাফ জানিয়েছেন বিজেপির কাছ থেকে সংবিধান শিখবেন না। বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করেই বলেন, "আমরা সবাই জানি জরুরি অবস্থার কথা। সেটা দেশের মানুষ মেনে নেননি। জরুরি অবস্থা দিবস পালন করতে পারত। গণতন্ত্র হত্যা দিবস হত্যা কেন? গণতন্ত্র কি আজকের ভারতবর্ষে আছে? প্রতিদিন গণতন্ত্রের হত্যা করা হচ্ছে। নকল একটা ধর্ম চাপিয়ে দিয়ে আপনারা নিজেদের অ্যাজেন্ডা তৈরি করছেন। বাংলার বিরুদ্ধে ভুলভাল কথা বলছেন। পার্লামেন্ট নতুন করে তৈরি করেছেন। তাহলে তো প্রতিদিন গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে হবে।”
তবে পরিশেষে রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্রের কথা দিয়েই শেষ করব, তিনি জানিয়েছেন যে কোনও রাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা একটি কালো অধ্যায় এবং এটি একটি নেতিবাচক দিক। তাঁর মতে এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।