উগান্ডায় জন্ম, সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে পাড়ি - এই শহরেই বড় হয়ে ওঠা। প্রচার পর্বে নিজেকে ট্রাম্পের 'সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন' বলে অভিহিত করেছিলেন মামদানি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জোহরান মামদানি
শেষ আপডেট: 5 November 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউইয়র্ক শহরের মেয়র (New York Mayor) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম (First Muslim Mayor NYC) এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র তিনিই। আর ঐতিহাসিক এই জয়লাভের পর বিজয় ভাষণে মামদানি প্রত্যাশিতভাবেই সরাসরি নিশানা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump)। তবে বেশি বড় নয়, মাত্র চার শব্দেই নিজের বার্তা দিয়েছেন জোহরান।
উগান্ডায় জন্ম, সাত বছর বয়সে নিউইয়র্কে পাড়ি - এই শহরেই বড় হয়ে ওঠা। প্রচার পর্বে নিজেকে ট্রাম্পের 'সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন' বলে অভিহিত করেছিলেন মামদানি। আর নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর তাঁর বার্তা - নিউইয়র্কই সেই শহর যে ট্রাম্পকে তৈরি করেছে, আর প্রয়োজনে তাকেই হারানোর শক্তিও দেখিয়েছে এই শহরের মানুষ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে মামদানি বলেন - জানি আপনি আমাকে দেখছেন, আমার কথা শুনছেন। তাই বলে রাখছি, ভলিউম বাড়িয়ে শুনুন (Turn The Volume Up)!
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, 'কমিউনিস্ট' প্রার্থী জিতলে শহরের সরকারি তহবিল বন্ধ করে দেবেন। এমনকী প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট নেতা (Democratic Leader) অ্যান্ড্রু কুয়োমোকেও সমর্থন করেছিলেন তিনি, মামদানিকে রুখতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহরের মানুষ অন্য পথ বেছে নিলেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে থাকা নিউইয়র্ক এই ভোটে ফের ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে নিজেদের বার্তা স্পষ্ট করে দিল।
নতুন বছরের প্রথম দিনে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনিই হবেন গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে নিউইয়র্কের সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়র। তাঁর এই উত্থান মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের কাছে এক বড় বার্তা যে প্রগতিশীল ও বামঘেঁষা প্রার্থীরাও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন।
মামদানির এই উত্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু করেছে রিপাবলিকান শিবির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ একাধিক রিপাবলিকান নেতা তাঁকে 'চরমপন্থী ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির মুখ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, মামদানির এই জয় মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আরও বামপন্থী পথে নিয়ে যেতে পারে।
জোহরান মামদানি তাঁর জয়ের পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, সিটি হল স্টেশনে একটি মেট্রো ট্রেনের দরজা খুলছে, আর তার দেওয়ালে ভেসে উঠছে লেখা- “Zohran For New York City”। এই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়, যা তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।