ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান হলেন দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের ছেলে।

মা মীরা নায়ার, জোহরান মামদানি ও স্ত্রী রামা দুওয়াজি।
শেষ আপডেট: 26 June 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট ও নিউইয়র্কের স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ৩৩ বছরের জোহরান মামদানি শহরের হবু মেয়র হওয়ার পথে আর কয়েক ইঞ্চি দূরে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান হলেন দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের ছেলে। শহরের প্রথম বামপন্থী মুসলিম মেয়র পদে বসতে চলায় মামদানির ব্যক্তি জীবনও এখন সংবাদের শিরোনামে। বিশেষত তাঁর শিকড় ভারতের সঙ্গে জুড়ে থাকায়। অন্যদিকে, মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজি অনন্য সাধারণ সিরীয় সুন্দরী হওয়ায় আপাতত তিনিও স্বামীর মতোই গর্বিত ঘরণী।
প্রথম স্বামী তথা মার্কিন ফটোগ্রাফার মিচ এপস্টেইনের সঙ্গে ১৯৮৭ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর মীরা নায়ারের সঙ্গে উগান্ডায় তাঁর বর্তমান স্বামী মাহমুদ মামদানির পরিচয় হয়। মাহমুদ মামদানি হলেন ইন্দো-উগান্ডান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। উগান্ডায় মীরা তখন ‘মিসিসিপি মশালা’ ছবির জন্য গবেষণার কাজে গিয়েছিলেন। পরিচয় থেকে প্রেম, এবং পরে ১৯৯১ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।
গুজরাতি বংশোদ্ভূত মাহমুদ ও মীরা পরে পাকাপাকিভাবে আমেরিকায় চলে আসেন। বর্তমানে মাহমুদ কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আফ্রিকান স্টাডিজ পড়ান। মাহমুদের জন্ম ১৯৪৬ সালে তৎকালীন বোম্বেতে। গুজরাতি পরিবার পরে উগান্ডার কাম্পালায় চলে আসেন, সেখানেই বড় হয়েছেন মাহমুদ।
মীরা নায়ারের জন্ম ১৯৫৭ সালে ওড়িশার রৌরকেল্লায়। বড় হয়েছেন ভুবনেশ্বর শহরে। লোরেটো কনভেন্ট, মিরান্দা হাউস এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন মীরা। সেখানেই তাঁর সিনেমার প্রতি প্রেম জন্মায়। ছবি পরিচালক হওয়ার আগে মীরার প্রথম প্রেম ছিল নাটক। বাদল সরকারের মতো নাট্যকারের নাটকেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।
চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম হাত পড়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে। একের পর এক তথ্যচিত্র বিশ্বনন্দিত হয়। ১৯৮৩ সালে তিনি তাঁর বন্ধু সুনি তারাপুরেওয়ালার সঙ্গে জোট বেঁধে লেখেন ‘সালাম বম্বে’। বক্স অফিসে সুপার ফ্লপ হলেও ২৩টি আন্তর্জাতিক সম্মান পায় ছবিটি। এমনকী সেরা বিদেশি ভাষার ছবি বিভাগে অস্কারেও মনোনীত হয়েছিল।
এরপর এক এক করে মিসিসিপি মশালা, মনসুন ওয়েডিং, হিস্টেরিক্যাল ব্লাইন্ডনেস, দ্য নেমসেক, কামসূত্র: আ টেল অফ লাভ এছাড়াও বহু ছায়াছবি ও অসংথ্য স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করেছেন মীরা নায়ার। মীরার ছেলে জোহরানের জন্ম হয় উগান্ডার কাম্পালাতেই। ১৯৯১ সালে। ২০২০ সালে জোহরান নিউইয়র্কের বিধানসভা সদস্য নির্বাচিত হন। জোহরান মামদানি ইহুদি বিরোধী ও প্যালেস্তাইনপন্থী শিক্ষা পেয়েছেন মা মীরার কাছ থেকেই।
২০১৩ সালে মীরা নায়ারকে ইজরায়েলের হাইফা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেস্ট অফ অনার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্যালেস্তাইন নিয়ে ইজরায়েলের নীতির বিরোধিতা করে তিনি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ইজরায়েল দখলমুক্ত করলে তবেই আমি সেদেশে পা রাখব। ২০১২ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মান দেন।
রামা দুওয়াজি হলেন সিরীয়-মার্কিন শিল্পী। জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রচারের সময় থেকে প্রচারের আলোয় আসেন তিনি। প্রাক্তন ব়্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া মামদানির স্ত্রী রামারও নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব রয়েছে। দুওয়াজির জন্ম সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে। শুরুতে ইলাস্ট্রেটর ও অ্যানিমেটর হিসেবে নিউইয়র্কে কাজ শুরু করেন। বহু নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্টের কাজ করেছেন রামা।
দুজনের পরিচয় হয় একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। এই বছরেরই গোড়ার দিকে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিখ্যাত শাশুড়ি মীরা নায়ার পুত্রবধূর উদ্দেশে লিখেছেন, ডার্লিং ডটার ইন ল- নতুন দিনে আমাদের শহরেও শিল্প ফুটে উঠবে। সঙ্গে ছিল হার্টের একটি ইমোজি।