কট্টর মোদী বিরোধিতা, হিন্দুধর্মের প্রতি কড়া সমালোচক সর্বোপরি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর নিন্দা করা মামদানিকে নিয়ে এদেশেও কাঠচেরাই কলে ফেলা হচ্ছে।

এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কোনওদিনই একমঞ্চে বসতে পারব না।
শেষ আপডেট: 26 June 2025 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির ভাবী মেয়র তথা আপাদমস্তক বামপন্থী সরব নেতা জোহরান মামদানিকে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ও ভারতেও চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রধানত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধী বলেই নয়, তিনিই নিউইয়র্কের প্রথম বাম ও মুসলিম ডেমোক্র্যাট নেতা যিনি এই পদে বসতে চলেছেন। অন্যদিকে, কট্টর মোদী বিরোধিতা, হিন্দুধর্মের প্রতি কড়া সমালোচক সর্বোপরি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর নিন্দা করা মামদানিকে নিয়ে এদেশেও কাঠচেরাই কলে ফেলা হচ্ছে।
সামান্য আর কিছু প্রক্রিয়ার পর মামদানি যদি নির্বাচিত হন, তাহলে তিনিই হবেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র। প্রগতিশীল কথাবার্তার জন্য প্রথম থেকেই আলোচনার শীর্ষে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেখানেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা তাঁদের অস্তিত্ব জাহির করতে চলেছে, সেখানেই তাঁর বক্তব্য অনেক সময়ই সীমা পার করে যায় বলে মামদানির সমালোচকরা বলে থাকেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কোনওদিনই একমঞ্চে বসতে পারব না। কারণ হিসেবে মোদীকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেননি, বলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রধানমন্ত্রী মোদী একই ছাঁচে গড়া। দুজনেই সমান। মোদী হলেন সেই ব্যক্তি যাঁকে আমরা একই চোখে দেখি যেমন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে মনে করি। এঁরা হলেন যুদ্ধাপরাধী। উল্লেখ্য, গত মে মাসে এক অনুষ্ঠানে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, কোনও জনসভায় কি তিনি মোদীর সঙ্গে যোগ দেবেন? তার জবাবে এই কথা বলেন মামদানি।
মোদী সম্পর্কে মামদানি তারও আগে বলেছিলেন, তিনি নিজেকে গুজরাতি মুসলিম বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কারণ মোদী এত মানুষকে খুন করেছেন যে, মানুষের মনে বিশ্বাসই উঠে গিয়েছিল আমরাও আর বেঁচে থাকব। মামদানির এইসব মন্তব্য নিয়ে এদেশে দলমতনির্বিশেষে সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। বিজেপির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক মনু সিংভিও মামদানির কঠোর নিন্দা করেন বৃহস্পতিবার। অভিষেক সিংভি এদিন ভোরে এক এক্সবার্তায় লিখেছেন, জোহরান মামদানি যখন মুখ খোলেন, পাকিস্তানের জনসংযোগ বিভাগ সেদিন বিশ্রামে থাকে। তাঁর মতো লোকের সঙ্গে গাঢ় বন্ধুত্ব রাখা শত্রুদের ভারত চায় না। যিনি নিউইয়র্কে বসে থেকে গালগল্প চিৎকার করে প্রচার করতে থাকেন।
When Zohran Mamdani opens his mouth, Pakistan’s PR team takes the day off. India doesn’t need enemies with ‘allies’ like him shouting fiction from New York.
— Abhishek Singhvi (@DrAMSinghvi) June 25, 2025
মামদানির দাবি ছিল যে, গুজরাতি মুসলিমদের মোদী মুছে দিয়েছেন। যা নিয়ে এদেশের রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। তাঁর এই প্ররোচনামূলক ও বাস্তবিক ভিত্তিহীন দাবি নিয়ে বিজেপির লোকজন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল। ২০১১ সালের গুজরাতের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ হল মুসলিম। প্রায় ৬০ লক্ষ মুসলিম বসবাস করেন। যা জন্মহারের কোনও পরিবর্তন সূচিত করে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ওমর গাজির মতে, মামদানির দাবি ডাহা মিথ্যা ও প্ররোচনামূলকই শুধু নয়, গুজরাতের ৬০ লক্ষ মুসলিমের প্রতিও অবমাননাকর। এতেই বোঝা যায়, মামদানি তাঁর আদর্শগত লক্ষ্যপূরণে আপাদমস্তক মিথ্যা বলেন। জোহরান মামদানিকে তিনি ইসলামবাদ ও মার্কসবাদের বিষাক্ত মিশ্রণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। একবার উনিই বলেছিলেন, তাঁর বাবা একজন গুজরাতি মুসলিম। প্রধানমন্ত্রী মোদী নাকি গুজরাতে নরমেধ চালিয়েছিলেন। যাতে গুজরাতে আর কোনও মুসলিম না থাকতে পারে।
Zohran Mamdani is the product of the same poisonous cocktail between Islamism and Marxism that has plagued the intellectual discourse for several decades.
In a press conference, he was asked about his views on PM Modi's rally in the United States, and he said that his father…— Omer Ghazi (@OmerGhazi2) June 25, 2025
ওমর গাজি আরও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, জোহরান মামদানি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগানের বিরোধিতা করতে অস্বীকার করেছিলেন। গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা হল ইহুদি বিরোধী একটি স্লোগান। যারা ইজরায়েলের প্যালেস্তিনীয় দখলের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধকে সমর্থন করে। আরবি শব্দ ইস্তিফাদা-র অর্থই হল বিশ্বজুড়ে জেগে ওঠো বা ঝাঁকুনি দাও। গাজির দাবি, অর্থাৎ মামদানি কোনওদিনই ধর্মযুদ্ধের নামে সন্ত্রাসবাদীদের যুদ্ধ-গর্জনের বিপক্ষে ছিলেন না। এই জোহরান মামদানিই একবার নিউইয়র্কের মঞ্চে উমর খালিদের জেলে লেখা অংশ পড়ে শুনিয়েছিলেন। যে উমর খালিদ হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানিকে তাঁর স্বপ্নের নায়ক বলে ঘোষণা করেছিলেন। গাজি আরও বলেন, মামদানির জয় বুঝিয়ে দিচ্ছে, আমেরিকার রাজনীতিতে কট্টর বামেদের মুঠি শক্ত হচ্ছে।