মানবাধিকার ও শিশুদের উপর নির্যাতন নিয়ে পাকিস্তানকে বৃহস্পতিবার তুলোধনা করে ভারত।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বুলি ঝাড়ার কাজে অপব্যবহার করছে পাকিস্তান।
শেষ আপডেট: 26 June 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) হাটের মাঝে পাকিস্তানের দুকান কেটে নিল ভারত। মানবাধিকার ও শিশুদের উপর নির্যাতন নিয়ে পাকিস্তানকে বৃহস্পতিবার তুলোধনা করে ভারত। নিরাপত্তা পরিষদের সকলকে জানিয়ে দেয় ভারত যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বুলি ঝাড়ার কাজে অপব্যবহার করছে পাকিস্তান। অথচ, নিজেদের দেশে মানবাধিকার ও শিশু অপরাধ কোন তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে, তা নিয়ে চোখে পট্টি বেঁধে বসে থাকে।
শিশু নির্যাতন ও সশস্ত্র সংঘাত (CAAC) নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক মুক্ত বিতর্কসভায় রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত পর্বতানেনি হরিশ পাকিস্তানের কঠোর নিন্দায় বলেন, সিএএসি কর্মসূচির সবথেকে বড় বিধিভঙ্গকারী দেশ হল ওরা। পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রক্রিয়া ও ভারতকে খাটো করতে ইসলামাবাদের লাগাতার চেষ্টাকে অনভিপ্রেত বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
হরিশ ভরা সভায় পাকিস্তানের দূত যা বলে গেলেন, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিশু নির্যাতন নিয়ে ওদের রেকর্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের দলিলে বর্ণিত তথ্যের কোনও তালমিল নেই। ওরা সবসময় চায়, দৃষ্টি ঘোরাতে। একইভাবে সীমান্ত ডিঙিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া নিয়েও ওদের দৃষ্টিভঙ্গি হল সবসময় নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গি কার্যকলাপে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। কিন্তু ওরা কখনও তা মানতে চায় না। ভারতের শিশু ও সাধারণ মানুষকে ওদের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা নিশানা করে। তিনি গত ২২ এপ্রিলে পহলগামে জঙ্গিহানার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন এবং বলে যারা করেছে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে পাকিস্তান ও সাহায্য করেছে পাকবাহিনী। অথচ, বিভিন্ন আলোচনার সময় ওরাই ওদের জঘন্য কার্যকলাপ ধামাচাপা দিতে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার খেলা খেলেছে।
উল্লেখ্য, এদিনই পাকিস্তান ও চিনের নাম না করে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের চরম অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। চিনের কুইংদাও-য়ে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে রাজনাথ জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদকে ভারত কোনওদিন সমর্থন করেনি, করবে না। কোনওভাবেই ভারত জঙ্গিপনাকে বরদাস্ত করবে না। শুধু তাই নয়, তিনি SCO-কে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে একত্রিত হই।
এই সম্মেলনে চিন ও পাকিস্তান যখন সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে নরম মনোভাব দেখিয়েছে, তখন রাজনাথও যৌথ দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। কারণ এই যৌথ দলিলে সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক সুরক্ষা সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। সে কারণে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেই যৌথ দলিলে সই করেননি। ভারতের অসম্মতির কারণে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (Shanghai Cooperation Organisation) অবশ্য শেষপর্যন্ত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়।