রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে কোনও রকম ‘দুর্বল’ বা আপসের শান্তিচুক্তিতে যাবে না কিভ। যুদ্ধের দীর্ঘ ক্লান্তি থাকলেও আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না— এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

পুতিন ও জেলেনস্কি
শেষ আপডেট: 1 January 2026 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) থামার সম্ভাবনা যে এখনও ক্ষীণ, নতুন বছরের শুরুতেই তার ইঙ্গিত দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Vladimir Zelenskyy)। বর্ষবরণের রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে কোনও রকম ‘দুর্বল’ বা আপসের শান্তিচুক্তিতে যাবে না কিভ। যুদ্ধের দীর্ঘ ক্লান্তি থাকলেও আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না— এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
বুধবার মধ্যরাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War) সময় নাৎসি জার্মানি কিছু দিনের জন্য ইউক্রেনের কয়েকটি শহর দখল করেছিল। কিন্তু বর্তমান রুশ আগ্রাসন তার থেকেও দীর্ঘস্থায়ী। তাঁর কথায়, “ইউক্রেন কি শান্তি চায়? অবশ্যই। কিন্তু যে কোনও মূল্যে? না।” প্রশ্নোত্তরের ভঙ্গিতে তিনি বুঝিয়ে দেন, শর্তহীন শান্তি ইউক্রেনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এর পরেই আরও কড়া সুরে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা কি ক্লান্ত? হ্যাঁ, খুবই। কিন্তু তার মানে কি আমরা আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত? কেউ যদি সেটা ভাবে, তবে সে মারাত্মক ভুল করছে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিছু দিন আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ চলবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে আমেরিকার ফ্লরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন জেলেনস্কি। বৈঠক শেষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধ সংক্রান্ত দু’টি বড় জটের মধ্যে একটি নাকি মিটেছে। তবে ট্রাম্প ছিলেন অনেক বেশি সতর্ক। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ শেষ করার সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলেও এখনই শান্তিচুক্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, শীঘ্রই সংঘাত থামতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া–ইউক্রেন বিরোধের মূল কেন্দ্রে রয়েছে দু’টি বিষয়—ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ডনবাস অঞ্চলের দখল। ডনবাস ইউক্রেনের অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে প্রভাব বাড়াতে চাইছে মস্কো। যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত হিসেবে রাশিয়া ওই অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে, যা নিয়ে এখনও কোনও সমাধান হয়নি।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মস্কোর দাবি, ইউক্রেন পুতিনের বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেছে। সেই ‘হামলার চেষ্টা’র ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেনের পাল্টা অভিযোগ, নিজেদের সরকারি ভবনে হামলার অজুহাত তৈরি করতেই এই ধরনের দাবি করছে মস্কো। জেলেনস্কি শিবিরের মতে, ভবিষ্যৎ আক্রমণের জন্য আগাম পটভূমি তৈরি করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল— এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে কিভ ও মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান।