ইউক্রেন এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। কিয়েভের বক্তব্য, গোটা বিষয়টি ‘মনগড়া’ এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এই গল্প ফাঁদা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার প্রকাশিত ভিডিয়োকে শান্তি আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 January 2026 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) বাসভবনকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন ড্রোন হামলা (Ukraine Drone Attack) চালিয়েছে - এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে মস্কো। যদিও হামলার সময় পুতিন সেখানে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেয়নি রুশ প্রশাসন।
বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি ভিডিও (Video) প্রকাশ করে, যেখানে তুষারে ঢাকা জঙ্গলে ভেঙে পড়া একটি ড্রোন দেখা যায়। মন্ত্রকের দাবি, এটি ছিল একটি 'সুনির্দিষ্ট, পরিকল্পিত এবং ধাপে ধাপে চালানো আক্রমণ'। ভিডিও-তে দেখানো ড্রোনটির বিস্ফোরক অংশে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাত্মক উপাদান ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
রাশিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নভগোরোদ অঞ্চলের ভালদাই জেলায় অবস্থিত একটি সুরক্ষিত স্থাপনাই ছিল এই হামলার লক্ষ্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ এই ‘ড্রোন হামলা’ (Drone Attack) শুরু হয়। যদিও পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে তারা।
এই ঘটনার সময়কাল ঘিরেও তৈরি হয়েছে জল্পনা। ঠিক সেই সময়ই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফ্লোরিডায় বৈঠক করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
তবে ইউক্রেন এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। কিয়েভের বক্তব্য, গোটা বিষয়টি ‘মনগড়া’ এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এই গল্প ফাঁদা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার প্রকাশিত ভিডিয়োকে শান্তি আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে।
এদিকে মস্কো এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ ও পুতিনের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ বলে চিহ্নিত করেছে। রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার জেরে ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনায় তারা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
তবে রাশিয়ার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমেরিকাভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (ISW)। সংস্থাটির বক্তব্য, ইউক্রেনের গভীর আঘাতের ক্ষেত্রে সাধারণত যে ধরনের ভিডিও বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে আসে, এই ঘটনায় তেমন কিছু দেখা যায়নি।
ISW-এর দাবি, ক্রেমলিন এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে ২০২১–২২ সালের পুরনো শর্তে ইউক্রেন ও পশ্চিমি দেশগুলিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কৌশল নিচ্ছে।
ড্রোন হামলার দাবি, পাল্টা অস্বীকার ও আন্তর্জাতিক সন্দেহ—সব মিলিয়ে নভগোরোদ পর্ব নতুন করে উত্তাপ বাড়াল ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কূটনৈতিক ময়দানে।